Saturday , 31 October 2020
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » জাতীয় » ব্যবসায়ী হাসান খালেদের দাফন সম্পন্ন মৃত্যু রহস্যে ঢাকা পুলিশ অন্ধকারে
ব্যবসায়ী হাসান খালেদের দাফন সম্পন্ন মৃত্যু রহস্যে ঢাকা পুলিশ অন্ধকারে

ব্যবসায়ী হাসান খালেদের দাফন সম্পন্ন মৃত্যু রহস্যে ঢাকা পুলিশ অন্ধকারে

ডাচ-বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. হাসান খালেদ বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন ওষুধ কেনার জন্য। ফিরলেন লাশ হয়ে। বাসার পাশ থেকে ওষুধ কিনতে গিয়ে তিনি কী করে বুড়িগঙ্গায় গিয়ে লাশ হলেন এর কোনো জবাব খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। জিডি করার পর থেকে তদন্ত শুরু হলেও এখনো কোনো ক্লু পায়নি পুলিশ। তাদের ধারণা, ব্যবসায়িক বা পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্বের জেরে তাঁকে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে। তবে তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকায় মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট ও ভিসেরা প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। হাসান খালেদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি শনিবার সকালে প্রেসক্রিপশন নিয়ে ব্লাড প্রেশারের ওষুধ কিনতে বের হন। বাসায় ফিরে তাঁর অফিসে যাওয়ার কথা ছিল। ফিরতে দেরি দেখে শনিবার রাতেই ধানমণ্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর শ্যালক শরিফুল আলম। মঙ্গলবার দুপুরে কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ থানার মাঝামাঝি খোলামোড়া ঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় সাধারণ মানুষ। পরে পুলিশ দুপুর ১২টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে। লাশের সঙ্গে থাকা ভিজিটিং কার্ড থেকে ফোন নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ। তাঁর পকেটে গাড়ির চাবি ও অফিসের চাবি পাওয়া গেছে। কিন্তু দুটি মোবাইল ফোনসেট পাওয়া যায়নি। হাসান খালেদের ছোট ভাই মুরাদ হাসানও লাশ শনাক্ত করেন। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয় মিটফোর্ড হাসপাতালে। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল দুপুরে দাফনের জন্য লাশ হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন গতকাল রাতে অবাক নিউজ 24 কে বলেন, ‘হাসান খালেদের লাশ পোস্টমর্টেম করার জন্য দুই সদস্যের একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তারা পোস্টমর্টেম করে রিপোর্ট তৈরি করছে। শিগগিরই পুলিশের কাছে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাঠানো হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে সেটা পোস্টমর্টেম রিপোর্টে উল্লেখ করা হচ্ছে। এর বেশি কিছু এখন বলা যাবে না।’ পুলিশ জানায়, তাদের ধারণা, নিখোঁজ হওয়ার দিনই হাসান খালেদের মৃত্যু হয়। লাশের শরীরের বিভিন্ন অংশে পচন ধরেছে। তাঁর শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন মেলেনি। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা ড. এলিজা আলী ও বিপ্লব পাল বলেন, লাশ থেকে ভিসেরা নমুনা মহাখালী এবং হাগসহ কিছু নমুনা মিটফোর্ডেই রাখা হয়েছে। এসব রিপোর্ট পেতে কিছুটা সময় লাগবে। ধানমণ্ডি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নূরে আজম মিয়া অবাক নিউজ 24 কে  বলেন, ‘থানায় জিডি করার পর থেকেই আমরা তদন্ত শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জিডিটি এখনো হত্যা মামলায় রূপ নেয়নি। তাঁর (হাসান খালেদ) পরিবারের সদস্যরা লাশ দাফন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় এখনো (গতকাল সন্ধ্যা ৭টা) পর্যন্ত অভিযোগ না নিয়ে আসায় হত্যা মামলা করা হয়নি। তারা অভিযোগ করলে হত্যা মামলা নেওয়া হবে।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, হাসান খালেদের মৃত্যু কী কারণে হয়েছে সেটি জানার জন্য ময়নাতদন্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। পুলিশ সূত্র জানায়, দুটি মোবাইল ফোনসেট ব্যবহার করতেন হাসান খালেদ। তাঁর মোবাইল ফোন দুটি খোয়া গেছে। তিনি কার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছিলেন এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শনিবার রাতে জিডি করার পর হাসান খালেদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে দেখা হয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাসা থেকে বের হন তিনি। সকাল ৮টা ৩৩ মিনিটে দুটি মোবাইল ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসান খালেদের ভাই মুরাদ হাসান গতকাল রাতে অবাক নিউজ 24 কেবলেন, ‘আমার ভাইয়ের কোনো শত্রু ছিল না। আমরা বুঝতে পারছি না কেন তাকে হত্যা করা হলো।’ হত্যা মামলা করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।’ তিনি আরো বলেন, ‘তার পকেটে গাড়ির চাবি, অফিসের চাবি পাওয়া গেছে। কিন্তু দুটো মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়াটা একটা রহস্য।’

About Expert

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*