Sunday , 6 December 2020
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগঃগত তিন মাসে ১০৩ ভারতীয় জেলে আটক

বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগঃগত তিন মাসে ১০৩ ভারতীয় জেলে আটক

অনলাইন ডেস্কঃ
বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় জেলেদের অনুপ্রবেশের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশি জেলেরা।

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধ ভাবে প্রবেশের দায়ে গত তিন মাসে ১০৩ ভারতীয় জেলেকে আটক করেছে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। এ সময় ছয় দফায় ভারতীয় আটটি মাছ ধরার ট্রলারও জব্দ করা হয়। সাগরে ভারতীয় জেলেদের ক্রমাগত অনুপ্রবেশ ও মাছ শিকারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশি জেলেরা।

ভারতীয় জেলেদের অনুপ্রবেশের ঘটনা বঙ্গোপসাগরের গভীরে ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। এলাকাটি মোংলা বন্দর থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে। বাংলাদেশি জলসীমার ওই এলাকায় মাছ বেশি পাওয়া যায়। সর্বশেষ ১৭ জানুয়ারি রাতে ওই এলাকায় দুটি মাছ ধরার ট্রলারসহ ২৬ ভারতীয় জেলেকে আটক করে নৌবাহিনী।
নৌবাহিনী সূত্রে জানা যায়, ১৭ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ বিএনএস কপোতাক্ষ ভারতীয় জেলেদের ট্রলার দুটি জব্দ করে। এফবি শঙ্খ প্রদীপ ও এফবি মা মঙ্গল নামের ওই দুটি ট্রলার থেকে ২৬ ভারতীয় জেলেকে আটক করা হয়। আটক জেলেদের সবার বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বিভিন্ন গ্রামে। মোংলা থানায় তাঁদের হস্তান্তরের পর মোংলার দিগরাজ নৌ–ঘাঁটির প্রধান পেটি কর্মকর্তা ইমান আলী আটক জেলেদের বিরুদ্ধে ১৮৯৩ সালের সামুদ্রিক মৎস্য অধ্যাদেশ আইনে থানায় একটি মামলা করেন।

এর আগে গত ১ অক্টোবর রাতে একই এলাকায় মাছ ধরার সময় ১৫ ভারতীয় জেলেসহ এফবি মা লক্ষ্মী নামের একটি ভারতীয় ট্রলার আটক করে টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ বিএনএস নিশান। ৩ অক্টোবর রাত আটটার দিকে একই এলাকায় আরও দুটি ভারতীয় ট্রলার আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজ বিএনএস কর্ণফুলী। এফবি স্বর্ণদ্বীপ ও এফবি আমৃথি নামের ওই দুটি ট্রলার থেকে ২৩ ভারতীয় জেলেকে আটক করে নৌবাহিনী।

১৩ অক্টোবর একই এলাকা থেকে আরেকটি ভারতীয় ট্রলার আটক করে টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ বিএনএস কপোতাক্ষ। এফবি হীরা পার্বতী নামের ওই ট্রলার থেকে ১১ ভারতীয় জেলেকে আটক করে নৌবাহিনী। ২২ অক্টোবর এফবি মা মঙ্গলচণ্ডী নামের একটি ট্রলারসহ ১৪ ভারতীয় জেলেকে আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজ বিএনএস করতোয়া। এরপর ১০ ডিসেম্বর ওই একই এলাকা থেকে এফবি মা আম্বিয়া-২ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার আটক করা হয়। এবার আটক করে কোস্টগার্ড। এ সময় ১৪ ভারতীয় জেলেকে আটক করে কোস্টগার্ড।

ভারতীয় জেলেদের এই অনুপ্রবেশ ও বাংলাদেশি জলসীমায় মাছ শিকারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার জেলেরা। তাঁরা বলেন, বাংলাদেশের জলসীমায় যে এলাকায় মাছের পরিমাণ বেশি, সাধারণত সেই এলাকায় অনুপ্রবেশকারীরা মাছ শিকার করেন। তাঁদের দৌরাত্ম্যে বাংলাদেশি জেলেরা ওই সব এলাকায় মাছ শিকার করতে পারেন না। ভারতীয়রা বাংলাদেশি জেলেদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে মাছ ধরতে বাধা দেন। কখনো কখনো ভারতীয়রা বাংলাদেশি জেলেদের ট্রলার ও নৌকায় হামলাও চালান এবং লুটপাট চালান।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, আটক ভারতীয় জেলেদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশ ও অবৈধ মৎস্য শিকারের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। 

 এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোস্টগার্ড পশ্চিমাঞ্চলের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ইমতিয়াজ এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভারতীয় জেলেরা শুধু বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশই করছে না, বরং আমাদের দেশের মাছও শিকার করছে। ফলে তাদের আমরা আটক করছি এবং পুলিশের কাছে হস্তান্তর করছি। ভবিষ্যতেও নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

