টেস্ট চার দিনে নেমে আসলে স্পিনাররা বঞ্চিত হবে; টেন্ডুলকার

চার দিনের টেস্ট চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে আইসিসি। এদিকে সাবেক এবং বর্তমান ক্রিকেটারদের ভেতর থেকে চার দিনের টেস্ট নিয়ে উঠছে আপত্তি। বিরাট কোহলি তো আগেই চার দিনের টেস্টকে ‘না’ বলেছেন। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান রিকি পন্টিংয়ের পাশাপাশি আপত্তি উঠেছে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান জাতীয় দল থেকেও। অধিনায়ক টিম পেইন, নাথান লায়নের পর পেসার জশ হ্যাজেলউডও চার দিনের টেস্টের বিপক্ষে। হ্যাজেলউড পেসার হয়েও ভাবছেন স্পিনারদের কথা। ঠিক একই দিকটা মাথায় এসেছে কিংবদন্তি এক ব্যাটসম্যানেরও; শচীন টেন্ডুলকার।

টেস্ট চার দিনে নেমে আসলে স্পিনাররা বঞ্চিত হবে বলে মনে করছেন টেন্ডুলকার। টেস্টের প্রথম দিনে পেসারদের বল করতে না দেওয়া আর পঞ্চম দিনে স্পিনারদের বল করতে না পারাকে একই চোখে দেখছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ এ রান সংগ্রাহক। গোটা বিষয়টাই নির্ভর করছে উইকেটের ওপর। বিশ্বের যে প্রান্তেই খেলা হোক টেস্টের প্রথম দিনে উইকেট যেমন কিছুটা হলেও পেসবান্ধব হয় তেমনি পঞ্চম দিনের ভঙ্গুর উইকেট থাকে স্পিনারদের পক্ষে, আর বলটাও চকচকে থাকে না। শেষ দিনটা তাই স্পিনারদের কাছে লোভনীয়। হ্যাজেলউডের ভাষায়, এই একটা অতিরিক্ত দিনের জন্যই ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে আলাদা টেস্ট ক্রিকেট।

টেন্ডুলকার বলেন, ‘পঞ্চম দিনে অসমান উইকেটের সুবিধা নিয়ে রুক্ষ বলে বল করতে মুখিয়ে থাকেন স্পিনাররা। এসবই টেস্ট ক্রিকেটের অংশ। স্পিনারদের কাছ থেকে এ সুবিধাটুকু কেড়ে নেওয়া কি যৌক্তিক? টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে, টি টেন ছাড়াও ১০০ বলের ক্রিকেট আছে। টেস্ট ক্রিকেট হলো সবচেয়ে খাঁটি সংস্করণ। এটা নিয়ে নাড়াচাড়া করা ঠিক না।’ ভারতের সাবেক এ ব্যাটসম্যান মনে করেন, টেস্ট থেকে একদিন কেটে নিয়ে সংস্করণটি জনপ্রিয় করা যাবে না। এর চেয়ে ভালো উইকেট বানানোয় আইসিসিকে গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেছেন টেন্ডুলকার।

টেন্ডুলকার নিজের যুক্তি দিয়ে বলেছেন, ‘আমার মতে, আইসিসির উচিত ভালো মানের উইকেট তৈরি করা। বল স্পিন, সিম (মুভমেন্ট), সুইং ও বাউন্স পাক। তখন খেলাটা এমনিতেই জীবন্ত হয়ে উঠবে, ফলও আসবে বেশি। এখন মরা ম্যাচের সংখ্যা অনেক বেশি।’

হ্যাজেলউডের মতে, একদিন কেটে নিলে টেস্ট ক্রিকেট খেলার ‘আর্ট’ নষ্ট হবে। আর তাতে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে স্পিনারদের ওপর। কারণ স্পিনাররা পঞ্চম দিনের ভঙ্গুর ও অসমান উইকেটে নিজেদের ‘শিল্প’ দেখানোর সুযোগ পান। ‘ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা নিউজিল্যান্ডের উইকেটে সবাই স্পিনারের বদলে চার পেসার খেলাতে চায়। অস্ট্রেলিয়ায় তাদের শুধু খেলানো হয় শেষ দিনে—দুবাইয়েও তাই, সাড়ে তিন দিনে কোনো স্পিন নেই। এটা স্পিনারদের ক্ষতি করবে। উইকেট ঠিকঠাক বানানো হবে কি না তা নিশ্চিত নই। এতে (চার দিনের টেস্টে) দীর্ঘ সময় ব্যাট করে প্রতিপক্ষকে ভীষণ চাপে ফেলার শিল্প হারিয়ে যাবে।’

পন্টিং মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেটের বর্তমান সংস্করণ থেকে একদিন কেটে নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। এতে ড্র টেস্টের সংখ্যা বাড়বে বলেই মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ টেস্টজয়ী সাবেক এ ক্রিকেটার, ‘আমি এটার (চার দিনের) বিপক্ষে, তবে এর পক্ষে যারা বলছেন তাদের কাছ থেকে যুক্তি শুনতে চাই। গত কয়েক বছরে আমরা প্রচুর চার দিনের ম্যাচ খেলেছি। তবে গত এক দশকে ড্র টেস্টের সংখ্যা দেখে মনে হয়, সবগুলো ম্যাচ চার দিনের হলে ড্রয়ের সংখ্যা বাড়ত। এটা কেউ দেখতে চাইবে না বলেই আমার ধারণা।’

শেন ওয়ার্ন, মাইকেল ভন, মার্ক টেলরের মতো সাবেকেরা চার দিনের টেস্টের পক্ষে। এদিকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী কেভিন রবার্টস এসইএন রেডিওকে বলেছেন চার দিনের টেস্ট চালুর বিষয়টা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।