Friday , 23 October 2020
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » জাতীয় » ‘রোহিঙ্গাদের জন্মনিয়ন্ত্রণ করেছি, মশার বংশবিস্তারও থামাবো’

‘রোহিঙ্গাদের জন্মনিয়ন্ত্রণ করেছি, মশার বংশবিস্তারও থামাবো’

অনলাইন ডেস্কঃ
রোহিঙ্গাদের জন্মনিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছি সুতরাং মশার বংশ বিস্তারও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবো, এমন মন্তব্য করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘প্রশ্ন হলো ডেঙ্গু এত বেশি কেন? গত বছর কিংবা তার আগের বছরগুলোতে এত ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল না, এবার কেন? আমার সাধারণ উত্তর, মশা বেশি, এডিস মশা বেশি, তাই ডেঙ্গু বেশি। মশাগুলো স্বাস্থ্যবান ও কামড়াতে দক্ষ। মশার উৎপাদন বেশি হচ্ছে। উৎপাদন কম হলে মানুষ মশার কামড় কম খেতো, ডেঙ্গুও কম হতো।’
বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) শহীদ ডা. মিলন হলে ‘ডেঙ্গু: ধরন পরিবর্তন ও ব্যবস্থাপনা আপডেটকরণ’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন ও ঢামেকের মেডিসিন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে ডেঙ্গুজ্বরের চিকিৎসা, করণীয় ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সেমিনারে গুরুত্বপূর্ণ এ আলোচনা শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহিদ মালেক বলেন, দেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা মশার মতো বাড়ছে। রোহিঙ্গা জনগণ আমরা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছি। গত পরশুদিনও আমি গিয়েছিলাম সেখানে। আশা করি, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলাপ আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গার মতো মশাও আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবো। মশা নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। মশা মারার দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ হাসপাতালগুলোর নয়। আমাদের দায়িত্ব চিকিৎসা দেওয়া, তা আমরা করে যাচ্ছি।
‘আমরা মানুষকে সচেতন করতে পারি। সেজন্য পত্র-পত্রিকাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণাসহ অসংখ্য সেমিনার আমরা করছি। আজকের এত বড় সেমিনারও একই উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। চিকিৎসকরাও যাতে আরও দক্ষ হন সেজন্যও এই সেমিনারগুলো করা হচ্ছে। এতে দেশবাসী খুশি হবে এরকম দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার জন্য।’
এসময় ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে গাইডলাইন তৈরি করায় ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন ও চিকিৎসা সুষ্ঠু করার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার বাইরে কেউ নেই।
বিভিন্ন কারণে দেশে যেভাবে মানুষ মারা যায় সেভাবে ডেঙ্গুতে মানুষ মরছে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ঢাকাসহ ঢাকার বাইরের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে রোগী গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত। কোনো রোগী চিকিৎসার বাইরে নেই। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যে কারণে মাত্র আটজনের মৃত্যু হয়েছে। তা না হলে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়ে যেত।
মন্ত্রী বলেন, যেহেতু মশা বেড়েছে তাই ডেঙ্গুজ্বর বেড়েছে। তাই অবশ্যই মশা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে তা বারবার বলছি। এখন আগের চেয়ে ১০ গুণ বেশি মশা সৃষ্টি হয়েছে। সঠিক অনুপাতে মশা মারার ওষুধ ছিটাতে হবে। তবে চিকিৎসাক্ষেত্রে কোনো দেরি করা যাবে না। দেরি করলে অবস্থা খারাপ হবে।
সেমিনার শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, জেনেটিক মশা এখনও সফলভাবে বিশ্বে চালু হয়নি। হলে আমরাও বাংলাদেশে তা আনবো এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে।
এই জেনেটিক মশা একটি পুরুষ মশা। যা এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করবে বা এডিসের কর্মক্ষমতা নষ্ট করবে। এতে মশা কামড়ালেও ডেঙ্গুজ্বর হবে না।
এসময় ঢামেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেনেটিক মশা না হলেও আমরা নিউক্লিয়ার মশার প্রস্তাবনা নিউক্লিয়ার অ্যাটমিক অ্যানার্জি কমিশনের কাছে রেখেছি। এ ধরনের মশা এডিস মশাকে মেরে ফেলে বা স্টেরাইল করে। উন্নত বিশ্বে এ পদ্ধতির ভালো প্রতিক্রিয়া এর আগে দেখা গেছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্লাড ব্যাংক নিয়ে আমাদের দুঃচিন্তা করতে হবে না। আমাদের এর অভাব নেই। আর প্লাটিলেট দেওয়া জরুরি না। সেটা বিশেষজ্ঞরা বলছেন সব সময়। তা আমাদের মানতে হবে। তাই রক্ত নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা কত? এমন প্রশ্নের জবাব দেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেবরিনা ফ্লোরা বলেন, আমাদের ডেথ রিভিউ করে, অনেকবার অনেকভাবে সাক্ষীদের ইন্টারভিউ নিয়ে নিশ্চিত হতে হয় যে মৃত্যুটা আসলে হাসপাতালে কীভাবে হয়েছে। সে কার্যক্রম আমাদের চলমান। আমাদের হিসাবে ঢামেকে ৩ জনের মৃত্যুসহ মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে এ মৌসুমে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিতভাবে বলতে পারবো আসলে কতজন এবার ডেঙ্গুতে মারা গেছে।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. বিল্লাল আলমের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল বক্তব্য রাখেন ঢামেকের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন ও একই বিভাগের ও ডেঙ্গু চিকিৎসার গাইডলাইনের এডিটর ইন চিফ অধ্যাপক ডা. কাজী তারিকুল ইসলাম।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, ঢামেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ, পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন, সংগঠনটির বৈজ্ঞানিক সাব-কমিটির চেয়ারম্যান ডা. মুজিবুর রহমান, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির, বৈজ্ঞানিক বিষয়ক সম্পাদক ডা. সুদীপ রঞ্জন দেব, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব এম এ আজিজসহ ঢামেকের চিকিৎসক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*