নচিকেতা আজও সত্য-আজ যিনি কয়লা মন্ত্রী,কালকে দেখেন শিক্ষা

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অষ্টম শ্রেণি শেষ করে সাধারণ শিক্ষায় বিভাগ ভিত্তিক অর্থাৎ বিজ্ঞান বিভাগ, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ, মানবিক বিভাগ যে কোনো একটি বিভাগ নিয়ে লেখাপড়া করতে হয়। বাংলাদেশের অভিভাবকদের ৮০% চায় তার সন্তান বিজ্ঞান বিভাগে লেখাপড়া করুক।

অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৯০% শিক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়। ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে অপেক্ষাকৃত দূর্বল ও কম মেধাবী অথবা যারা বিজ্ঞান ভিত্তিক পড়াশোনা করতে অনিচ্ছুক তারা ভর্তি হয়। প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগ সম্পর্কে ক্লাসগুলোতে কিছুটা ধারণা পেলেও ব্যবসায় শিক্ষা সম্পর্কে কোনো ধারণা পায় না। তাই নবম শ্রেণির শুরুতে এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স, ব্যবসায় উদ্যোগ বিষয়গুলোতে সমস্যায় পড়তে হয়। বিষয়গুলো সম্পূর্ণ নতুন হওয়ার কারণে অধিক সময় ব্যয় করতে হয়।

সংখ্যায় অধিক পরিমাণে শিক্ষার্থী ব্যবসায় শিক্ষায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও কম মেধাবী শিক্ষার্থী বেশি থাকায় ফলাফল ভালো হয় না। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় তুমুল প্রতিযোগিতার মাঝে পড়তে হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষায় অনার্স ও মাস্টার্স করার বিষয়গুলো সীমিত। যেমন, হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স, ব্যবস্থাপনা, মার্কেটিং ও ব্যাংকিং। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন কম থাকায় শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রচুর অর্থ ব্যয় করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইইঅ/গইঅ কোর্সগুলো শেষ করতে হয়।

শিক্ষা জীবন শেষ করে চাকুরির বাজারে প্রবেশ করে সবার প্রথম পছন্দ থাকে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে চাকুরি করা। বিসিএস ক্যাডার ও নন ক্যাডার প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রশ্নের মান বণ্টনে সম্পূর্ণভাবে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিষয়সমূহ যেমন- হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স, মার্কেটিং, ব্যাংকিং ও ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে প্রশ্নের প্যাটার্ন তৈরি করা হয়েছে।

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রশ্নের প্যাটার্ন সাধারণ বিজ্ঞান, গাণিতিক যুক্তি, কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশ্নগুলো তাদের শিক্ষা জীবনে কোর্সভুক্ত বিষয় থেকে উত্তর দিতে পারে।

মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের বিষয়বলি, আন্তর্জাতিক বিষয়বলি, ভূগোল ও পরিবেশ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ, পৌরনীতি ও সুশাসন বিভাগের প্রশ্নের উত্তরগুলো তাদের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কোর্সের বিষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকায় উত্তর দেওয়া কিছুটা সহজ হয়ে থাকে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে সাধারণত প্রশ্ন না আসায় এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের নতুন করে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়। যা অন্যান্য বিভাগের তুলনায় বেশ কঠিন।

সরকারি অন্যান্য চাকুরিতে যেমন শিক্ষক নিবন্ধন, প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিয়োগ পরীক্ষা, বিসিএস, প্রিলিমিনারি প্রশ্নের আদলে হয়ে থাকে। তাই সব পরীক্ষায় হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো থাকে উপেক্ষিত।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় উপরের দিকে থাকে ব্যাংকে চাকুরী করা। কিন্তু সরকারি ব্যাংক গুলোতে সকল বিভাগের শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারে। ব্যাংক জবের নিয়োগের প্রশ্নের ধরন হয় বিসিএস প্রিলিমিনারী প্রশ্নের মতো করে তাই ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো করে। প্রাইভেট ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব রীতিতে প্রশ্ন করলেও সেখানেও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায় না। তাছাড়া কোম্পানির অফিস ব্যবস্থাপক, জোনাল ম্যানেজার, এরিয়া ম্যানেজার থেকে শুরু করে মার্কেটিং অফিসার পোস্টগুলোতে ব্যবসায় শিক্ষা ছাড়া অন্য বিভাগের লোকজনও চাকুরী করছে।

অথচ, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, পাইলট, প্যারা মেডিক্যাল, কৃষিবিদ, ঔষুধ কোম্পানীর রিপ্রেজেন্টেটিভ এইসকল চাকুরী বিজ্ঞান বিভাগ ছাড়া অন্য বিভাগ আবেদন করতেও পারে না।

চাকুরির বাজারে এই দুরবস্থা দেখে যারা ব্যবসায় শিক্ষায় পড়াশোনা করেছে তারা তাদের অনুজদেরকে এই বিভাগে না আসার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রতিটা বিভাগের শিক্ষার্থীরা তুমুল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা তাদের শিক্ষা জীবন শেষ করে তাই চাকুরীর বাজারে সকলের সমান সুযোগ রাখতে হবে। একজন চাকুরী প্রার্থীকে বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ, সুশাসন সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে সাথে সাথে ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং ইত্যাদি বিষয়গুলোতেও জ্ঞান থাকা আবশ্যক।

বেকারত্ব ও হতাশায় নিমজ্জিত ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের হতাশা থেকে রক্ষা করতে হলে বিসিএস, ব্যাংক ও অন্যান্য চাকুরীতে প্রশ্নের ধরন পরিবর্তন করতে হবে। চাকুরী পরীক্ষায় সকল বিভাগের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
মু. আসাদুল্লাহ- প্রভাষক (ব্যবস্থাপনা)
প্রিন্সিপ্যাল ফারুকি স্কুল এন্ড কলেজ,রায়পুর।লক্ষীপুর