শ্রমিক আন্দোলন শ্রমিকদের হাতে নেই : মেনন

শ্রমিক আন্দোলন শ্রমিকদের হাতে নেই। চলে গেছে এনজিওদের হাতে। শ্রমিক আন্দোলন, শ্রমিক সমাবেশ দেখিয়ে টাকা পাওয়া যায়। বাশার ভাই শ্রমিক আন্দোলন করে গেছেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য, শ্রমজীবি মানুষের মুক্তির জন্য। বাশার ভাইদের সময় শ্রমিক নেতারা ছিলেন নির্লোভ, নির্মোহ আর বাশার ভাই ছিলেন তাদের পুরোধা। কোন লোভ-লালসা বাশার ভাইদেরকে শ্রমিক আন্দোলন থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। বাশার ভাইদের মত শ্রমিক নেতা মাঠে নামলে হাজার হাজার শ্রমিক মাঠে নামতেন। বর্তমান সময়ে এনজিওরা তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য মাঠে নামে। নেতারা তাদের কথা মত আন্দোলনের গতি বাড়ায়, গতি কমায়।

আজ ৮ নভেম্বর ২০১৯, সকাল ১১টায় ঢাকা মহানগরীর শিশু কল্যান পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে পার্টির সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা কমরেড আবুল বাশারের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় কমরেড মেনন একথা বলেন।

কমরেড মেনন আরো বলেন, আবুল বাশার শুধুমাত্র শ্রমিকনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা। ’৭১-এ রণাঙ্গণে তিনি যুুদ্ধ করেছেন। তিনি এদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনেও অবদান রেখে গেছেন।

মেনন বলেন, তিনি উপরসা কোন শ্রমিক নেতা ছিলেন না। তিনি কারখানায় কাজ করেছেন। কাজের মধ্যদিয়ে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে লড়াই করে সামনের কাতারে চলে এসেছেন এবং লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি কমরেড আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুস্ সালাম খান, কমরেড আবুল বাশারের জামাতা, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য, কমরেড শরীফ শামশির, ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক কমরেড কিশোর রায়, মহানগর সদস্য কমরেড জাহাঙ্গীর আলম ফজলু প্রমুখ। সভার শুরুতে সদ্য প্রয়াত  বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরি সভাপতি, চট্টগ্রাম ৮ আসনের সাংসদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মঈন উদ্দীন খান বাদল ও সাবেক মন্ত্রী, অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার প্রতি গভির শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।