বাংলাদেশের প্রথম ক্যাম্পাস মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মিত হবে বাঙলা কলেজে

রাজধানী মিরপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সরকারি বাঙলা কলেজে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় বুদ্ধিজীবীদের হত্যা ও গণকবরের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য নির্মাণ হবে জাদুঘর।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বিকাল ৪ টায় বিটিভির এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ফেরদৌসী খান পপি। এসময় তিনি ক্যাম্পাস ও তার সফলতার সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

মিরপুর অঞ্চলে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ ও বাঙলা কলেজ শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হন ড. ফেরদৌসী। সাক্ষাৎকারে তার এ সাফল্যের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কলেজের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি এবং আমি চাই আমার প্রতিষ্ঠান হবে দেশের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এই লক্ষ্যে আমি এগিয়ে যাচ্ছি। আর এক্ষেত্রে আমি সকলের সহযোগিতা পাচ্ছি।’

ক্যাম্পাসের অবকাঠামো ও লেক/খাল সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমি যখন ক্যাম্পাসে আসি তখন অনেক অগোছালো ছিল ক্যাম্পাসটা। তারপর সকলের প্রচেষ্টা ও সরকারের সহযোগিতায় আজ এই উন্নয়ন। আর পিছনের খালটাও অনেক অপরিষ্কার ছিল, পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় এটি পরিষ্কার করানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘এই খালের চতুর্পাশে মেরামত করা হবে এবং খালের পাশে বসার সুব্যবস্থা করা হবে।

ড. ফেরদৌসী খান পপি বলেন, ‘১৯৭১ এ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় সহযোগীরা বাঙলা কলেজে ক্যাম্প স্থাপন করে অজস্র মুক্তিকামী মানুষ ও বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে বধ্যভূমি ও গণকবর স্থানগুলো চিহ্নিত করেছি এবং আমি চাই এখানে তাদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য জাদুঘর করব। তিনি বলেন, লন্ডনে এরকম দেখা যায় যে সব প্রতিষ্ঠানে জাদুঘর থাকে, আমি সেরকম একটা মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর তৈরি করতে চাই। জাতির পিতার ১০০তম জন্ম বার্ষিকীতে সরকারি বাঙলা কলেজ বাংলাদেশ সরকারকে এটা উপহার দিবে।

যাতে করে শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা শহীদ হয়েছেন তাদের সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভ করতে পারে।’