Thursday , 26 November 2020
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » দৈনিক সকালবেলা » উপজেলার খবর » পটুয়াখালীতে সংস্কারের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী শাহী মসজিদ!

পটুয়াখালীতে সংস্কারের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী শাহী মসজিদ!

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সব চেয়ে প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম নিদর্শন শাহী মসজিদ। সাড়ে ৫শ বছর পূর্বে সুলতানী শাসনামলে স্থাপিত এ শাহী মসজিদের নামানুসারে এলাকার নাম হয়েছে মসজিদবাড়িয়া। পরবর্তিতে মজিদ নামে এক ইউপি চেয়ারম্যান মসজিদ বাড়িয়ার পরিবর্তে ইউনিয়নের নাম মজিদবাড়িয়া নামকরণ করেন বলে জানা যায়।

দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বর্তমানে মসজিদটির সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। তারপরও ঐতিহাসিক এ মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ভীড় করে শতশত বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ইলিয়াছ শাহী বংশের এক স্বাধীন সুলতান ছিলেন রুকনদ্দিন বরবক। তিনি ১৪৪৯ সাল থেকে ১৪৭৪ সাল পর্যন্ত বৃহত্তম বাংলার শাসন কর্তা ছিলেন। তার শাসনামলের অমরকৃর্তি ১৪৬৫ সালে নির্মিত হয় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহাসিক মজিদবাড়িয়া এ শাহী মসজিদ। আর উজিয়ল খান নামে এক মিস্ত্রী মসজিদটির নির্মান কাজ করেন বলে জানা যায়। মসজিদে তিনটি দৃষ্টি নন্দন কারুকার্য খচিত মেহরব, পূর্বদিকে তিনটি খিলান পথ এবং ৬ টি আটকোনার মিনার সদৃশ্য পিলার রয়েছে। একটি বারান্দাযুক্ত মসজিদটির পূর্ব উত্তর ও দক্ষিণ দিকে দু’টি করে জানালা রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বর্তমানে দরজা-জানালার কপাট ও পিলারগুলোর অস্তিত্ব ধ্বংশের শেষ পর্যায় পৌছেছে। বিশাল একটি গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটি কোন রড-সিমেন্ট ছাড়াই চুনা-সুরকি ও পোরামাটির ইট দিয়ে নির্মান করা হয়েছে। মসজিদের দেয়াল প্রায় ৭৫ইঞ্জি পুরো। আর মসজিদের ভিতরদিকে রয়েছে নানান কারুকার্য খচিত মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের প্রাচীনতম নিদর্শন। যা চোখে না দেখলে এর অকৃত্রিম সৌন্দার্য বোঝা সত্যিই অসম্ভব। কেউ মনে করেন এটি আল্লাহর বিশেষ কুদরতে সৃষ্টি হয়েছে। আবার কেউ বলেন, এটি মাটির মধ্য থেকে আল্লাহর কুদরতে উঠছে। এক্ষেত্রে সঠিক ইতিহাস মানুষের কাছে তুলে ধরা গেলে একদিকে যেমন দুর হবে ভ্রান্তধারণা। অন্যদিকে আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে প্রাচীন এ স্থাপত্য মুসলিম নিদর্শন। এছাড়াও বিকাল হলেই মসজিদে শুরু হয় কোরআন শিক্ষার আসর।

মসজিদের দক্ষিণ পাশে রয়েছে ইয়াকিন শাহ ও কালা শাহ নামে দু’টি কবর। আর সামনে রয়েছে বিশাল এক দীঘি। এ দীঘিটি মসজিদ নির্মানের সমসাময়িক সময় কাটা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ দীঘি নিয়েও রয়েছে ভ্রান্ত কল্প-কাহিনী । তবে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে মসজিদের অনেক সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে। দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে আর অল্প দিনেই বাদবাকিও শেষ হয়ে যাবে বলে দাবী স্থানীয়দের, মসজিদটি দ্রুত সংস্কার ও তার পাশে থাকা বড় একটি দিঘিতে ঘাটলা নির্মানের মাধ্যমে বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের ইতিহাস, মুসলমানদের অবদান ও ঐতিহাসিক নিদর্শন শাহী মসজিদটি টিকিয়ে রাখার জোর দাবী মসজিদ রক্ষনাবেক্ষন ও স্থানীয়দের ।

এ বিষয় মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের মজিদবাড়ীয়া ইউনিয়নে শাহী মসজিদ নামে একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা আছে। এটা রক্ষনাবেক্ষনের জন্য ইতিমধ্যে উপর মহলে জানিয়েছি। আমাদের জেলাপ্রাণের বুকে এটি স্থান দখল করে আছে দর্শনীয় তালিকায়। আমি ঐস্থানটিতে গিয়েছি এটা একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন এটি আমাদের সংরক্ষন করা প্রয়োজন। আমি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়েছি উবর্ধতন কর্মকর্তাকে লিখবো। আশা করি মদিজবাড়ীয়া শাহী মসজিদ অত্র অঞ্চলের ঐতিহাসিক মসজিদের মধ্যে এটি একটি অন্যতম নিদর্শনীয় মসজিদ আমরা টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের উপজেলার উবর্ধতন কর্মকর্তাসহ আমাদের যাযা করা দরকার আমরা তা সর্বোচ্চ দিয়ে করবো।

About Sakal Bela

পটুয়াখালীতে সংস্কারের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী শাহী মসজিদ!

