Sunday , 25 October 2020
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » জাতীয় » দুর্গাপুজোয় বিজেপি: মুখ্যমন্ত্রী হতাশায় ভুগছেন, মন্তব্য সায়ন্তনের

দুর্গাপুজোয় বিজেপি: মুখ্যমন্ত্রী হতাশায় ভুগছেন, মন্তব্য সায়ন্তনের

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পুজোর মাস দুয়েক আগে থেকেই দুর্গাপুজোয় প্যান্ডেলে-প্যান্ডেলে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিতে চাইছে বিজেপি। পুজোয় সগর্বে উড়বে গেরুয়া পতাকা , নির্দেশ এসেছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর থেকে। কোমরবেঁধে নেমে পড়েছেন বিজেপি নেতারাও।

বঙ্গ রাজনীতিতে দুর্গা পুজোর গুরুত্ব কম নয়। এককালে, বাম রাজনৈতিক দলগুলো পুজো মণ্ডপের বাইরে প্যান্ডেল বেঁধে বই বিক্রি করত। এখনও বুকস্টলের রেওয়াজ আছে। গত বছরের দুর্গা পুজোতেও বিভিন্ন জায়গায় বাম বুকস্টল দেখা গিয়েছে। কংগ্রেস-তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য সরাসরি দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তা হিসাবে বরাবরই নেমে পড়ে। বিজেপি দুর্গাপুজোর ময়দানে শাসকদলকে বেগ দিতে পরিকল্পনা সেরে ফেলেছে।

কারণটা পরিষ্কার, লোকসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বেই বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বারবার অভিযোগ করে গিয়েছেন, রাজ্যে দুর্গাপুজো, কালীপূজা, সরস্বতী পুজো হতে পারছে না। দুর্গাপুজোর ভাসান আটকানো হচ্ছে। আপাতত যা খবর, বিভিন্ন পুজো কমিতিগুলির আবেদনের ভিত্তিতে নেতারা পুজোয় যোগ দেবেন। যে ১৮ টি লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি জিতেছে, সেখানকার সিংহ ভাগ পুজোই নিয়ন্ত্রণ করবে বিজেপি। তবে যদি কোনও তৃণমূল নেতা ব্যক্তিগত উদ্যোগে পুজো করেন, সেই পুজো থেকে দূরেই থাকবে পার্টি।

বিজেপি নেতাদের কথায় স্পষ্ট, যে পার্টি পুজোআর্চায় বিশ্বাস করে তারা পুজো থেকে দূরে থাকবে না। তবে প্রত্যেক পার্টির নেতা ব্যক্তিগত ভাবে পুজোয় যোগ দিতে পারেন। কিন্তু, পার্টির নেতা হিসেবে পুজোয় যোগ দিতে পারবেন না।

এদিকে , রাজ্য বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পরিবার দুর্গাপুজো নিয়ে হতাশায় ভুগছে। আচরণের স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।”

দক্ষিণ কলকাতার নামি পুজো সঙ্ঘশ্রী-এর পরিচালন কমিটি প্রথমে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুকে সভাপতি করে এগোতে চেয়েছিল। কিন্তু, সেই সিদ্ধান্ত থেকে তাঁরা পিছিয়ে এসেছে। সমস্ত কিছু দেখার পর সায়ন্তনের বক্তব্য, “ওরাই (সঙ্ঘশ্রী) এসেছিল, ইচ্ছা প্ৰকাশ করেছিল। এখন ওরাই পিছিয়ে যাচ্ছে। ব্যাপার হলো, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পরিবার দুর্গাপুজো নিয়ে হতাশায় ভুগছে। আমার কাছে কলকাতা ও জেলা মিলিয়ে ১৪-১৫ টি পুজো কমিটির প্রস্তাব রয়েছে। ওদের (তৃনমূল কংগ্রেস) কাণ্ড-কারখানা দেখে হাসি পাচ্ছে।”

গত বছর সঙ্ঘশ্রীর পুজোর উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় এই পুজোর উপদেষ্টা। যা খবর, ক্লাবেরই একটি গোষ্ঠী সায়ন্তনকে সভাপতি করে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে মুখ্য অতিথি করে পুজো উদ্বোধন করাতে চেয়েছিল বলে জোর খবর। কিন্তু আপাতত তা বিশ বাঁও জলে। ক্লাবে সংখ্যাধিক্য সদস্যরা বলছেন, ওই সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়নি। ক্লাবের অধিকাংশ সদস্য যখন কলকাতার বাইরে, তখনই নেওয়া হয়েছিল। আদতে, দুর্গাপুজো পরিচালনা কমিটির সায়ন্তন বসু বা অন্যকোন বিজেপি নেতাকে জায়গা দেওয়ার কোনো ইচ্ছাই নেই। সায়ন্তনের বক্তব্য, “এই ঘটনা ঘটেছে মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের কোনও সদস্যের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে।”

প্রসঙ্গত, রাজ্য বিজেপিতে আলোচিত হয়েছে, নেতারা কি শুধুই রাজনীতি করবেন? তাদের কোনও সামাজিক ভূমিকা থাকবে না। কোনও পুজো কমিটি বা সংস্থা সম্মান জানিয়ে কমিটিতে জায়গা দিলে অবশ্যই যাওয়া উচিত। তবে ওই নেতাকে লক্ষ্য রাখতে হবে, যেন তাঁকে ব্যবহার করে কমিটি কোনও দুর্নীতিমূলক কাজ না করে। ইতিমধ্যেই সাংসদসহ বিভিন্ন নেতাদের কাছে দুর্গাপুজো কমিটিগুলির ‘চিফ পেট্রন’ হওয়ার আবেদন জমা পড়তে শুরু করেছে।

কিছু কমিটি পার্টির থেকে আর্থিক অনুদানও চায়। রাজ্য বিজেপির বক্তব্য, দলের কোনও নেতা ব্যক্তিগতস্তরে কোনো পুজো কমিটিকে সাহায্য করতে চাইলে করতেই পারেন। তবে দেখতে হবে, নেতারা যেন ব্যবহৃত না হয়ে যান। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার যে বিজেপি নেতারা শুধু রাজনীতিই করবেন না, সামাজিক বিষয়েও তাঁদের ভূমিকা থাকবে। পুজো কমিটিতে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রচুর আবেদন ইতিমিধ্যেই আমাদের কাছে আসছে। মানুষ ভালোবেসে চাইছে। আগেও আমরা যুক্ত থাকতাম। এবারে মুখ্য ভূমিকায় থাকবো। কিন্তু একটু সাবধানে।

The post দুর্গাপুজোয় বিজেপি: মুখ্যমন্ত্রী হতাশায় ভুগছেন, মন্তব্য সায়ন্তনের appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal’s Leading online Newspaper.

About Sakal Bela