Friday , 30 October 2020
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » দেশগ্রাম » রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নে আবারও ব্যাপক নদী ভাঙ্গন

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নে আবারও ব্যাপক নদী ভাঙ্গন

কামাল হোসেন, রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ও দেবগ্রাম ইউনিয়ন এলাকায় আবার নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের আহাজারিতে ভাড়ী হয়ে উঠছে পদ্মা পাড়।পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র হচ্ছে দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গন। গত এক সপ্তাহে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ঢল্লাপাড়া ও হাতেম মন্ডলের পাড়া এবং দেবোগ্রাম ইউনিয়নের কাওয়াজানি গ্রামের নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে শতাধীক বিঘা ফসলী জমি। সরিয়ে নিতে হয়েছে অন্তত একশত বসত বাড়ি। এখনও মারাত্বক ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিনাঞ্চলের প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট, বসতবাড়িসহ বহু গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা।
২৭/০৮/২০১৯ ইং তারিখ মঙ্গলবার সরেজমিনে দৌলতদিয়া নদী ভাঙন এলাকায়  গিয়ে দেখা যায়, সেখানে উপচে পড়া মানুষের ভীর। সবাই হাতেম মন্ডল  পাড়া ও ঢল্লাপাড়া এলাকার নদী ভাঙ্গন দেখছেন। আর আহাজারি করছেন। সেখানে চোখের নিমিশেই বিলিন হচ্ছে ফসলী জমি ও বসতবাড়ি।
এ সময় ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় ট্রলারে জিও ব্যাগ ফেলতে আসেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পান এলাকাবাসী। কিন্তুু তারা যখন শুনতে পান দৌলতদিয়ায় ভাঙ্গন এলাকার জন্য মাত্র ৬ হাজার ৪ শত বস্তা জিও ব্যাগ ফেলা হবে। তখনই তাদের চোখে মুখে হতাশার ছাপ লক্ষ্য  করা যায়।
নদী ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম  পরিদর্শনে এসে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক, “নুরুল ইসলাম মন্ডল” জানান, সম্প্রতি নদী ভাঙ্গন মারাত্মক আকার ধারন করেছে। দৌলতদিয়ায় আর মাত্র ২ শত মিটার এলাকা ভাঙ্গলেই লঞ্চঘাট, ফেরী ঘাট সহ পুরো এলাকাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে পুরো এলাকা। জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৬ হাজার ৪শত বস্তা জিও ব্যাগ ফেলার অনুমতি প্রদান করেছে। যা একেবারেই কম। এই সামান্য জিও ব্যাগ দিয়ে এই এলাকার নদী ভাঙ্গন ঠেকানো সম্ভব হবে না। অন্তত আরো ২০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা জরুরী প্রয়োজন।
এ সময় হাতেম মন্ডল পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ইছাক মন্ডল বলেন, গত এক সপ্তাহ যাবৎ এই এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কমপক্ষে একশত বিঘা ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। সরিয়ে নিতে হয়েছে কমপক্ষে একশত বসতবাড়ি। অনেকেই জমিজমা না থাকায় অন্যের জমিতে বসবাস করছে এবং মানবেতর জীবন যাপন করছে। তিনি আরো বলেন নদী ভাঙ্গন শুরু হলে সরকার তরিঘরি করে কাজ শুরু কিন্তু কাজ শুরু করতে করতেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় অসংখ্য বাড়ীঘর অথচ শুকনো মৌসুমে নদী ভাঙ্গন রোধে সরকার যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করতো তাহলে নদী ভাঙ্গনে আমরা এত ক্ষতিগ্রস্থ হতাম না।
দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী মোঃ আশরাফুল ইসলাম আশরাফ বলেন, দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের গনদাবী থাকা সত্ত্বেও নদী ভাঙন রোধে সরকার কোন স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না এই নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ীভাবে নদী শাসনের জন্য রাজবাড়ী ১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী “কাজী কেরামত আলীর” মাধ্যমে মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী “শেখ হাসিনার” হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুম শুরুতে রাজবাড়ী জেলার ১৯ টি পয়েন্টে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছিলো। তখন পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গগন রোধে কাজ করেছে।  নতুন করে গত এক সপ্তাহে ৩০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আবার ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে জরুরী ভিত্তি ওই দুটি ইউনিয়নের জন্য দুটি প্যাকেজে ১২ হাজার ৮ শত বস্তা জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*