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সব চেয়ে প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম নিদর্শন শাহী মসজিদ। সাড়ে ৫শ বছর পূর্বে সুলতানী শাসনামলে স্থাপিত এ শাহী মসজিদের নামানুসারে এলাকার নাম হয়েছে মসজিদবাড়িয়া। পরবর্তিতে মজিদ নামে এক ইউপি চেয়ারম্যান মসজিদ বাড়িয়ার পরিবর্তে ইউনিয়নের নাম মজিদবাড়িয়া নামকরণ করেন বলে জানা যায়।

দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বর্তমানে মসজিদটির সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। তারপরও ঐতিহাসিক এ মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ভীড় করে শতশত বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ইলিয়াছ শাহী বংশের এক স্বাধীন সুলতান ছিলেন রুকনদ্দিন বরবক। তিনি ১৪৪৯ সাল থেকে ১৪৭৪ সাল পর্যন্ত বৃহত্তম বাংলার শাসন কর্তা ছিলেন। তার শাসনামলের অমরকৃর্তি ১৪৬৫ সালে নির্মিত হয় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহাসিক মজিদবাড়িয়া এ শাহী মসজিদ। আর উজিয়ল খান নামে এক মিস্ত্রী মসজিদটির নির্মান কাজ করেন বলে জানা যায়। মসজিদে তিনটি দৃষ্টি নন্দন কারুকার্য খচিত মেহরব, পূর্বদিকে তিনটি খিলান পথ এবং ৬ টি আটকোনার মিনার সদৃশ্য পিলার রয়েছে। একটি বারান্দাযুক্ত মসজিদটির পূর্ব উত্তর ও দক্ষিণ দিকে দু’টি করে জানালা রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বর্তমানে দরজা-জানালার কপাট ও পিলারগুলোর অস্তিত্ব ধ্বংশের শেষ পর্যায় পৌছেছে। বিশাল একটি গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটি কোন রড-সিমেন্ট ছাড়াই চুনা-সুরকি ও পোরামাটির ইট দিয়ে নির্মান করা হয়েছে। মসজিদের দেয়াল প্রায় ৭৫ইঞ্জি পুরো। আর মসজিদের ভিতরদিকে রয়েছে নানান কারুকার্য খচিত মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের প্রাচীনতম নিদর্শন। যা চোখে না দেখলে এর অকৃত্রিম সৌন্দার্য বোঝা সত্যিই অসম্ভব। কেউ মনে করেন এটি আল্লাহর বিশেষ কুদরতে সৃষ্টি হয়েছে। আবার কেউ বলেন, এটি মাটির মধ্য থেকে আল্লাহর কুদরতে উঠছে। এক্ষেত্রে সঠিক ইতিহাস মানুষের কাছে তুলে ধরা গেলে একদিকে যেমন দুর হবে ভ্রান্তধারণা। অন্যদিকে আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে প্রাচীন এ স্থাপত্য মুসলিম নিদর্শন। এছাড়াও বিকাল হলেই মসজিদে শুরু হয় কোরআন শিক্ষার আসর।

মসজিদের দক্ষিণ পাশে রয়েছে ইয়াকিন শাহ ও কালা শাহ নামে দু’টি কবর। আর সামনে রয়েছে বিশাল এক দীঘি। এ দীঘিটি মসজিদ নির্মানের সমসাময়িক সময় কাটা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ দীঘি নিয়েও রয়েছে ভ্রান্ত কল্প-কাহিনী । তবে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে মসজিদের অনেক সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে। দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে আর অল্প দিনেই বাদবাকিও শেষ হয়ে যাবে বলে দাবী স্থানীয়দের, মসজিদটি দ্রুত সংস্কার ও তার পাশে থাকা বড় একটি দিঘিতে ঘাটলা নির্মানের মাধ্যমে বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের ইতিহাস, মুসলমানদের অবদান ও ঐতিহাসিক নিদর্শন শাহী মসজিদটি টিকিয়ে রাখার জোর দাবী মসজিদ রক্ষনাবেক্ষন ও স্থানীয়দের ।

এ বিষয় মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের মজিদবাড়ীয়া ইউনিয়নে শাহী মসজিদ নামে একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা আছে। এটা রক্ষনাবেক্ষনের জন্য ইতিমধ্যে উপর মহলে জানিয়েছি। আমাদের জেলাপ্রাণের বুকে এটি স্থান দখল করে আছে দর্শনীয় তালিকায়। আমি ঐস্থানটিতে গিয়েছি এটা একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন এটি আমাদের সংরক্ষন করা প্রয়োজন। আমি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়েছি উবর্ধতন কর্মকর্তাকে লিখবো। আশা করি মদিজবাড়ীয়া শাহী মসজিদ অত্র অঞ্চলের ঐতিহাসিক মসজিদের মধ্যে এটি একটি অন্যতম নিদর্শনীয় মসজিদ আমরা টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের উপজেলার উবর্ধতন কর্মকর্তাসহ আমাদের যাযা করা দরকার আমরা তা সর্বোচ্চ দিয়ে করবো।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*