রাজবাড়ীতে রেলওয়ের ৫৫৫ একর জমি বে-দখল

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধিঃ

রাজবাড়ীতে রেলওয়ের ৫৫৫ একর জমি ও ৩৪৬টি স্টাফ কোয়ার্টার বেদখল রয়েছে। দখলকারীরা গড়ে তুলছেন বসতবাড়ি, মার্কেট ও মাছের খামার। জমি ও কোয়াটার বেদখল থাকলেও নিরব রয়েছেন রেলওয়ের প্রশাসন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজবাড়ী জেলায় রেলওয়ের জমির পরিমান ১৭০৩ একর। কোয়াটার রয়েছে ৪৬৫টি। নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে ৯১ একর জমি। জেলা প্রশাসন ব্যবহার করছে ১৫ একর। লীজ দেওয়া হয়েছে ২ একর, রেলওয়ের দখলে ১০৪০ একর। রেলওয়ে কোয়াটার ব্যবহার করছে ১১৯টি। বাকী ৫৫৫ একর জমি এবং ৩৪৬টি কোয়াটার বেদখলে রয়েছে।

অনেকে জমি দখল করে মার্কেট তৈরি করে ভাড়া দিয়েছেন। অনেকে পুকুর করে মাছ চাষ করছে। আবার অনেকে কোয়াটার দখল করে ভাড়া দিয়ে টাকা উত্তোলন করে নিচ্ছে। দাদা বা বাবা’র চাকরীর সুবাদে কোয়াটার পেলেও অবসরে গিয়েও দখলে রেখেছেন কোয়াটার।

রাজবাড়ী শহরের বাসিন্দা শামীম রেজা বলেন, রাজবাড়ী জেলার রেলওয়ের বেশির ভাগ জায়গা ও কোয়াটার দীর্ঘদিন যাবৎ প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। আবার চাকরী শেষ হলেও কোয়াটার দখলে রেখেছে অনেকে। জায়গা দখল করে মার্কেট করেছে অনেকে। এই যেন হরিলুট অবস্থা। রেলওয়ের প্রশাসনিক এবং কর্মকর্তাদের উদ্দ্যেগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ্যাডভোকেট অভিজিং সোম অভি বলেন, রাজবাড়ী রেলওয়ের বেদখল জায়গা উদ্ধার করার ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের সতইচ্ছা প্রয়োজন। আর এই জায়গা উদ্ধার হলে রাজবাড়ী রেলওয়ের পূর্বের সুনাম উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এবং রেল ষ্টেশনের পাশ দিয়ে সুন্দর্য্য বর্ধন করা যাবে। সুতরাং বেদখল জায়গা ও কোয়াটার উদ্ধারের কোন বিকল্প নেই।

রাজবাড়ী স্থানীয় বাসিন্দা সুমন বিশ্বাস বলেন, রাজবাড়ী রেলওয়ের স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় এত জায়গা ও কোয়াটার বেদখল হয়ে গেছে। তারা ইচ্ছা করলে এবং দখল মুক্ত রাখতে চাইলে এত জমি ও কোয়াটার বেদখল হতো না। আবার অনেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগনও জমি ও কোয়াটার দখল করে বসবাস করছে।

রাজবাড়ী রেলওয়ের জমি ও কোয়াটারের বেদখলের সত্যতা নিশ্চিত করে রেলওয়ের ভু-সম্পত্তির দায়িত্বে থাকা ১৫নং কাচারীর ফিল্ড কানুনগো মোঃ সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, অচিরেই রাজবাড়ীতে রেলওয়ের ডিভিশন করা হবে। ডিভিশনের কার্যক্রম শুরু হলে এসব বেদখল হওয়া সম্পত্তি দখলে আনবে রেলওয়ে বিভাগ।