Sunday , 25 October 2020
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » জাতীয় » ধর্ষণে অভিযুক্তকে সৌদি থেকে ধরে আনলেন মহিলা পুলিশ কমিশনার মেরিন

ধর্ষণে অভিযুক্তকে সৌদি থেকে ধরে আনলেন মহিলা পুলিশ কমিশনার মেরিন

নয়াদিল্লিঃ ধর্ষণে অভিযুক্তকে সুদূর সৌদি আরব থেকে ধরে আনলেন মহিলা পুলিশ কমিশনার মেরিন জোসেফ। আর এই সাহসিকতার কারণেই আজ সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে কেরালার এই পুলিশ আধিকারিকের নাম। রিয়াধের মাটিতে পা দেওয়ার আগেই মনে মনে সংকল্প করে ফেলেছিলেন যেমন করেই হোক অপরাধীকে ধরে আনবেন তিনি। মাসের পর মাস এক কিশোরীর উপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছে যে ব্যক্তি, তাকে কোনভাবেই রেহাই দেওয়া যাবে না। কিন্তু এই সংকল্প নিয়েই যখন আরবের পথে রওনা দেন তখনও বুঝে উঠতে পারেননি, রিয়াধে পৌঁছনোর পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত করতে পারবেন তিনি। কিন্তু এক নাবালিকার উপর হওয়া নির্যাতনের বিচার পাইয়ে দিতে এই অসম্ভব যে তাঁকে সম্ভব করতেই হবে, তাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন মেরিন। আর এই আত্মপ্রত্যয়েই দু’বছর আগে ফেরার ধর্ষণের অভিযুক্তকে শাস্তি পাইয়ে ছাড়ল।

২০১৭ সালে এক ১৩ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ করে ৩৮ বছরের অভিযুক্ত সুনীল কুমার বর্ধন। নির্যাতিতা সুনীলের বন্ধুরই ভাইঝি। চকোলেটের লোভ দেখিয়ে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে এসে কিশোরীর উপর যৌন নির্যাতন চালাত সুনীল। লাগাতার তিন মাস ধরে চলে এই নির্যাতন। হুমকি দিয়ে মেয়েটির মুখ বন্ধ রেখেছিল সে। পরে ওই নাবালিকা পুরো ব্যাপারটি তার পরিবারের লোকজনকে জানায়। তখন সুযোগ বুঝে সৌদি আরবে পালিয়েছে সুনীল। সেখানে গিয়ে টাইলস মিস্ত্রীর কাজও শুরু করে সে। পরে ওই নাবালিকা কেরালার কল্লামের কারিকোড মহিলা মন্দিরম রেসকিউ হোম নামে একটি সরকারি হোমে আত্মহত্যার করে। জানা গিয়েছে, কেরালার কল্লামেরই বাসিন্দা অভিযুক্ত সুনীল।

এরপর কেটে গিয়েছে দু’দুটো বছর। কিন্তু এই কেসের সুরাহা হয়নি। তবে মেরিন যখন এই কেসের দায়িত্ব পেলেন তখন তিনি ওই নাবালিকার পরিবারকে সুবিচার পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। শিশু ধর্ষণে অভিযুক্তকে ধরতে সৌদি আরব রওনা দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। কিন্তু তখনও বুঝে উঠতে পারেননি, রিয়াধে পৌঁছনোর পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হবে!

কিন্তু অপরাধ দমনের মরিয়া চেষ্টায় অবশেষে সফল কেরালার পুলিশ কমিশনার মেরিন জোসেফ। অপরাধীকে ধরে ফিরে এসে সংবাদ সংস্থা ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেরিন জানিয়েছেন, এই কেসের ব্যাপারে উৎসাহী ছিলেন তিনি। মহিলা সংক্রান্ত কেসে তার উৎসাহ আছে। মেরিনের কথায়, “লাগাতার দু’বছর ধরে অপরাধীকে খুঁজছিলাম আমরা। আমার গোটা টিম ও সিবিআই কর্তারাও তদন্তের চালাচ্ছিলেন। কেরল পুলিশের আন্তর্জাতিক তদন্তকারী শাখা সৌদি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারপরই আমরা একটা পরিকল্পনা করি। গোটা দল সমেত পৌঁছে যাই রিয়াধে। সৌদি পুলিশের সাহায্যে খুঁজে বার করা হয় অভিযুক্ত সুনীলকে।”

পুলিশ জানিয়েছে, নিজের পাড়ারই এক কাকুর যৌন লালসার শিকার হয়েছিল ১৩ বছরের মেয়েটি। শরীরে দগদগে ক্ষত নিয়ে দীর্ঘদিন তার চিকিৎসা চলেছিল হাসপাতালে। সেখান থেকে বেরনোর পরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। বাড়িতেও ঠাঁই হয়নি তার। পুলিশই তাকে ভর্তি করে দেয় কোল্লামের ওই সরকারি হোমে। মাস কয়েকের মধ্যে সেখানেই আত্মঘাতী হয় সে। কিশোরীর পরিবার মুখে কুলুপ আঁটলেও, এগিয়ে আসেন নির্যাতিতার এক আত্মীয়। তিনিই অভিযোগ করেন সুনীলের নামে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধীকে রিয়াধ থেকে ধরে আনেন মেরিন৷

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*