ঢাকা- খুলনা মহাসড়কে সংস্কার কাজে চুক্তির মেয়াদ থাকার অজুহাতে ঢিলেতালে চলছে মহাসড়কের সংস্কার কাজ গোয়ালন্দে ৯ কিলোমিটার মহাসড়কে মহা-দূর্ভোগ

গোয়ালন্দ রাজবাড়ীঃ ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সংস্কার কাজে চুক্তির মেয়াদ থাকায় গোয়ালন্দ উপজেলার ৯ কিমি এলাকার কাজ স্থগিত রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এতে করে সড়কে সৃষ্ট হওয়া ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও ভাঙ্গাচুড়ায়, যানবাহনের যাত্রী ও চালকদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কমে গেছে যানবাহন চলাচলের গতি। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। রাজবাড়ীর সড়ক বিভাগ বলছে ওই সড়কে সংস্কার কাজ চলমান আছে। তবে কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এখন অনেক সময় বাকী আছে। তাই সড়কের খারাপ অবস্থা দুর করার জন্য জরুরী ভিত্তিতে কাজ করা হবে।

সরেজমিন দেখা যায়, মেসার্স মীর আক্তার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর জেলার শেষ প্রান্ত হতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ১০ কিমি ও গোয়ালন্দ উপজেলার ৯ কি.মি মিলে মোট ১৯ কি.মি এলাকার সংস্কার কাজ মাস খানেক আগে শুরু করে। ওই প্রতিষ্ঠানটি রাজবাড়ী সদরের অংশটি অর্থাৎ বসন্তপুর থেকে মোকবুলের দোকান পর্যন্ত কাজ করার পর গোয়ালন্দ উপজেলার অংশ ফেলে রেখেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্টরা জানায়, কাজ সম্পন্ন করতে হাতে সময় থাকার অজুহাতে ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের সাথে আতাত করে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগ সাজসে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। কারন ওই সড়কের ভাঙ্গাচোরা কাজের মেরামত ব্যয় দেখিয়ে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়।

রাজবাড়ীর একটি চিহ্নিত মহল ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা মিলে এই অপকর্মের টাকা ভাগাভাগি করে থাকে। যার ফলে সড়ক মেরামত হয়ে গেলে ওই ব্যয় দেখিয়ে অন্তঃত কয়েক বছর টাকা ভাগাভাগি করা সম্ভব হবে না। তাই ঠিকাদারের কাজ শেষ করার আগে মাঝে কিছু মেরামত ব্যয় দেখানোর কৌশল করার চেষ্টা চলছে। তবে রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কেবিএম সাদ্দাম এ অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবী করে বলেন, ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালামাল না থাকায় সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে। মালামাল সংগ্রহ করা হলে তারা আবার কাজ শুরু করবে। তাছাড়া জরুরী ভিত্তিতে ইতিমধ্যে ভাঙ্গাচোরা জায়গায় কাজ করা হচ্ছে।
এদিকে সংস্কার কাজ ফেলে রাখায় গোয়ালন্দ উপজেলার মোকবুলের দোকান হতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত ৯ কি.মি মহাসড়কের চরম বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে অবস্থা আরো বেগতিক হয়ে পড়েছে। মহাসড়কের জমিদার ব্রীজ হতে গোয়ালন্দ উপজেলার সামনে স্থাপিত ট্রাক ওয়েট স্কেল পর্যন্ত অত্যাধিক খারাপ হয়ে পড়েছে। তাছাড়া স্কেলের কারনে অধিকাংশ সময় সড়কের অর্ধেক অংশ জুড়ে প্রতিনিয়ত ট্রাকের সিরিয়াল থাকায় ভাঙ্গাচোরা অর্ধেক সড়কে চালকদের আরো বেশী বিপাকে পড়তে হয়। এ ছাড়া ৯ কি.মি মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাসষ্ট্যান্ড, পৌর জামতলা বাজার সহ দৌলতদিয়ার বাংলাদেশ হ্যাচারী হতে দৌলতদিয়া টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় ৩ কি.মি অংশের অবস্থা অত্যাধিক ঝুঁকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। এ অংশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সময় বড় বড় গর্তে পানি জমে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চালকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও পোহাতে হচ্ছে নানা দুর্ভোগ।

সড়কের পাশে অবস্থিত দোকাদার ও পথচারীরা জানান, গর্তের মধ্যে চলন্ত যানবাহনের চাকা পড়লে নোংরা কাঁদাপানি ছিটে দোকানের মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। সড়কের পাশ দিয়ে রিক্সা ভ্যানে যাতায়াত কালে লোকজনের শরীর নোংরা হয়ে যায়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সড়কে ভাঙ্গাচোরার কারনে এলাকায় প্রায়ই যানবাহন উল্টে যায়। ছোট বড় যানবাহনগুলো গর্ত এড়িয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায় মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় যানবাহনের যাত্রীরা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। কিছুদিন পরপর সওজ’র লোকজন এসে রাস্তা মেরামত করে যায়। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই আবারো নষ্ট হয়ে যায়। আসলে তারা মেরামত করে নাকি লোক দেখায় বুঝি না।

গোয়ালন্দ উপজেলার কেকেএস কর্মকর্তা শামসুল হক, শাহাদত হোসেন, মঞ্জু ফকীর সহ অনেকেই জানান, তাদেরকে মোটর সাইকেল চালিয়ে প্রতিদিন এ মহাসড়ক দিয়ে কর্মস্থলে যেতে হয়। বড় বড় যানবাহনের ভিড়ে ভাঙা রাস্তায় মোটর সাইকেল চালানো খুবই বিপদজনক হয়ে উঠেছে। অসংখ্য গর্তের কারণে সাইকেল সোজা চালানো যায় না। আঁকা-বাঁকা চলতে গিয়ে সব সময় আশংকার মধ্যে থাকতে হয়।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কেবিএম সাদ্দাম জানান, আমি রাস্তার খারাপ অবস্থা দেখেছি। অতি দ্রুত জরুরীভাবে মেরামত কাজ করা হবে। ফরিদপুরের মেসার্স মীর আক্তার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২৪ কোটি টাকার এ কাজটি বাস্তবায়ন করছে। আগামী ৪ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত সময় থাকলেও তার অনেক আগেই রাস্তার অবশিষ্ট কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছি। মহাসড়কের বসন্তপুর থেকে দৌলতদিয়া টার্মিনাল হয়ে বাইপাস সড়কসহ মোট ১৯ কিমি এলাকায় ৫০ মিলি মিটার পুরুত্ব দিয়ে কার্পেটিং কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। ইতিমধ্যে মোকবুলের দোকান পর্যন্ত প্রায় ১০ কিমি এলাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকী ৯ কিমি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে দুর্ভোগ থাকবে না।