Monday , 26 October 2020
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » বিশ্ব সংবাদ » কাশ্মীরে সেনা মোতায়েন,পরিস্থিতি থমথমে!

কাশ্মীরে সেনা মোতায়েন,পরিস্থিতি থমথমে!

 
আর রাজ্য নয়, কাশ্মীর ও লাদাখ নামে দুটি অঞ্চল
► মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহ গ্রেপ্তার
► কারফিউ জারি
► ভারতের ‘অবৈধ পদক্ষেপ’ মোকাবেলায় সব কিছু করা হবে : পাকিস্তান
৬ আগস্ট, জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা বাতিল করে দিয়েছে ভারত। সাত দশকের ইতিহাস পাল্টে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ জারির মধ্য দিয়ে ভারত সরকার বাতিল করে দিল সংবিধানের ৩৭০ ধারা, যা জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা দিয়েছিল।
পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর থেকে লাদাখকে বের করে তৈরি করা হয়েছে নতুন এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যার কোনো বিধানসভা থাকবে না। থাকছে না জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদাও।
কাশ্মীর এখন থেকে পরিচিত হবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে। তবে তার বিধানসভা থাকবে।
সরকারের এ সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেস। সংবাদ সম্মেলন করে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম একে ‘ভারত ভাঙনের শুরু’ হিসেবে অভিহিত করেন। এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ভারত নিজেকে কাশ্মীরের ‘দখলদার বাহিনীতে’ পরিণত করল বলে মন্তব্য করেছেন উপত্যকার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। তাঁকে এবং কাশ্মীরের আরেক সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে ওমর আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়ছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রথম সারির আরো কয়েকজন নেতা।
কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত সরকারের এই কঠোর অবস্থানে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে পাকিস্তান। এক বিবৃতিতে গতকাল সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতের এই ‘অবৈধ পদক্ষেপ’ মোকাবেলায় সম্ভব সব কিছু করবে তারা।
কাশ্মীর ইস্যুতে মোদি সরকারের এই অবস্থান আকস্মিক কিছু নয়। বেশ কয়েক দিন থেকেই এর আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল। সম্প্রতি উপত্যকায় দফায় দফায় আধাসামরিক সেনা সংখ্যা বাড়ায় ভারত (গতকাল পর্যন্ত কাশ্মীরে এক লাখ ৮০ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের খবর পাওয়া গেছে)। এর পরই আসে অমরনাথে তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের কাশ্মীর ছাড়ার নির্দেশ। একই সঙ্গে অন্য রাজ্যের যেসব শিক্ষার্থী কাশ্মীরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছিল তাদেরও সরে যেতে বলা হয়। রবিবার গভীর রাতে গৃহবন্দি করা হয় রাজ্যের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে। পরে গতকাল তাদের গ্রেপ্তার করে শ্রীনগরের একটি গেস্টহাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেশ কয়েকজন প্রথম সারির নেতাকেও। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাজ্জাদ লোন ও ইমরান আনসারি। এ ছাড়া উপত্যকার ইন্টারনেট সংযোগ আংশিক এবং টেলিফোন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশসহ জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। ৭০ লাখ জনগোষ্ঠীর এ উপত্যকায় রবিবার মধ্যরাত থেকে সান্ধ্য আইন বলবৎ রয়েছে।
৩৭০ ধারা বাতিলের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছিল বেশ কয়েক দিন থেকেই। গত রবিবার বিশেষ বৈঠকে বসেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালসহ জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। গতকাল সকালে এ নিয়ে ফের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠক হয়। এর পরই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পড়ে শোনান প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ স্বাক্ষরিত নির্দেশ। বলা হয় এই নির্দেশ তাত্ক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। এই নির্দেশে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়। ১৯৫০ সলে প্রণীত ভারতীয় সংবিধানের এই ধারাবলেই কাশ্মীরকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়। ‘কাশ্মীর রিঅর্গানাইজেশন বিল’ নামের এই নির্দেশনায় বলা হয়, এখন থেকে জম্মু ও কাশ্মীর হবে দিল্লি ও পুদুচেরির মতোই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। নিজস্ব সংবিধান, নিজস্ব পতাকা আর থাকবে না তাদের। কাশ্মীরের বিধানসভার ধাঁচও হবে এই দুই অঞ্চলের মতোই। আর কাশ্মীর ভেঙে বের করে আনা লাদাখ পরিচালিত হবে চণ্ডিগড়ের আদলে। তাদের বিধানসভা থাকবে না। কাশ্মীর ও লাদাখ পরিচালনা করবেন দুজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর। প্রেসিডেন্টের নির্দেশের অর্থ হচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা বা নিম্নকক্ষ লোকসভায় ভোটাভুটির আর কোনো সুযোগ রইল না।
বহুল আলোচিত ৩৭০ ধারায় জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা ও বিশেষ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ সংবিধানের ধারাগুলো অন্য সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও জম্মু কাশ্মীরের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য না-ও হতে পারে।
সূত্র ঃঃ বিবিসি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্যা হিন্দু।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*