Sunday , 27 September 2020
Home » জাতীয় » এক ‘মাস্টারমাইন্ড’ কাজ
এক ‘মাস্টারমাইন্ড’ কাজ

এক ‘মাস্টারমাইন্ড’ কাজ

রাজধানীর গুলশানে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহকারী, নির্দেশদাতা ও এর পেছনের মাস্টারমাইন্ডদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচ্ছে পুুলিশের তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারী সূত্রগুলো জানিয়েছে, গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা হয় গত এপ্রিলে। এর পর একাধিকবার ঘটনাস্থল রেকি করে জঙ্গিরা। গুলশানের ওই হত্যা মিশনে ৫ জঙ্গিই ছিল বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশের তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। পরবর্তীকালে কমান্ডো অভিযানে ওই ৫ জন মারা যান। তবে ঘটনার পরিকল্পনা থেকে নানা কাজে সহায়ক শক্তি হিসেবে একাধিক মাথা কাজ করেছে। তাদের নজরদারির আওতায় এনেছেন তদন্তকারীরা। ইতোমধ্যে ঘটনার অন্যতম এক মাস্টারমাইন্ডকে তাদের কব্জায় নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ব্যাপারে তদন্তকারী সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো কিছু বলা হচ্ছে না। ওদিকে গত মঙ্গলবার র‌্যাব সারা দেশে নিখোঁজ ২৬২ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করে। যে তালিকা নিয়ে তোলপাড় চলছে। সংস্থাটি ওই তালিকা ধরে তদন্ত ও অনুসন্ধান করে দেখেছে তালিকার অন্তত ২৭ জন জঙ্গি সম্পৃক্ত। র‌্যাবের মতো পুলিশও একটি তালিকা প্রকাশ করতে যাচ্ছে। তবে তারা মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি। এই সংখ্যা আনুমানিক ৩৫ হতে পারে। নামধামের সঙ্গে পুলিশ তাদের প্রত্যেকের ছবিও প্রকাশ করবে। তাদের সম্পর্কে জনগণের কাছে তথ্যও চাইবে পুলিশ। তাদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণার কথাও চিন্তা করছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে জানান, যাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে, তাদের বেশিরভাগই বিভিন্ন জঙ্গি হামলা মামলার আসামি। গুলশানের জঙ্গি হামলায় অংশ নেওয়া নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিবরাস ইসলামসহ ৫ জঙ্গির অস্ত্র হাতে হাস্যোজ্জ্বল ছবি আসে গণমাধ্যমে। ওই ছবি জঙ্গি হামলার মাত্র ৩ দিন আগে তোলা হয়। রাজধানী বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি গিয়াসউদ্দিন আহসানের মালিকানাধীন জঙ্গিদের ভাড়া করা ফ্যাটে ওই ছবি তোলা হয়। মাত্র একটি অস্ত্র ৫ জনের হাতে দিয়ে আলাদাভাবে ওই ছবি তোলা হয়। ওই ছবি যে তুলেছিল তার বিস্তারিত পরিচয়ও পেয়েছে পুলিশ। ওই ফ্যাট থেকেই ৫ জঙ্গি সরাসরি হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর হামলায় অংশ নেয়। ৫ জঙ্গির হাসিমাখা ছবি রেখে দেওয়া হয় আরেক জঙ্গি নেতার কাছে। ৫ জঙ্গি যৌথ কমান্ডো অভিযানে নিহত হওয়ার পর রিটা কাৎজের সাইট ইন্টেলিজেন্সের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় সেই ছবি। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের অক্টোবর থেকে জেএমবি যে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, এটি ‘নিও জেএমবি’ করছে। এরা জেএমবির মূলধারা থেকে একটু আলাদা। সাম্প্রতিক সময়ে তারা যে কোনো হামলার আগে হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গিদের অস্ত্র হাতে হাস্যোজ্জ্বল ছবি তুলে রাখছে। সূত্র জানায়, গুলশানের জঙ্গি হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গি দল এবং কিশোরগঞ্জের শোলকিয়ায় জঙ্গি হামলায় অংশ নেওয়া দুই জঙ্গি গ্রুপকে একই চক্র পরিচালনা করে। একই সঙ্গে দুই গ্রুপের প্রশিক্ষণ হয় গাইবান্ধা জেলার চরে। শীতকালে তাদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে জেএমবি সেখান থেকে জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুটিয়ে ফেলে। তদন্তকারী সূত্রগুলো বলছে, গুলশান হামলায় কেউ অস্ত্র সরবরাহ করেছে, কেউ অর্থায়ন করেছে, কেউবা প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা করেছে। তাদের প্রত্যেকের বৃত্তান্ত চলে এসেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের কাছে। তবে তদন্তের স্বার্থেই এ ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ সংস্থাটির কর্মকর্তারা। তদন্তে এমন কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যে তথ্য পেয়ে তদন্তকারীরা অনেকটাই বিস্মিত। তদন্তকারীদের তথ্যানুযায়ী গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ছক কষা হয়েছিল এপ্রিলে। তবে ঘটনাস্থল কয়েকদফা রেকি করে জঙ্গিরা। হত্যা মিশন চালিয়ে কীভাবে পালিয়ে আসতে হবে সে পরিকল্পনাও এঁটে রেখেছিল। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যে যে ঘটনাস্থলে পুলিশ হাজির হয়ে তাদের প্রতিহত করবে এটা জঙ্গিদের ভাবনায় ছিল না। তারা মনে করেছিল, অতীতের বিভিন্ন জঙ্গি হামলার মতোই তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হবে। ঘটনার পর পরই পুলিশের এসআই ফারুকের নেতৃত্বে একটি টহল টিম জঙ্গিদের প্রতিরোধের চেষ্টা করে। পুলিশের প্রতিরোধের কারণেই শেষ পর্যন্ত জঙ্গি দলটি আর বেরোতে পারেনি। জঙ্গিদের পরিকল্পনা ছিল বিদেশিদের ওপর হামলা করেই দ্রুত সটকে পড়া। ওদিকে গুলশান হামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ রুমা নামে যে নারীকে আটক করেছে, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা পায়নি। ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত সিসি ক্যামেরার ফুটেজে আরও যে ৩ জনের সন্দেহজনক গতিবিধির চিত্র ধরা পড়েছে, তারাও ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে বলছে তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। গুলশান হামলার তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই এ সম্পর্কে কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না।

About Expert

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!