লক্ষ্মীপুরে এক শিক্ষকের ৩ প্রতিষ্ঠানে জব,মনিরের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু

জেলা প্রতিনিধি  লক্ষ্মীপুর:

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার খিলবাইছা রাহমানিয়া ফাযিল (ডিগ্রী ) মাদ্রাসার এক শিক্ষক একাই তিনটি পদে কর্মরত রয়েছেন। একই সাথে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা সহ পাশাপাশি আইন পেশায় ও নিয়োজিত রয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. মনির হোসেন তিনি বাংলা প্রভাষক (ইনডেক্স নং ৩১৮৭৩৭)।

এই বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার নাগরিক সমাজ নামে একটি সংগঠন বাংলাদেশ দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)’র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। দুদক অভিযোগটি আমলে নিয়ে গত (১৩ মে) ২০১৯ইং তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন ০০.০১.০০০০.৫০৩.২৬.০৮০.১৯.১৯১৫৮ স্মারক নং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে বিষয় টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা অধিদপ্তর গত ২৫ জুলাই ২০১৯ ইং তারিখে ৫৭.২৫.০০০০.০১০.১০.০০২.১৯.২৪৫ স্মারক নাম্বারের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সরেজমিনে গিয়ে উক্ত অভিযোগের তদন্ত করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে মনোনিত করেন। সেই সাথে (২০ আগস্ট) ২০১৯ ইং তারিখে মধ্যে অধিদপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস থেকে আমাকে একটি নোটিশ করা হলে আমি গত (২৫ আগস্ট) তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে হাজির হয়। কিন্তু অভিযোগের কোন কপি আমি পাইনি। আরো জানার জন্য খিলবাইছা রাহমানিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ হুমায়ুন কবির বিষয় টি স্বীকার করে বলেন, আমি একটি চিঠি পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে উপস্থিত হই। কিন্তু অভিযোগের কোন কপি না থাকায় ইউএনও মহোদয় মাদ্রাসা অধিদপ্তর কে অভিযোগের সংযুক্ত কপি প্রেরণের জন্য বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে এবিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখন মিটিং আছি বিষয়টি নিয়ে আমি পরে কথা বলবো।

উল্লেখ্য, বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রচার হয়। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. মনির হোসেন এবং তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের বাংলা প্রভাষক তাঁর (ইনডেক্স নং ৩১৮৭৩৭)। তিনি পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত লক্ষ্মীপুর টির্চাচ ট্রেনিং কলেজেরও অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এমনকি লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যও ছিলেন।
কিন্তু একই সাথে তিনি একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় আইনজীবী তালিকাভূক্তি সনদ লক্ষ্মীপুর বার থেকে পরিবর্তন করে বিগত ১৮.১০.২০১০ইং তারিখে ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতিতে সংযুক্ত করেন (ইইঊ/ঝঊঈ-০২ /খধশংযসরঢ়ঁৎ-২০৯/২০১০/২০৮৪) সে মোতাবেক তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতির একজন নিয়মিত সদস্য হিসেবে ঢাকায় আইন পেশায়ও কর্মরত রয়েছেন। তার ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য নং ১৩৫৫৫। যাহা বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরি বিধি বর্হিভূত এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ ২০০৬ এর ৭ (ট) বিধির সরাসরি লংঘন।

মাদ্রাসার অভিভাকগণ এই প্রতিবেদক কে জানায়, বাংলা প্রভাষক নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেন না। তিনি প্রায় মাদ্রাসায় অনুপুস্থিত থাকায় ২০১৮ ইং সনে অনুষ্ঠিত আলিম পরিক্ষায় শুধু মাত্র বাংলা বিষয়ে ২৯ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য্য হয়। তিনি লক্ষ্মীপুর বি এড কলেজে অধ্যক্ষ পদে থাকলেও সেখানেও তিনি নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না।

যার কারনে শিক্ষার্থীরা বি এড প্রশিক্ষণে ভর্তি হয়েও কাংক্ষিত ফলাফল পাচ্ছে না বলে জানা গেছে। আলিম পরিক্ষায় অংশগ্রহন করে মাদ্রাসার ২৯ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয় যার কারনে মাদ্রাসার সুনাম চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়। এছাড়াও তিনি ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও লক্ষ্মীপুর টির্চাচ ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ বলে জানান।