দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

কামাল হোসেন, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধিঃ

গত ১৭/০৭/২০১৯ ইং তারিখে, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত এবং ১৮/০৭/২০১৯ ইং তারিখে  দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার শেষের পাতায় প্রকাশিত “দৌলতদিয়া ঘাট থেকে আয় শত কোটি টাকা “শিরোনামে যে দুটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেই প্রকাশিত দুটি সংবাদের লিখিত প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়েছেন গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, মোঃ নুরুল ইসলাম মন্ডল।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে দুটি সংবাদ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্য প্রনোদিত, রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। সর্বোপরি জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকা প্রতীকের ভাবমুর্তি  নস্ট করার এ এক নোংরা উদাহরণ। যাহা অতীব মানহানিকর।

বর্তমান দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে (বন্যার কারণে স্থগিত রয়েছে) আমার বিরুদ্ধে এমন সংবাদ প্রকাশ করা প্রতিপক্ষের যোগসাজশে নির্বাচনে প্রভাব ফেলার ষড়যন্ত্র মাত্র। প্রকাশিত সংবাদের লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আমি নুরুল ইসলাম মন্ডল, গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দৌলতদিয়া  ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান এবং ২৫ শে জুলাই ২০১৯ ইং তারিখে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ( বন্যার কারণে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে)  চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে দলীয় মনোনয়নের জন্য তৃনমূল নেতাকর্মী কর্তৃক ভোটাভুটির মাধ্যমে ৫৫/০৭ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হই, অতঃপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মানবতার মা,জননেত্রী শেখ হাসিনা কতৃর্ক দলীয় মনোনয়ন পেয়ে, নৌকা প্রতীক নিয়ে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হই।

আমার নির্যাতিত দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে আজ অবধি শুধু মাত্র নৌকার একনিষ্ঠ, সৎ, সাহসী কর্মী হওয়ার কারণে। বিগত বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে দেশনেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশব্যাপি বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যে, আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ঘাট এলাকায় আমি ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলি, যার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি জামায়াত জোটের কতিপয় নেতার মদদে, স্থানীয় প্রশাসন আমার অপ্রতিরোধ্য নেতৃত্ব বুঝতে পেরে আমাকে দেশনেত্রী শেখ হাসিনা কতৃর্ক আন্দোলনের ডাক থেকে দুরে রাখার উদ্দেশ্যে বার বার জেল জুলুম ও অত্যাচার শুরু করে এবং অসংখ্য মিথ্যা মামলা আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয় যার ফলে সে সকল মামলার একটিতেও আমাকে এজাহারভূক্ত বা দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি অথবা করতে পারেনি।

এখানে উল্লেখ্য যে, ঐ সময় ক্ষমতাসীন সরকারের রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম আমাকে ক্রসফায়ারে ভয় দেখিয়ে বিএনপি জামায়াত জোটে যোগ দেওয়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অবশেষে আমার বিরুদ্ধে অএ ঘাট এলাকায় প্রায় সকল অপ-মামলার কোনটিতে প্রত্যক্ষ, কোনটিতে পরোক্ষ ও কোনটিতে হুকুমদাতা হিসাবে আসামী করেও দোষী সাব্যস্ত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে।

বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সেই ভয়ংকর নির্যাতনের মধ্যেও আমাকে দমাতে না পারায়, আন্দোলন সংগ্রামে সাহসী ভূমিকার জন্য আওয়ামী লীগের তৃনমূল কর্মী ও সাধারণ জনগন,বর্তমান সরকারের আমলে এসে আমার রাজনৈতিক জীবনের সাহসীকতার পুরস্কার হিসাবে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একাধিকবার সদস্য নির্বাচিত করে এবং একবার চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত করে। সেই সাথে গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায়, বর্তমানে কিছু সুযোগ সন্ধানী নেতা ও ব্যক্তিসার্থে আন্দোলন কারী নেতারা  আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এরই অংশ হিসাবে ঐ শ্রেণীর নেতারা আমার এবং আমাদের এমপি মহোদয় আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলীকে দোষারোপ করে।

বিএনপি জামায়াত জোট সরকার আমলের সেই মিথ্যা মামলার নথীপত্রের কথা সংবাদপত্রে অতি সু-কৌশলে  উল্লেখ করে আমার নেত্রী কতৃর্ক প্রাপ্ত নৌকা প্রতীকের নিশ্চিত বিজয়কে প্রতিহত করতে, মিথ্যা ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। সেই সাথে তারা আমার বর্তমান দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলা কালীন সকল প্রকার নির্বাচনী কর্মকান্ডে বাধাগ্রস্ত ও রাজনৈতিক জীবনে কালীমা লেপন করতে উম্মাদ হয়ে উঠেছে। ১৭/০৭/২০১৯ ইং তারিখে ও ১৮/০৭/২০১৯ ইং তারিখে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দুটি, এই ষড়যন্ত্রের একটি অংশ এবং মানহানিকর। আমি ঐ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দুটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে, সম্পুর্ণ সংবাদ প্রত্যক্ষাণ করছি।