Saturday , 24 October 2020
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » দেশগ্রাম » অজ্ঞান করেন এক শিক্ষক ধর্ষণ করেন অপরজন

অজ্ঞান করেন এক শিক্ষক ধর্ষণ করেন অপরজন

অনলাইন ডেস্ক:
অজ্ঞান করেন এক শিক্ষক, অপর শিক্ষক করেন ধর্ষণ। এমন নিকৃষ্ট ঘটনা ঘটেছে যশোরের মণিরামপুরে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্কুলপড়ুয়া ভাতিজীকে ধর্ষণ করে তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে চাচা। বরিশালে পাহারা বসিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া জামালপুরে পাঁচ বছরের শিশু, নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী, কুষ্টিয়ার মিরপুরে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী, অভয়নগরে ইউপি সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ও মাদারীপুরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্রী ও পটিয়ায় ৮ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। এদিকে, আখাউড়ায় শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টায় আসামিসহ বিভিন্ন স্থানে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

যশোর : যশোরের মণিরামপুরে সান্ধ্য কোচিংয়ের শিক্ষক তরিকুল ইসলাম এক দাখিল পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ঝাঁপা দক্ষিণপাড়া মহিলা দাখিল মাদরাসায় গিয়ে মাদরাসা সুপার শাহাদাৎ হোসেনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অন্যদিনের মতো গেল গত সোমবার ওই শিক্ষার্থী তাদের মাদরাসা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে সান্ধ্য কোচিংয়ে যায়। কোচিং শেষে অন্যরা চলে গেলে মাদরাসার সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম মেয়েটিকে একটি চকলেট খেতে দেয়। চকলেট খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে জ্ঞান হারায়। এরপর অন্য শিক্ষক তরিকুল ইসলাম তাকে মাদরাসার টয়লেটের পাশে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যায়।

এদিকে, মেয়েটি বাসায় না ফেরায় রাতে স্বজনরা তার খোঁজে মাদরাসায় গিয়ে দেখেন, কেউ নেই। একপর্যায়ে টয়লেটের গলিতে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় অজ্ঞান পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নেওয়া হয়। জ্ঞান না ফেরায় রাত দুইটার দিকে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে গত বুধবার বাড়িতে ফিরে মেয়েটি বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ লোকজন গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মাদরাসা হামলা চালিয়ে মাদরাসা সুপারকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে বিকেলে মণিরামপুর থানা পুলিশ সুপার শাহাদাৎ হোসেনকে উদ্ধার করে। এরপর সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

সহকারী পুলিশ সুপার (মণিরামপুর সার্কেল) রাকিব হাসান বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিলম্বিত সময়ের কারণে অভিযুক্ত শিক্ষক গা ঢাকা দিলেও তাকে গ্রেফতারে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্কুলপড়ুয়া ভাতিজীকে ধর্ষণ করে তার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে সজল মিয়া (২৫) নামে এক বখাটে। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে ওই কিশোরী ও তার পরিবারের সদস্যরা। সজল মিয়া ওই গ্রামের আওয়াল মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় সজলকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের। তারা সজলকে দ্রæত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তম‚লক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বখাটে সজলের উত্যক্তের কারণে নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। সজল সম্পর্কে ওই স্কুলছাত্রীর চাচা হয়। সজল একই গ্রামের মৃত আবেদ আলীর ছেলে সামছুল হককে (২৪) নিয়ে ওই স্কুলছাত্রীর বাড়িতে যায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে।

এ সময় সামছুল তার মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে। এক পর্যায়ে সজল ও সামছুলের সঙ্গে ওই ছাত্রীর ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে সামছুল পালিয়ে যায়। তবে সজলকে আটক করা হয়।

খবর পেয়ে সজলের বাবা আওয়াল মিয়া ও মা রেজিয়া বেগম সেখানে এসে ওই ছাত্রীর সঙ্গে ছেলের বিয়ে দেয়ার কথা বলে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে বিয়ের ব্যবস্থা না করে ‘এক সময় ছেলেরা এমন কাজ করেই থাকে, এটা কোনো বিষয় না’ বলে জানিয়ে দেয় তারা। এরপর ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন বলেন, আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।

পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর গলাচিপার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গুয়াবাড়িয়া গ্রামে এক গৃহবধূকে বাড়িতে একা পেয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়েছে। পাশের বাড়ির দুই দুর্বৃত্ত গত বুধবার রাতে তাকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন গৃহবধূ ও তার স্বজনরা। ধর্ষণে বাধা দেয়ায় দুর্বৃত্তরা গৃহবধূকে ব্যাপক মারধর করেছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে আত্মীয়-স্বজনরা অচেতন অবস্থায় ধর্ষিত গৃহবধূকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে। ঘটনার খবর পেয়ে গলাচিপা থানা পুলিশ ধর্ষকদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে।

নোয়াখালী : নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলা পরিষদের মাস্টাররোলের পিয়ন জাকির হোসেন (২৮) ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

পিয়ন জাকির হোসেন উপজেলার নদনা ইউনিয়নের শাকতোলা গ্রামের জালাল আহমেদের ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

জামালপুর : জামালপুরের দেওয়াগঞ্জে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের ভাঙার গ্রাম মসজিদের ধর্মীয় শিক্ষক মনিরুল ইসলাম মনিরের (৪০) বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন শিশুটির স্বজনরা।
অভিযুক্ত মনির একই গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে। সে মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা প্রকল্পের প্রাক প্রাথমিক কেন্দ্রের শিক্ষক।

শিশুটির নানি তৃষ্ণা আক্তার জানান, তার নাতনি প্রতিদিন সকালে মসজিদের মক্তবে পড়তে যায়। মক্তবের হুজুর সব শিশুকে বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে প্রায়ই ওই শিশুকে কোলে বসাতো। তবে গত বুধবার বিকালে তার নাতনিকে গোসল করানোর সময় গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখে তিনি অবাক হন। পরে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন এবং দ্রæত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। বুধবার রাতেই ওই শিশুটিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ইসলামি ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঘটনাটি জানতে পেরে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছি। কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। এরপর ওই শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়।

বরিশাল : জেলার হিজলা উপজেলার খাগেড়চর এলাকায় ১৩ বছরের এক কিশোরীকে পাহারা বসিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে থানার ওসি অসীম কুমার সিকদার জানান, ওই এলাকার কিশোরী কন্যাকে গত সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে একই এলাকার মানিক মাতুব্বর প্রতিবেশী ছালেহা বেগমের নির্মাণাধীণ ভবনে ডেকে নেয়। পরে ভবনের ভিতরে নিয়ে জোরপূর্বক কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় ধর্ষক মানিকের সহযোগি সজিব হাওলাদার ভবনের বাহিরে পাহারা দিচ্ছিলো। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হিজলা থানায় মামলা দায়েরের পর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভিকটিমকে শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।

মাদারীপুর : মাদারীপুর শহরের শান্তিনগর এলাকায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণের অপমান সহ্য করতে না পেরে রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ঐ স্কুল ছাত্রী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটলেও মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি গোপণ রাখে। শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল ও স্কুল ছাত্রীর সাথে কথা বলতে হাসপাতালে যায়। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আব্দুল ওহাব বলেন, স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা শোনার পর আমরা ঐ ছাত্রীর বাড়ীতে এবং হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। এখন পর্যন্ত স্কুল ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে আসেনি। তারা আইনগত সহযোগিতা চাইলে আমরা দিতে প্রস্তুত আছি।

অভয়নগর(যশোর) : যশোরের অভয়নগর উপজেলার চলিশিয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে তাকে অচেতন করে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে ওই ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই বন্ধুর সহযোগিতায় একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যায় স্থানীয় ইউপি সদস্যের ছেলে সাব্বির আহমেদ (২০)। সাব্বির আহমেদ নওয়াপাড়া সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সাব্বির আহমেদ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ওসি(তদন্ত) মো. গোলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর ডাক্তারী পরীক্ষার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এবং আইননুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের পটিয়ায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী (১৫) ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রীর পিতা বাদি হয়ে পটিয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।

পটিয়া থানা সুত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় অভিযুক্ত লোকমান হাকিমকে (৩০) এলাকাবাসী পুলিশের হাতে তুলে দেয়।লোকমান ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপ ইয়ার্ডের শ্রমিক বলে জানা যায়। অভিযুক্ত লোকমান হাকিম উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সি মির্জা বাড়ির মৃত মো. মুছার ছেলে।

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার মিরপুরে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১১) যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুর থানায় এ বিষয়ে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ভিকটিম বাড়ী উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে। সে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউডায় ৫ বছরের শিশু ধর্ষণ চেষ্টাকালে নেত্রকোনা জেলার এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। ওই যুবকের নাম হেকিম মিয়া (৩০)। সে নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টি থানার জিমান গ্রামের মো. আবদুল জব্বরের ছেলে। গত বুধবার বিকেলে উপজেলার বড়গাঙ্গাইল থেকে তাকে আটক করা হয়।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*