শ্রমিকদের সংগঠন করার সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে

অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র আজ ৮ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিক সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি পালন করেছে। সমাবেশ থেকে দক্ষিণখানের চৈতী গ্রুপ ও সুপারটেক্স গার্মেন্টে বেআইনিভাবে চাকুরিচ্যুত ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকে চাকুরিতে পুনর্বহাল করা, হামলা-হুমকি-নির্যাতন বন্ধ এবং আইএলও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ অনুসারে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করতে দেয়ার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ঢাকার উত্তরার উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকার দশটি কারখানার শ্রমিকরা শ্রম আইনের সকল বিধিবিধান মেনে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করেছিল। যা নিবন্ধনের জন্য গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ইং তারিখে ঢাকা বিভাগীয় রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়নের কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা হয়। ইউনিয়ন গঠন প্রক্রিয়া শুরু হলে শ্রমিকদের ওপর নানারকম হুমকি, হয়রানি ও নির্যাতন নেমে আসে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ইউনিয়ন গঠন করলে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে এই ধরনের আক্রমণ চালানো শ্রম আইনের ১৯৫ ধারার বিচারে মালিকের শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তা সত্ত্বেও চৈতী গ্রুপের তিনটি এবং সুপারটেক্স কারখানায় দুই শতাধিক ইউনিয়ন সদস্য ও ইউনিয়নের কার্যকরি কমিটির কর্মকর্তাকে বেআইনীভাবে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রম আইনের ১৮৬ ধারা অনুযায়ী ধারা ২৬ এ যা কিছুই থাকুক না কেন ইউনিয়নের আবেদন অনিস্পন্ন থাকাকালে কোনো কর্মকর্তা ও সদস্যদের চাকুরির অবসান করা যায় না। অথচ মালিক আইন অমান্য করে মালিকের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ও কারখানার কর্মকর্তারা হুমকির মুখে জোরপূর্বক ২৬ ধারায় এই শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করেছে। মালিকের এহেন আচরণ বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৯৫, ১৮৬ ও ১৯৬(ক) এর গুরুতর লঙ্ঘন। যা অসৎ শ্রম আচরণ, এন্টি ট্রেড ইউনিয়ন ডিসক্রিমিনেশন এবং ফৌজদারি অপরাধ।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এছাড়াও গাজীপুরের গ্রিভান্সি গ্রুপ, আশুলিয়ার মদিনা প্যাল এবং মালিবাগের ড্রাগন সোয়েটার কারখানায় শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করা, বেতন বকেয়া রেখে রিজাইন দেয়ার জন্য চাপ দেয়াসহ নানান জুলুম নির্যাতন চলছে। মালিকদের এইসকল বেআইনি তৎপরতার সত্ত্বেও সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বিকার এবং নিশ্চুপ ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান নেতৃবৃন্দ।

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাড. মন্টু ঘোষ-এর সভাপতিত্বে এবং শ্রমিকনেতা সাদেকুর রহমান শামীমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমিন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, জালাল হাওলাদার, এমএ শাহীন, সাইফুল্লাহ আল মামুন, মঞ্জুর মঈন, জয়নাল আবেদীন, আজিজুল ইসলাম, মো. শাজাহান, শফিকুল ইসলাম পাঙ্খা, এমদাদুল হক, জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উ”চারণ করে বলেন, অবিলম্বে চাকুরিচ্যুত শ্রমিকদের স্বপদে পুনর্বহাল এবং ট্রেড ইউনিয়ন করার ক্ষেত্রে সকল বাধা অপসারণ না করা হলে আন্দোলনের বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে।