গোয়ালন্দে চাঁদার টাকা না পেয়ে কারখানার শ্রমিককে হত্যার চেষ্টা

কামাল হোসেন, রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় একটি ফুড কারখানার মালিকের কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে কারখানায় হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা নৈশ প্রহরী মোঃ হাকিম তালুকদারকে তুলে নিয়ে পাশের একটি কলা বাগানে হাত-পা বেঁধে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগে পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গোয়ালন্দ উপজেলার পশ্চিম উজানচর নবুওসিমদ্দিন পাড়ায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত মন এগ্রোফুড এন্ড বেভারেজ লিঃ কারখানায়।
এ ঘটনায় নৈশ প্রহরী মোঃ হাকিম তালুকদার বাদী হয়ে মোঃ হাসেম আলী মন্ডল (৪৪), মোঃ আঃ রাজ্জাক শেখ(৪৩), মোঃ রফিক (৪০), মোঃ মিজানুর রহমান (৩৭), মোঃ ওসমান শেখ (৫৫), মোছাঃ আকলিমা ইয়াসমীন ওরফে ছনিকা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪ কে আসামী করে ১৮ আগষ্ট গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অভিযোগে হাকিম তালুকদার বলেন, মন এগ্রোফুড এন্ড বেভারেজ লিঃ এ তিনি দারোয়ানের চাকুরী করেন। চলতি আগষ্ট মাসের ১১ তারিখ বিকেলে তিনি দায়িত্বরত অবস্থায় হাসেম মন্ডল এসে তার মালিকের কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে দিতে বলে। কিসের টাকা জানতে চাইলে সে বলে এখানে কারখানা চালাইতে হলে ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে। আমি বিষয়টি আমার মালিককে মোবাইলে জানাই। এমতাবস্থায় রাত পৌনে ১টার দিকে উল্লেখিত আসামীগন কারখানার সামনে এসে আমাকে ডাকতে থাকে। আমি কারখানার গেট খুললে তারা আমাকে বাইরে আসতে বলে। আমি গেটের বাইরে যেতেই তারা আমার মুখে কসটেপ লাগিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে নেজন মোল্লার কলা বাগানে নিয়ে মারপিট করে। মারপিটের এক পর্যায়ে আমার হাত-পা নাইলনের রশি দিয়ে বেধে জবাই করে হত্যা করতে উদ্যত হয়। এ দিকে কারখানার মালিক আমাকে কারখানায় না পেয়ে অন্য লোকজন নিয়ে আমাকে খুজতে থাকে। এ অবস্থায় লোকজন সহ আমার মালিককের উপস্থিতি টের পেয়ে দুস্কৃতিকারীরা আমাকে ফেলে পালিয়ে যায়। মালিক ও অন্যান্য লোকজন আমাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হলে কারখানার মালিকের সাথে পরামর্শ করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা করেছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আঃ রাজ্জাক বলেন, কারখানার মালিক সৈয়দ শাজাহান হোসেন সুমন জোর করে আমাদের জমি দখল করে তার উপর অবৈধ ভাবে কারখানা গড়ে তুলেছে। এ নিয়ে আমরা কথা বলতে গেলে তিনি আমাদের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।

কারখানার মালিক সৈয়দ শাজাহান হোসেন সুমন বলেন, আমি ন্যায্য মূল্যে ওসমান শেখের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে কারখানা করেছি। তার পরেও তারা আমার কাছে ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। আমি টাকা দিতে অস্বিকার করায় তারা সংবদ্ধ হয়ে আমার কারখানায় হামলা করে আমার শ্রমিককে হত্যার চেষ্টা করে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, বে-আইনী ভাবে কারখানায় অনধিকার প্রবেশ, অবরোধ করে চাঁদা দাবী ও খুন করার উদ্দেশ্যে মারপিট করায় সাধারন জখমের অপরাধে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।