রাজবাড়ীতে মেধাবী ছাত্র গৌতম দাসের পাশে দাঁড়ালেন ফ্রান্স প্রবাসী দানবীর আশরাফুল ইসলাম

কামাল হোসেন, রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ

অর্থের অভাবে লেখা পড়া করতে না পাড়া হরিজন সম্প্রদায়ের এক হতদরিদ্র মেধাবী ছাত্র গৌতম দাসের পাশে দাড়ালেন মানবতার বন্ধু দানবীর ফান্স প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম।

১২/০৯/২০১৯ ইং তারিখ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের বড়পুল এলাকায় এ্যাডঃ স্বপন সৌমের চেম্বারে মানবতার এক উজ্জ্বল নক্ষএ ফ্রান্স প্রবাসী দানবীর, আশরাফুল ইসলামের পাঠানো আর্থিক সহায়তা,হতদরিদ্র মেধাবী গৌতম দাসের হাতে তুলে দেন সিনিয়র এ্যাডঃ স্বপন কুমার সৌম।

অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর সিনিয়র এ্যাডঃ স্বপন কুমার সৌম। রাজবাড়ীর মানবিক সাংবাদিক খন্দকার রবিউল ইসলাম, মোর্শেদ আলম মালেক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী জিসান, নীল আকাশ সহ হরিজন সম্প্রদায়ের রতন কুমার দাস, সুমন কুমার দাস, রাজেশ কুমার মন্ডল ও গনমান্য ব্যাক্তিবর্গ ।

অর্থের অভাবে পড়ালেখা বন্ধ হতে যাওয়া একজন মেধাবী ছাত্র গৌতম দাস, রাজবাড়ীর বিনোদপুর বিবেকানন্দ পল্লী এলাকায় যার বসবাস। ভদ্র, শিক্ষিত মেধাবী একটি ছেলে। যাকে ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উত্তরসূরী হিসাবে গণ্য করা হয়। হত দরিদ্র ঘরের সন্তান গৌতম দাস। ৫ ভাই ১ বোনের সংসারে সবার ছোট তিনি। কিছু বুঝে উঠার আগেই তার বাবা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চির বিদায় নেন যার ফলে চরম অর্থ কষ্টে পড়ে যান। কিন্তু একজন গৌতম দাস যিনি দমে যাওয়ার পাএ নন। টিউশনি করে পড়ালেখার খরচ ও নিজের হাত খরচ চালিয়েছেন মাস্টার্স পর্যন্ত, রাজবাড়ী শহরে অবস্থিত ইয়াসিন উচ্চ বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসেই স্কুলের লাইটের আলোতেই চলেছে তার অদম্য পড়ালেখা।

গৌতম দাস ২০০৩ ইং সালে বিনোদপুর পৌর প্রাথ‌মিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী, ২০০৯ ইং সালে ইয়াছিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০১১ ইং সালে রাজবাড়ী সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি, ২০১৫ ইং সালে রাজবাড়ী সরকারী কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণী পেয়ে ইতিহাসে বিএ অনার্স ও ২০১৬ ইং সালে রাজবাড়ী সরকারী কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণী পেয়ে এমএ পাশ সহ সকল পরিক্ষায় সফলতার সহিত পাশ করেন।

তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি বিবেকানন্দ পল্লী এলাকা থেকে সর্ব প্রথম অনার্স এবং মাস্টার্স শেষ করেছেন। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে টিউশনি করে বিসিএস পরীক্ষা ও একটি সরকারী চাকরির জন্য অর্থ যোগান দেয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় তার পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ফ্রান্স প্রবাসী দানবীর আশরাফুল ইসলাম সহ রাজবাড়ীর কিছু মানবিক মানুষ।

রাজবাড়ীর সিনিয়র একজন সচেতন নাগরিক বলেন, ডিজিটাল যুগে বসবাস করে আমরা ডিজিটাল মানুষ হতে পারিনি। আমাদের মধ্যে এখনো বিদ্যমান রয়েছে ধর্মীয় গোড়ামী ও জাতিগত বৈশম্য যার শিকার হয়ে হাড়িয়ে যেতে বসেছে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত গৌতম দাসের মত অসংখ্য গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীরা। একটি সরকারী চাকরির জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। ধিক্কার জানাই এমন সমাজকে।

আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে গৌতম দাস বলেন, এটা আর্থিক সহযোগিতা হলেও আমার কাছে আশরাফুল ইসলাম কাকুর আশির্বাদ। তাঁকে আমাদের হরিজন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে শারর্দীয় দুর্গা পূজার অগ্রিম শুভেচ্ছা জানাই।