ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র পাশে দাড়ানোয় তানিয়া এখন ঢাবি”তে

দিন মজুর বাবার স্বপ্ন ছিল একমাত্র মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে মুখ উজ্জ্বল করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হলো কিন্তু বাবা দেখে যেতে পারলেন না।

পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালায়। ক্যান্সারে বাবার মৃত্যু হলো। তবুও থেমে থাকেনি স্বপ্নজয়ের যুদ্ধ। তিনবেলা ভাত জুটেনি তার। অপুষ্টি, দরিদ্রতা তাকে দমাতে পারিনি।
অন্যর জমিতে ছোট্ট একটি কুঁড়েঘর। বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। বাড়ির পাশের লাইট পোস্ট। রাত হলেই সেখানে বই খাতা নিয়ে বসে পড়তো অদম্য মেধাবী তানিয়া।
জেলা শহরের কাঞ্চন নগর মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়ে এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগে মেধা তালিতায় ভর্তির সুযোগ হলো।
কিন্তু টাকা নেই। এই বুঝি বাবার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেলো! এরই মধ্যে ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র পাশে দাঁড়ালেন তার। এখন সে ভর্তি হতে পারবে।
এ গল্প ঝিনাইদহ জেলা শহরের কাঞ্চননগর গ্রামের তানিয়া সুলতানার। তার বাবা কামাল হোসেন ভ্যানচালক ছিলেন। ৩ বছর আগে মারা গেছেন তিনি। মা আছিয়া বেগম। অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন।
তানিয়ার মা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। উচ্চ শিক্ষা নিয়ে হতাশ ছিলাম। মেয়র দায়িত্ব নেয়ার কারণে খানিকটা স্বস্তি মিলেছে তার।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু বলেন, তানিয়ার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে থাকতে পেরে খুশি।
তিনি আরও বলেন, তানিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার সব ব্যয়ভার বহন করা হবে।