বাঁশের সাঁকোই ২০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা

একমাত্র বাঁশের সাঁকোই ২০ হাজার মানুষের ভরসা

অনলাইন ডেস্ক:
পাবনার সাঁথিয়ায় ৫ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। প্রতিবছরই এই সাঁকোটি ভেঙ্গে যায় আর গ্রামবাসীরা মিলে প্রতিবারই হাঁড়ি চাঁদা তুলে পুনর্নির্মাণ করে। স্বাধীনতার পর থেকে এভাবেই চলছে তাদের দিনের পর দিন ও বছরের পর বছর। দেখার যেন কেউ নেই।

জানা গেছে, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমড়া ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে বড়াল নদীর শাখা বলেশ্বর নদীটি চিনিনাড়ী-বিলকলমী’র উপর দিয়ে বয়ে গেছে। প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে ওই নদীর উপর গ্রামবাসীরা হাঁড়ি-চাঁদা তুলে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে অত্র এলাকার নলভাঙ্গা, চিনিনাড়ী সেলন্দা, চরাচেথুলিয়া বিলকলমী, খামার সানিলাসহ অন্তত ৬টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পারা পার হয়। এমনকি আশপাশের স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রায় ১ শ’ ফুট দীর্ঘ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চিনিনাড়ী দাখিল মাদরাসা, বিলকলমী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পার্শ্ববর্তী বেড়া আল হেরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বেড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ, সাঁথিয়া সরকারি কলেজ, বাঘাবাড়ী, শাহজাদপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে যাতায়াত করে। ফলে প্রায়ই ঘটে কোন না কোন দুর্ঘটনা। কৃষকদের কৃষিপণ্য পারাপারের জন্য একমাত্র ভরসা ওই একটি মাত্র বাঁশের সাঁকো। আশপাশের বিভিন্ন হাট বাজারে যেতে কৃষিপণ্য ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। এলাকাবাসীর বহুদিনের দাবি এখানে একটি ব্রিজের।

গ্রামবাসীরা জানায়, ওখানে একটি ব্রিজ হলে শুধু এলাকারই উন্নয়ন নয় সাঁথিয়া, শাহজাদপুর ও বেড়া উপজেলার এবং পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের সাথে সহজেই যোগাযোগ সম্ভব হবে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চিনিনাড়ী ও বিলকলমী গ্রামের গোলজার প্রাং’র বাড়ির ওপারে আব্দুল হাইয়ের বাড়ির সামনে পাকা সড়ক পর্যন্ত গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে বাঁশ দিয়ে সাঁকোটি নতুন করে মেরামত করছেন। সেখানে তাদের তদারকি করছেন চিনিনাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও চিনিনাড়ী দাখিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হোসেন।

তিনি বলেন, আমরা প্রতি বছরই নিজেরাই গ্রামবাসী মিলে চাঁদা তুলে ও সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এ সাঁকোটি তৈরি করি। তবে সরকারি সহায়তায় একটি ব্রিজ হলে ৫/৬টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে।

সাঁকো তৈরি করতে আসা চিনিনাড়ী গ্রামের সন্তোষ জানান, স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিবছরই আমরা সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এখানে সাঁকো তৈরি করি। একটি বিজ্রের অভাবে আমরা রোগসহ বিপদের সময় দ্রুত শহর ও উপজেলা সদরে যেতে পারি না। আমাদের ছেলে মেয়েরা যোগাযোগের অভাবে ভালো বিদ্যালয় ও কলেজে লেখা পড়ার সুযোগ গ্রহণ করতে পারে না। এই গ্রাম গুলো যেন যোগাযোগের অভাবে অন্ধকারের যুগে রয়েছে।

এ বিষয়ে নাগডেমড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নাগডেমড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ জানান, ওখানে একটি ব্রিজ হওয়া দরকার। এতে করে অনেক গ্রামের মানুষের গ্রাম ও শহরের সাথে খুব সহজেই যোগাযোগের উন্নয়ন হবে।’

সাঁথিয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী শহিদুল্লাহ জানান ,আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরেই ওই প্রত্যন্ত এলাকাকে সড়ক ও ব্রিজের উন্নয়ন করে শহরে পরিণত করে সরকারের উন্নয়ন দৃশ্যমান করব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হালিম বলেন, আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়েছি সরজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার।