Monday , 26 October 2020
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » দৈনিক সকালবেলা » উপজেলার খবর » সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে তিস্তা চুক্তি আশা করছেন মোদি

সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে তিস্তা চুক্তি আশা করছেন মোদি

অনলাইন ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। একই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। নয়াদিল্লি, ভারত, ৫ অক্টোবর। ছবি: পিআইডি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। একই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। নয়াদিল্লি, ভারত, ৫ অক্টোবর। ছবি: পিআইডি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে প্রস্তাবিত তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরে ভারতীয় পক্ষ কাজ করছে। এদিকে সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আট বছর আগে দুই দেশের সরকারের সম্মতি অনুযায়ী বাংলাদেশ এই চুক্তি আশু স্বাক্ষরের জন্য গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে।

এর আগে আজ শনিবার ভারতের রাজধানীতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি (শেখ হাসিনাকে) অবহিত করেছেন যে তাঁর সরকার ভারতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে চুক্তিটি সম্পাদনের জন্য কাজ করছে।’

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘২০১১ সালে দুই সরকারের সম্মতি অনুযায়ী তিস্তা নদীর পানিবণ্টনে ফ্রেমওয়ার্ক অব ইন্টেরিম অ্যাগ্রিমেন্ট আশু স্বাক্ষর ও বাস্তবায়ন’-এর জন্য বাংলাদেশের জনগণ অপেক্ষায় রয়েছে—এ কথা বলার পরিপ্রেক্ষিতে মোদি তাঁর বক্তব্য দেন।

বিবৃতি অনুযায়ী দুই প্রধানমন্ত্রী যুগপৎভাবে অপর ছয়টি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনেও দ্রুততার সঙ্গে সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত বিনিময় এবং ফ্রেমওয়ার্ক অব ইন্টেরিম অ্যাগ্রিমেন্টের খসড়া প্রস্তুত করার জন্য যৌথ নদী কমিশনের কারিগরি পর্যায়ের কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন। অপর নদীগুলো মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমার উল্লেখ করে এতে বলা হয়, দুই নেতা ফেনী নদীর পানিবণ্টনে খসড়া ফ্রেমওয়ার্ক অব ইন্টেরিম অ্যাগ্রিমেন্ট সুনির্দিষ্ট করারও নির্দেশ দেন।

মোদির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গা সমস্যাও উঠে আসে উল্লেখ করে বলা হয়, মোদি এসব বাস্তুচ্যুত লোককে নিরাপদ, দ্রুত ও স্থায়ীভাবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের নিজ বাড়িঘরে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হন।

৫৩ দফা বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিত ও আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতিসহ তাদের (রোহিঙ্গাদের) ফিরে যাওয়া সুগম করতে আরও বৃহত্তর প্রয়াস গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও তাঁরা (দুই নেতা) একমত পোষণ করেন। এতে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের’ আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নয়াদিল্লি কক্সবাজারের অস্থায়ী ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে বাংলাদেশ সরকারের মানবিক প্রয়াসে সহায়তা করতে পঞ্চম কিস্তি মানবিক সহায়তা সরবরাহ করবে। তিনি বলেন, সহায়তার এই কিস্তিতে থাকবে তাঁবু, ত্রাণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম এবং মিয়ানমার থেকে আসা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে এক হাজারটি সেলাই মেশিন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, ভারত রাখাইন রাজ্যে এ পর্যন্ত ২৫০টি বাড়ি তৈরির প্রথম প্রকল্প সম্পন্ন করেছে এবং দেশটি এখন ওই এলাকায় অপর একগুচ্ছ আর্থসামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শেখ হাসিনা মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত লোকদের প্রয়োজন মোতাবেক সহায়তায় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ভারতের মানবিক সহায়তার জন্য ঢাকার কৃতজ্ঞতা জানান।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*