Monday , 8 March 2021
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » দেশগ্রাম » প্রচন্ড শীতেও ইলিশে ভরপুর বাগেরহাট কেবি মৎস্য আড়ত

প্রচন্ড শীতেও ইলিশে ভরপুর বাগেরহাট কেবি মৎস্য আড়ত

বাগেরহাট,
সাধারণত শীতের সময়ে ইলিশ মাছ তেমন পাওয়া যায় না। কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম ভেঙ্গে বাগেরহাট কেবি বাজার পাইকারি মোকাম এখন ইলিশে ভরপুর। বিভিন্ন সাইজের ইলিশের দামও নাগালের মধ্যে। অসময়ে বাজারে ইলিশের প্রাচুর্যতা থাকলেও শীতকালীন মৌসুমে সাগরের অন্যন্য মাছ তুলনামূলক অনেক কম দেখা গেছে। ক্রেতাদেরও ভীড় ছিল চোখে পড়ার মত। যে যার প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রয় করছেন।
সোমবার ভোরে বাগেরহাট কেবি বাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখা যায় উপচে পড়া ভীড়। কেউ ট্রলার থেকে ঝাকায় ইলিশ উঠাচ্ছে, জেলেরা মাথায় ঝাকা নিয়ে আড়তে ইলিশ উঠাচ্ছে। আর ব্যবসায়ীরা হাকডাক দিয়ে মাছ বিক্রি করছেন।বিক্রেতারাও তাদের সাধ্যমত কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পছন্দের ইলিশ।তবে শীতকালীন মাছ ঢেলা, চেলা, মেদ, কঙ্কন, ফেয়া, বোতল, জাবা, ছুড়ি লৈট্টা কম থাকায় দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতার মন খারাপও দেখা গেছে।
সাগর থেকে মাছ নিয়ে আসা ট্রলার মালিক মিজান বলেন, শীতের সময়ে সাধারণত মাছ কম পাওয়া যায়। কিন্তু এবার শীতের মৌসুমে প্রচুর মাছ পাচ্ছি আমরা। গেল দশ বছরের তুলনায় এবছর শীতে সব থেকে বেশি মাছ পেয়েছি। সাগরের গভীর পানির থেকে কম পানিতে মাছ চলাচল বেশি হওয়ায় জেলেদের জালে প্রচুর ইলশ ধরা পড়ছে।
মাছ ব্যবসায়ী পলাশ রহমান বলেন, শীত মৌসুমে সাগরের ঢেলা, চেলা, মেদ, কঙ্কনসহ অন্যান্য মাছ অনেক কমে গেছে। ইলিশ মাছ অনেক বেশি পাওয়ায় দামও নাগালের মধ্যে রয়েছে। মাছের আকার ছোট হলেও মাছগুলোর পেটে ডিম রয়েছে। ৪‘শ থেকে ৬‘শ গ্রামের প্রতিকেজি মাছ সাড়ে ৩‘শ থেকে ৪‘শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা পিয়াস মল্লিক বলেন, ইলিশের মৌসুমের সময়ের চেয়ে বর্তমানে মাছের দাম অনেক কম। আড়তে মাছও বেশি। একসাথে একটু বেশি কেনায় দামও কম পড়েছে।
বাগেরহাট কেবি বাজার মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি আবেদ আলী বলেন, এবারের শীতের মৌসুমে তুলনামূলখ ইলিশের আমদানি অনেক বেশি। ইলিশ বেশি হওয়ায় জেলে, ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সবাই খুশি। বাগেরহাট আড়তে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন জেলায়ও যাচ্ছে আমাদের আড়তের ইলিশ মাছ।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. খালেদ কনক বলেন, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকাসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে সমুদ্রে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে জেলেদের জালে বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। সরকারের সচেতনতা মূলক কার্যক্রম ও বিভিন্ন সময় ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকলে ইলিশের আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতিবছর উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করেন তিনি।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*