About Sakal Bela

বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগঃগত তিন মাসে ১০৩ ভারতীয় জেলে আটক

অনলাইন ডেস্কঃ
বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় জেলেদের অনুপ্রবেশের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশি জেলেরা।

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধ ভাবে প্রবেশের দায়ে গত তিন মাসে ১০৩ ভারতীয় জেলেকে আটক করেছে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। এ সময় ছয় দফায় ভারতীয় আটটি মাছ ধরার ট্রলারও জব্দ করা হয়। সাগরে ভারতীয় জেলেদের ক্রমাগত অনুপ্রবেশ ও মাছ শিকারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশি জেলেরা।

ভারতীয় জেলেদের অনুপ্রবেশের ঘটনা বঙ্গোপসাগরের গভীরে ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। এলাকাটি মোংলা বন্দর থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে। বাংলাদেশি জলসীমার ওই এলাকায় মাছ বেশি পাওয়া যায়। সর্বশেষ ১৭ জানুয়ারি রাতে ওই এলাকায় দুটি মাছ ধরার ট্রলারসহ ২৬ ভারতীয় জেলেকে আটক করে নৌবাহিনী।
নৌবাহিনী সূত্রে জানা যায়, ১৭ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ বিএনএস কপোতাক্ষ ভারতীয় জেলেদের ট্রলার দুটি জব্দ করে। এফবি শঙ্খ প্রদীপ ও এফবি মা মঙ্গল নামের ওই দুটি ট্রলার থেকে ২৬ ভারতীয় জেলেকে আটক করা হয়। আটক জেলেদের সবার বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বিভিন্ন গ্রামে। মোংলা থানায় তাঁদের হস্তান্তরের পর মোংলার দিগরাজ নৌ–ঘাঁটির প্রধান পেটি কর্মকর্তা ইমান আলী আটক জেলেদের বিরুদ্ধে ১৮৯৩ সালের সামুদ্রিক মৎস্য অধ্যাদেশ আইনে থানায় একটি মামলা করেন।

এর আগে গত ১ অক্টোবর রাতে একই এলাকায় মাছ ধরার সময় ১৫ ভারতীয় জেলেসহ এফবি মা লক্ষ্মী নামের একটি ভারতীয় ট্রলার আটক করে টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ বিএনএস নিশান। ৩ অক্টোবর রাত আটটার দিকে একই এলাকায় আরও দুটি ভারতীয় ট্রলার আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজ বিএনএস কর্ণফুলী। এফবি স্বর্ণদ্বীপ ও এফবি আমৃথি নামের ওই দুটি ট্রলার থেকে ২৩ ভারতীয় জেলেকে আটক করে নৌবাহিনী।

১৩ অক্টোবর একই এলাকা থেকে আরেকটি ভারতীয় ট্রলার আটক করে টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ বিএনএস কপোতাক্ষ। এফবি হীরা পার্বতী নামের ওই ট্রলার থেকে ১১ ভারতীয় জেলেকে আটক করে নৌবাহিনী। ২২ অক্টোবর এফবি মা মঙ্গলচণ্ডী নামের একটি ট্রলারসহ ১৪ ভারতীয় জেলেকে আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজ বিএনএস করতোয়া। এরপর ১০ ডিসেম্বর ওই একই এলাকা থেকে এফবি মা আম্বিয়া-২ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার আটক করা হয়। এবার আটক করে কোস্টগার্ড। এ সময় ১৪ ভারতীয় জেলেকে আটক করে কোস্টগার্ড।

ভারতীয় জেলেদের এই অনুপ্রবেশ ও বাংলাদেশি জলসীমায় মাছ শিকারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার জেলেরা। তাঁরা বলেন, বাংলাদেশের জলসীমায় যে এলাকায় মাছের পরিমাণ বেশি, সাধারণত সেই এলাকায় অনুপ্রবেশকারীরা মাছ শিকার করেন। তাঁদের দৌরাত্ম্যে বাংলাদেশি জেলেরা ওই সব এলাকায় মাছ শিকার করতে পারেন না। ভারতীয়রা বাংলাদেশি জেলেদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে মাছ ধরতে বাধা দেন। কখনো কখনো ভারতীয়রা বাংলাদেশি জেলেদের ট্রলার ও নৌকায় হামলাও চালান এবং লুটপাট চালান।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, আটক ভারতীয় জেলেদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশ ও অবৈধ মৎস্য শিকারের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। 

 এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোস্টগার্ড পশ্চিমাঞ্চলের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ইমতিয়াজ এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভারতীয় জেলেরা শুধু বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশই করছে না, বরং আমাদের দেশের মাছও শিকার করছে। ফলে তাদের আমরা আটক করছি এবং পুলিশের কাছে হস্তান্তর করছি। ভবিষ্যতেও নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*