Tuesday , 20 October 2020
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » দেশগ্রাম » রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করা হবে-পুলিশ সুপার, মিজানুর রহমান।

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করা হবে-পুলিশ সুপার, মিজানুর রহমান।

কামাল হোসেন, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধিঃ
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে, রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের উদ্যোগে ০৩/০৮/২০১৯ ইং তারিখে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ মতবিনিময় সভা, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সন্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান, পিপিএম (বার) এর সভাপতিত্বে, সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অপরাধ) মোঃ সালাহ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মোঃ ফজলুল করিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল করিম, এনএসআই এর উপ-পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম, রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার, ইন্সপেক্টর মোঃ রবিউল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিসি এর ঘাট কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক মোঃ রুহুল আমিন, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুরাদ হাসান, ফরিদপুর জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুক ভুঁইয়া, লঞ্চ মালিক সমিতির প্রতিনিধি আব্দুর রশিদ, জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ রকিবুল ইসলাম পিন্টু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ, সাংবাদিক রবিউল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন, এজাজ আহম্মেদ ও দেবাশীষ বিশ্বাস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এ সময় সহকারী পুলিশ সুপার(পাংশা সার্কেল) মোঃ লাবীব আব্দুল্লাহ, জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাগণ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার বাস মালিক গ্রুপের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং দৌলতদিয়া ঘাট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান,পিপিএম(বার) বলেন, আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে রাজবাড়ী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জেলার আইন-শৃঙ্খলা ও দৌলতদিয়া ঘাটের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যেহেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে হাজার হাজার যাত্রী ঈদে বাড়ীতে যাবে। তাদের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলার ডিসি-এসপিদের নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে শুধু যাত্রীদের নিরাপত্তাই নয়, দেশের কোরবানীর চামড়া যাতে পাচার না হয় এবং ঈদের জামাতসহ আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় যাতে ঠিক থাকে সে জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। যেহেতু রাজবাড়ীর জেলার জন্য দৌলতদিয়া ঘাট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সে জন্য সেখানে যাতে যাত্রী ও যানবাহন নির্বিগ্নে সুষ্ঠুভাবে পারাপার হতে পারে তার ব্যবস্থা করা হবে।
পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা বিধান ও যাত্রীদের হয়রানী রোধে কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে ঘাট সংশ্লিষ্ট সকল সরকারী বিভাগ, বাস মালিক গ্রুপ, লঞ্চ মালিকসহ যারা ঘাটে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে তাদের সাথে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা হবে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ঈদের আগেই দৌলতদিয়া ঘাটসহ রাজবাড়ী শহরকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধী শনাক্ত করা সহজ হবে। দৌলতদিয়া ঘাটে বাস যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকেট কাউন্টার বসানো হবে। যেহেতু থ্রি-হুইলার মহাসড়কে চলা অবৈধ সে জন্য মাহেন্দ্রগুলো পদ্মার মোড় থেকে শহর রক্ষা বেড়ী বাঁধ সড়ক হয়ে চলাচল করবে। বাস মালিক গ্রুপের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে দৌলতদিয়া থেকে বিভিন্ন রুটের বাস ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া হবে। মাহেন্দ্রর ক্ষেত্রেও একইভাবে আলোচনা সাপেক্ষে ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া হবে। কোন অবস্থাতেই নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। বিআইডব্লিউটিসি’র তথ্য মতে, এবারের ঈদে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ২০টি ফেরী, যানবাহন পারাপার করবে এবং ২৪টি লঞ্চ যাত্রী পারাপারে নিয়োজিত থাকবে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনাক্রমে সম্ভব হলে ১হাজার থেকে ১২শত যাত্রী ধারণ ক্ষমতার স্টিমার ও বড় লঞ্চ নিয়ে আসা হবে। কোন অবস্থাতেই লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে দেয়া হবে না। ঈদের সময় যখন ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে সেই সময় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে গোয়ালন্দ মোড় পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে কোন ট্রাক পার্কিং করে রাখতে দেয়া হবে না। বিআইডব্লিউটিসি’র তথ্য মতে, ঈদের সময় দৌলতদিয়ার ৬টি ফেরী ঘাটই সচল থাকবে। এসি বাস বা অন্য কোন যানবাহনকে ভিআইপিভাবে পারাপার করা হবে না। সকল যানবাহনকেই সিরিয়াল অনুযায়ী পারাপার হতে হবে। ঘাট এলাকায় চুরি, ছিনতাই, পকেটমার, অজ্ঞান পার্টির বিষয়ে পুলিশ সতর্ক থাকবে।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ’র সাথে কথা বলে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত লাইটিং এর ব্যাপারে কিছু করণীয় থাকলে পুলিশের পক্ষ থেকে তা করা হবে। দৌলতদিয়া ঘাটের দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কে চলাচলকারী প্রতিটি যানবাহনকেই গতি সীমা নিয়ন্ত্রণে রেখে চলাচল করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যানবাহনের গতি ৬০কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে চলাচল করলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশেই কমে আসবে। অনেক সময় দেখা যায়, মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী মোটর সাইকেল চালকগণ হেলমেট ব্যবহার করে না। এখন থেকে মহাসড়ক-সড়কের বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে হেলমেট বিহীন মোটর সাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও তিনি তার বক্তব্যে আসন্ন ঈদে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ দৌলতদিয়া ঘাটের যাত্রীদের কোন রকম হয়রানী ছাড়া নির্বিগ্নে পারাপার নিশ্চিত করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*