Thursday , 4 March 2021
Home » শিক্ষাসংস্কৃতি » ক্যাম্পাস » ঢাকা কমার্স কলেজের যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন 

ঢাকা কমার্স কলেজের যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন 

স্টাফ রিপোর্টারঃ আজ শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস। বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণের এ দিবসটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে ঢাকা কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ শোকর‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন এবং মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন।

এসময় শোকর‌্যালি ও পুষ্পার্ঘ অর্পণ কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আবু মাসুদ ও শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক এস এম আলী আজম।

শিক্ষার্থীরা শহিদ বুদ্ধিজীবীদের ছবি ও পরিচয় সম্বলিত ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষে শ্লোগান দিয়ে শোকর‌্যালিতে অংশ নেয়।

উল্লেখ্য, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস বাংলাদেশে একটি বিশেষ দিবস। ১৯৭১ সালের ১০ থেকে ১৪ই ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। এ কাজে বাংলাদেশীদের মধ্যে রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর লোকেরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের প্রাক্কালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বরেণ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের চোখ বেঁধে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে তাদের ওপর চালায় নির্মম-নিষ্ঠুর নির্যাতন, তারপর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বুঝতে পেরেছিল, তাদের পরাজয় অনিবার্য। তারা আরো মনে করেছিল যে, বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা বেঁচে থাকলে এ মাটিতে বসবাস করতে পারবে না। তাই পরিকল্পিতভাবে জাতিকে মেধাহীন ও পঙ্গুত্ব করতে দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের বাসা এবং কর্মস্থল থেকে রাতের অন্ধকারে পৈশাচিক কায়দায় চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে হত্যা করে। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের হত্যাকান্ড ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম বর্বর ঘটনা, যা বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী মানুষকে স্তম্ভিত করেছিল। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের পর ঢাকার মিরপুর, রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বুদ্ধিজীবীদের লাশ ফেলে রেখে যায়। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পরপরই নিকট আত্মীয়রা মিরপুর ও রাজারবাগ বধ্যভূমিতে স্বজনের লাশ খুঁজে পায়। বাংলাপিডিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, শহিদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা মোট ১ হাজার ১শ ১১ জন, যার মধ্যে শিক্ষাবিদ ৯৯১ জন, চিকিৎসক ৪৯ জন, আইনজীবী ৪২ জন, সাংবাদিক ১৩ জন, শিল্পী-সাহিত্যিক ৯ জন, প্রকৌশলী ৫ জন ও অন্যান্য ২ জন। প্রতিবছর বাংলাদেশের এ সকল বরণীয়দের স্মরনীয় করে রাখতেই ১৪ ডিসেম্বরের এ দিনটিকে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*