Thursday , 29 October 2020
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » অর্থনীতি » অসাধু লোকের সৃষ্টি করা জলাবদ্ধতায় পানির নিচে ফসলী জমি !

অসাধু লোকের সৃষ্টি করা জলাবদ্ধতায় পানির নিচে ফসলী জমি !

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে জলাবদ্ধতার কারনে বিরাট এলাকা জুরে ফসলী জমি এখন পানির নিচে। চাষাবাদ করতে না পেরে বিপাকে চাষী। কিছু অসাধু লোকের সৃষ্টি করা জলাবদ্ধতায় পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে প্রায় ২০০ একর ফসলি জমি। অনেক চেষ্টা করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা চাষীরা। বর্তমানে পুরো হালের মৌসুম। সময় মত চাষ করতে না পারলে জমি চাষে ব্যর্থ হবে তারা। বঞ্চিত হবে ফসল থেকে। এ ছারাও অনেক বাড়ি ও চলার পথ তলিয়ে রয়েছে পানিতে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় একটা কুচক্রী মহল তাদের নিজেদের স্বার্থে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে বলে চাষীসহ স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের কাটাখালী এ হাকিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পার্শ্বের বিলে প্রায় ২০০ একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। যুগ যুগ ধরে যে খাল দিয়ে বিলের পানি নিষ্কাসন করা হতো সেই খাল আটকে রেখে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করা হয়েছে। ওখানে সরকারী রাস্তায় কালভার্ট থাকা সত্ত্বেও তার পিছন দিয়ে আটকে রেখে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করা হয়। চাষী নিজাম হাওলাদার,সামছুল আলম,আবু জাফর মাষ্টার,সবুজ মাল,সোহেল সহ অনেকে জানান,৪০/৫০ বছর ধরে যে খাল দিয়ে পানি ওঠা নামা করতো সেই খাল আটকে রেখে পানির নীচে তলিয়ে রাখা হয়েছে সমস্ত বিলের জমি। কোন চাষী এখন পর্য্যন্ত বীজ বুনতে পারেনি। অন্তত ৫০ মন ধানের বীজ পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা চাষীরা বাঁধ কাটতে গেলে দা,ছেনা,লাঠি,ছোটা নিয়ে চরাও হয় শুকুর প্যাদা ও তার স্ত্রী লিলি বেগম। আমরা চেয়ারম্যান আবু হাসনাত আবদুল্লাহর কাছে গিয়েছি, ইউ,এন,ও স্যারের কাছে গিয়েছি, এখন পর্য্যন্ত কোন প্রতিকার পাইনি।

অপর চাষী শিরিনা বেগম বলেন,এই বিলে আমার অনেক জমি। এখন পর্য্যন্ত বীজ বুনতে পারি নাই। পঁচে যাওয়ার কারনে গত কাল ৮ মন ধান ফেলে দিয়েছি। লিলি এবং হেলাল মেম্বর পানি আটকে রেখে আমাদের হালুটি বন্ধ করে রেখেছে। জমি মালিক আলেয়া বেগম বলেন,আমার পুকুরের সব মাছ পানিতে ভেসে গেছে। অনেক বাড়ি তলিয়ে রয়েছে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে পারেনা। আমি কয়েকবার চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছি। এখন পর্য্যন্ত কোন প্রতিকার পাইনি।
বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন,চাষিরা আমার কাছে এসেছিল এবং লিলি বেগমও আমার কাছে এসেছিল। আমি জানি ওটা খাস খাল। উর্ধতন কর্তপক্ষকে জানিয়েছি,তাতে লিলি যে ব্যবহার করেছে,তা এখন বলতে পারছিনা। প্রশাসন ছারা আমার পক্ষে কিছু করা সম্ভম নয়।
উল্লেখ্য মাসখানেক আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাটাখালীর খাল খনন করা প্রাথমিক ভাবে সম্পন্ন করে। খাল খননের সময় খাল থেকে যে মাটি উঠানো হয়েছে তাতে বিলের পানি নিষ্কাশনের ওই খালটি মাটিতে আটকা পরে। পরবর্তীতে ঐ মাটি সড়িয়ে বিলের পানি ওঠা নামার তাৎক্ষনিক ভাবে ব্যাবস্থা করা না হলেও বর্তমানে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে ঐ মাটি সরাতে বাধা দেয় শুকুর প্যাদা ও তার স্ত্রী লিলি বেগম। এ কারনে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ২০০ একর জমি এখন পানির নীচে। এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান বলেন, আমি রাঙ্গাবালীতে যতোদিন কাজ করেছি এবং করবো আমার কাছে জনস্বার্থের সংশ্লিষ্ট্য কোন কাজের এক মিনিটের জন্য অবহেলা করিনা এবং করবো না। ওখানে গিয়ে দেখে বাঁধটি কেটে দেয়ার জন্য আমি ওসি সাহেবকে বলেছি।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*