Tuesday , 27 October 2020
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » দেশগ্রাম » "মরা পদ্মায় বালু উত্তোলনের মহোৎসব" গোয়ালন্দে আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

"মরা পদ্মায় বালু উত্তোলনের মহোৎসব" গোয়ালন্দে আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

কামাল হোসেন, রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে উজানচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন ফকিরের বিরুদ্ধে মরাপদ্মা নদী হতে অবাধে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নদীর দরাপের ডাঙ্গী ও জামতলার হাট এলকায় দীর্ঘদিন ধরে তার বালু উত্তোলনের কারণে নদী পারের ও ফসলী জমি, কয়েকটি বসত ঘর ও গাছ-পালা নদীতে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে আছে অনেক বাড়ী-ঘর ও বাগান।
ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী এ নিয়ে তার সাথে কথা বললে নানা ধরণের হুমকি-ধামকিসহ তিনি এ নদী সরকারের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকায় লিজ এনেছেন বলে সকলকে মিথ্যা অপপ্রচার চালান। ফলে অসহায় লোকজন এ নিয়ে তার সাথে আর কোন বাক-বিতন্ডায় যাওয়ার সাহস পায় না।
সস্প্রতি ক্ষতিগ্রস্থদের একজন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে এ বিষয়ে সরকারী সহায়তা চাইলে তাকে লিখিত আকারে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসনে অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেয়া হয়। সে অনুযায়ী বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী প্রতিকার চেয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুশফিকুর রহমানের নিকট একটি লিখিত আবেদন করেন। তিনি দ্রুত এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থার জন্য গোয়ালন্দের এসিল্যান্ড আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দিয়েছেন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উজানচর দরাপের ডাঙ্গী এলাকায় প্রায় ৩ বছর ধরে আওয়ামীলীগ নেতা আবুল হোসেন ফকির ও তার ভাই লাবলু ফকির দুটি বড় আকারের ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীর পাড়ে বালু তুলে অথবা পাইপ যোগে আশ-পাশের বিভিন্ন এলাকায় বালু তুলে বিক্রি করছেন। এভাবে তারা হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। তাদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবশালী আরো অনেকে মরা পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া ক্যানেল ঘাট এলাকা থেকে দরাপের ডাঙ্গী এলাকা পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ কিমি এলাকায় নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এদের মধ্যে জাহিদ, সহিদ, রবিউল, নুর ইসলাম, কাদির ফকির, বড় এলাহী, ছোট এলাহী, আলাউদ্দিন, ফজলু, আসমত, মনা, ইসমাইল হোসেননাম জানা গেছে।
অভিযোগ আছে, বালু উত্তোলন চক্র রাজনৈতিক ছত্র ছায়ায় থাকার কারণে তাদের পেছনে অনেক লম্বা হাত রয়েছে। যে কারণে স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে এদের বিরুদ্ধে অভিযানে গেলেও পুরোপুরি সফল হতে পারেনি। অনেক সময় উপর মহলের ফোন পেয়ে ফিরে আসতে হয়েছে।
সরেজমিন দরাপের ডাঙ্গী এলাকায় গেলে ক্ষতিগ্রস্থ মিলন সরদার, চুন্নু মন্ডল, দুলাল শেখ, লতিফ খান, আবুল খান, রোকন উদ্দিন শেখ, আলাউদ্দিন শেখ, ওহেদ বেপারী, আলতাফ হোসেনসহ আরো অনেকেই বলেন, আমরা এই বালু খেকোদের হাত থেকে রেহাই চাই।
অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামীলীগ নেতা আবুল হোসেন ফকির দাবী করে বলেন, আমি কাউকে হুমকি-ধামকি প্রদান বা জোর করে বালু তুলি না। জমির মালিকদের সাথে সমঝোতা করে তাদেরকে দাবী অনুযায়ী টাকা দিয়ে বালু তুলি। নদী থেকে বালু তোলা আইনত নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার এ বিষয়ে আইনগত কোন ধারণা নেই।
এ প্রসঙ্গে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুশফিকুর রহমান জানান, অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনকারীরা যেই হোক না কেন আমরা অতিদ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*