৬৫ বছর পর একই দিনে বিদায় রিয়াল ও বার্সার

-ফাইল ছবি

স্পোর্টস ডেস্কঃ

দুই লেগের পরিবর্তে এক লেগের নতুন নিয়মে হচ্ছে এবারের কোপা দেল রে। ঘুরে দাঁড়ানোর দ্বিতীয় সুযোগ না থাকায় টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই অঘটনের ঘনঘটা। শেষ আটে এসে সেটি রূপ নিল মহাঅঘটনে। একই রাতে কোপা দেল রে’র কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়েছে স্প্যানিশ ফুটবলের দুই পরাশক্তি বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ।

প্রায় ৬৫ বছর পর একই দিনে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। সর্বশেষ এমনটি ঘটেছিল ১৯৫৫ সালের ২৯ মে। সেবার সেমিফাইনালে সেভিয়ার কাছে হেরেছিল রিয়াল। আর বার্সার ঘাতক ছিল বিলবাও। চমকের পসরা সাজিয়ে বসা এবারের আসরে সোসিয়েদাদ ও বিলবাওয়ের সঙ্গে সেমিফাইনালে উঠেছে গ্রানাদা ও দ্বিতীয় বিভাগের দল মিরান্দেস।

বরাবরের মতো এ ম্যাচেও বল দখলে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল বার্সেলোনার। আক্রমণেও এগিয়ে ছিল তারা। গোলের উদ্দেশ্যে মোট ১১টি শট নেয় দলটি, যার চারটি ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু কাক্সিক্ষত গোলের দেখা পায়নি। বিপরীতে ৩০ শতাংশের একটু বেশি বল দখলে রাখা বিলবাও মোট আটটি শট নিতে পারে। এর মাত্র দুটি ছিল লক্ষ্যে, তাতেই মূল্যবান গোল আদায় করে নেয় দলটি।

পাঁচ মিনিট যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ইবাই গোমেসের ক্রসে হেডে ঠিকানা খুঁজে নেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ইনাকি উইলিয়ামস। গত আগস্টে বিলবাওয়ের মাঠে ১-০ গোলে হেরে লিগ শুরু করেছিল বার্সেলোনা। আর এবার কোপা দেল রে থেকে বিদায়।

সব প্রতিযোগিতা মিনিয়ে শেষ তিন ম্যাচে এটি তাদের দ্বিতীয় হার, মৌসুমে ষষ্ঠ। গত মাসের শেষ সপ্তাহে লিগে ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে ২-০ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। বার্সার নতুন কোচ কিকে সেতিয়েনও পড়ে গেলেন আরও চাপে। সাবেক কোচ ভালভার্দের অধীনে লা লিগায় শীর্ষে ছিল দলটি, টিকে ছিল সবকটি শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা। আর এখন লিগ টেবিলে তারা নেমে গেছে দুইয়ে, এবার স্পেনের দ্বিতীয় সেরা প্রতিযোগিতার শিরোপা সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেল।

দলের ক্রীড়া পরিচালক এরিক আবিদালের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরে অধিনায়ক লিওনেল মেসির ন্যুক্যাম্প ছাড়ার গুঞ্জনে মাঠের বাইরেও টালমাটাল বার্সেলোনা। এদিকে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হারের মুখ দেখল রিয়াল। ২২ মিনিটে রিয়ালের প্রথম গোল হজমে দায় আছে একাদশে সুযোগ পাওয়া গোলকিপার আলফুস আরিওলার।

পাল্টা আক্রমণে আলেকসান্দার ইসাকের শট ফেরালেও পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি এই ফরাসি কিপার। মার্তিন ওদেগার্দের ফিরতি শটে তেমন কোনো হুমকি ছিল না, কিন্তু গোলকিপারের পায়ে লেগে বল জালে জড়ায়। বিরতির পরপরই রিয়ালের জালে আবার বল জড়ান ইসাক। তবে ভিএআরের সাহায্য নিয়ে অফ-সাইডের বাঁশি বাঁজান রেফারি।

৫৪ মিনিটে আর ইসাককে রুখতে পারেনি রিয়াল। দুর্দান্ত এক ভলিতে জাল খুঁজে নেন তিনি। দুই মিনিট পর প্রতিপক্ষ রক্ষণের ভুলের সুযোগে আরও এক গোল করে সোসিয়েদাদকে সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে দেন সুইডেনের এই ফরোয়ার্ড। ৫৯তম মিনিটে ব্যবধান কমান মার্সেলো। ১০ মিনিট পর ইসাকের ডিফেন্স চেরা পাস পেয়ে বাঁ-পায়ের শটে আবার ব্যবধান বাড়ান মিকেল মেরিনো।

৮১ মিনিটে ভিনিসিউসের পাস থেকে ব্যবধান কমান বদলি নামা রদ্রিগো। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে করিম বেনজেমার পাস থেকে হেডে লক্ষ্যভেদ করে নাটকীয়তার ইঙ্গিত দেন নাচো ফের্নান্দেস। দুই মিনিট পর আন্দোনি লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সোসিয়েদাদ। কিন্তু শেষ সময়ে মরিয়া চেষ্টা করেও সমতাসূচক গোলের দেখা পায়নি রিয়াল।