স্বাধীনতার ৪৮বছরেও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক নির্মাণ হয়নি বাঙলা কলেজে!!

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর মিরপুরে বিভিন্ন স্থানে১৯৭১সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর যে বধ্যভূমিগুলো স্বাধীনতার পরে আবিষ্কৃত হয়েছে, তার মধ্যে সরকারি বাঙলা কলেজ অন্যতম।তবে এখনো বধ্যভূমি সংরক্ষণ হয়নি। সারাদেশে যে বধ্যভূমি চিহ্নিত করা হয়েছে, এর মধ্যে সরকারি বাঙলা কলেজ অন্যতম। কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবন সংলগ্ন বাগানে আম গাছের মোটা শিকড়ের গোড়ায় মাথা চেপে ধরে জবাই করা হতো, ফলে হত্যার পর এক পাশে গড়িয়ে পড়তো মাথাগুলো অন্য পাশে পড়ে থাকতো দেহগুলো। মুক্তিযুদ্ধের সময় জুড়েই বাঙলা কলেজে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চলেছে, হয়েছে নারী নির্যাতন। বর্তমান বিশালায়তন মাঠটি তখন ছিল ঝোপ জঙ্গলে ভর্তি।বিজয়ের মুহুর্তে তখন এই মাঠসহ পুরো এলাকা ও কলেজ জুড়ে পড়েছিল অজস্র জবাই করা দেহ, নরকংকাল, পচা-গলা লাশ।

  • কলেজের বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবিতে ২০০৭ সালে আন্দোলন করে তৎকালীন শিক্ষার্থীরা। তখনকার অধ্যক্ষ সুরাইয়া সুলতানা মুক্তিযুদ্ধকে ” ফালতু একটি চাপ্টার বলে অভিহিত করে”। তখন গঠিত হয় বাঙলা কলেজ বধ্যভূমি সংরক্ষণ উদ্যোক্তা কমিটি। আন্দোলন ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বজনমত কে সম্পৃক্ত করার জন্য প্রয়াস নেওয়া হয়। ২০১০ সালে কলেজে স্মৃতিফলক নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ প্রাপ্ত হয়েছে।কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, ৯ বছরেও কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ হয়নি।
তবে আশার কথা হলো বর্তমান অধ্যক্ষ ড.ফেরদৌসি খান কলেজ এর ১০ টি জায়গা চিহ্নিত করেছেন এবং সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
এক শিক্ষার্থী বলেন,বর্তমান প্রজন্মের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে সরকারের কাছে একটাই দাবি যত দ্রুত সম্ভব আমাদের কলেজের বধ্যভূমি সংরক্ষণ করুন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিন।যেখানে আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনের দ্বারপ্রান্তে সেখানে স্বাধীনতার সূর্য সন্তানদের এরকম আত্মত্যাগ স্বীকৃতি পেল না,এটা আমাদের অনেক পীড়া দেয়।