Saturday , 6 March 2021
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » দেশগ্রাম » নতুন বছর শুরুতেই নানা অযুহাতে বাড়াচ্ছে বাড়ি ভাড়া ।

নতুন বছর শুরুতেই নানা অযুহাতে বাড়াচ্ছে বাড়ি ভাড়া ।

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি।

 অর্থ উপার্জন এবং পরিবার নিয়ে ভাল থাকার আশায় বাবা-মা, ভাই-বোন ছেড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে পাড়ি জমান নিম্নবিত্ত মানুষ।
পোশাক কারখানায় স্বল্প টাকার বিনিময়ে খেটে জীবিকা নির্বাহ করেন এসব মানুষ। অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে দেশে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশের পোশাক খাত।
 এখানে কর্মরত শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রমে চলে অর্থনীতির চাকা।
খেয়ে পরে চলতে পারলেও ভাগ্য আর স্বপ্ন যেন অধরাই থেকে যায়।
 বছর ঘুরে তাদের বেতন না বাড়লেও নানা অজুহাতে বাড়ি ভাড়া বাড়াতে থাকেন বাড়ি মালিকেরা।
শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতি বছরে যে ৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি হয় তা প্রতি বছরে ভাড়া বৃদ্ধির নামে বাড়িমালিকের পকেটে যায়।
 এমন অভিযোগ করছিলেন গাজীপুরে কর্মরত এসব পোশাক শ্রমিকেরা।  পোশাক শ্রমিক  শাহিদা  বলেন, আমরা সকালে খেয়ে কারখানায় যাই। ঘণ্টা অনুযায়ী কাজ করতে হয়। একটু ভালো থাকার আশায় এখানে এসেছিলাম। কিন্তু আমাদের দিকে কেউ তাকায় না। সবাই নিজেরটা নিয়ে ব্যস্ত। আমার বেতন ৮ হাজার ১’শ টাকা।
 ৫ শতাংশ হারে বেতন বাড়লে বাড়ে মাত্র ৪০৫ টাকা। আর এই জানুয়ারি মাসে বাড়িওয়ালা ভাড়া বাড়িয়েছে ৫০০ টাকা। আরো ৯৫ টাকা বেতন থেকে ভরে প্রতি মাসে বাসা ভাড়া দিতে হবে। এক প্রকার বাধ্য হয়েই বাড়তি ভাড়া গুনতে হয় বলেও জানান তিনি।
 এক প্রকার বাধ্য হয়েই বাড়তি ভাড়া গুনতে হয় বলেও জানান তিনি।
  অপর ভাড়াটিয়া পোশাক শ্রমিক আশিকুর রহমান ও বাদল হাসান    জানান, নানা অজুহাতে বাড়িওয়ালারা ভাড়া বাড়িয়ে দেয়।
 কিছুদিন আগে বিদ্যুতের ডিজিটাল মিটার স্থাপন করায় বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের অজুহাতে ভাড়া বাড়িয়ে দেন।
 আবার এই বছরের শুরতেই বাড়িয়ে দিয়েছে বাসা ভাড়া। আমাদের কষ্টার্জিত বেশির ভাগ টাকাই কৌশলে বাড়িওয়ালারা নিয়ে নেয়। এখানে কোনো আইন না থাকায় অনেকে গ্রামে ফিরে যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কারখানায় থাকতে হয়। শুক্রবারেও ছুটি পাই না। আর আমরা তেমন শিক্ষিতও না কোথায় অভিযোগ করতে হবে, কি করতে হবে এগুলো কারখানার কাজ বন্ধ করে আমাদের খোঁজার সময় নেই। কাজ বন্ধ করলে পেটেই ভাত যাবে না। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাড়িওয়ার সঙ্গে কথা হয় দৈনিক সকালবেলার প্রতিনিধি জুনায়েদ হোসেন ফরহাদ এর। বাড়িওয়ালা  বলেন, আমরা ঋণ করে বাড়ি করেছি। প্রতিমাসে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হয়। বাড়ি ভাড়ার টাকা আমরা ব্যক্তিগত কোনো কাজে ব্যয় করতে পারি না। ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত বাড়ির টাকা ভোগ করা সম্ভব হয় না। এদিকে বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল বাড়ছেই। বাড়তি বিদ্যুৎ-গ্যাস বিলের টাকা আমরা পাবো কোথায়। এটা তো ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে না নিলে আমরা চলতে পারব না।
তাদের প্রয়োজন হলে ভাড়া নেবে আর প্রয়োজন না হলে নেবে না। আমরা তো বাসা ভাড়া নিতে বাধ্য করছি না। এতে দোষের কিছু দেখছি না।    এছাড়া গাজীপুরের চান্দনা এলাকায়  ভাড়া অতিরিক্ত হারে বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ করেন ভাড়াটিয়ারা। নেই গ্যাস, বিদ্যুৎবিল ভাড়াটিয়ার প্রদান করেও হাফওয়াল বাসা ভাড়া গুনতে হয় ৩০০০ থেকে ৩৩০০ টাকা পর্যন্ত। বেতন বাড়ার সাথে বাসা ভাড়াও বেড়ে যায় এতে ভাড়াটিয়া তাদের উন্নতি করতে পারেনা বলে জানান।            তিনি বাড়ি বাড়া আইন ১৯৯১ সালের বাস্তবায়ন, ভাড়াটিয়াকে পাকা রশিদ, বাড়ি ভাড়ার ওপর সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা, সরকারের নির্দেশ অমান্য করে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি না করা ও ভাড়াটিয়ার সঙ্গে অশোভন আচরণ না করাসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*