দেশপ্রেমিক,সূর্যসন্তান এরশাদ মারা গেছেন

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান (জাপা) এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (১৪ জুলাই) সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। 

গত ২৬ জুন থেকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিলেন এইচএম এরশাদ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলায় দিনহাটায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫২ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। ১৯৬০ – ১৯৬২ সালে তিনি চট্টগ্রাম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কেন্দ্রে অ্যাডজুট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি কোয়েটার স্টাফ কলেজ থেকে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি শিয়ালকোটে ৫৪ ব্রিগেডের মেজর ছিলেন। ১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি লাভের পর ১৯৬৯-১৯৭০ সালে ৩য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট-এর অধিনায়ক ও ১৯৭১ – ১৯৭২ সালে ৭ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর অধিনায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ একজন সাবেক বাংলাদেশী সেনাপ্রধান এবং রাজনীতিবিদ যিনি ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাজ করেছিলেন,তার মেয়াদকালে এরশাদ বিচ্ছেদ সংস্কার,জাতীয়করণকৃত শিল্পের ব্যক্তিগতকরণের অনুসরণ করেন,জাতীয় মহাসড়ক ব্যবস্থার বিস্তার,সার্ক প্রতিষ্ঠা,তিনি উপসাগরীয় যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী হিসাবে তার দেশের বাহিনীকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছিলেন। তিনি অবকাঠামো এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিকাশে অবদান রাখেন।

শেখ মুজিব হত্যার পর তিনি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে নৃশংসতার পর কমান্ডের চেইন পুনরুদ্ধার করেছিলেন। এরশাদ বাংলাদেশের আসল ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান থেকে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সংসদকে চাপ দেন।