বাবার মৃতদেহ কবরে রেখে এসএসসির গণিত পরীক্ষা দিয়েছে আইভি

ধুনট সরকারী এনইউ পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ১১৬ নম্বর কক্ষ

সকালবেলা শিক্ষা ডেস্ক:

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বাবার মৃতদেহ কবরে রেখে এসএসসির গণিত পরীক্ষা দিয়েছে আইভি আকতার। আজ মঙ্গলবার সকালে ধুনট সরকারি এনইউ পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১১৬ নম্বর কক্ষে বসে পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। জীবনের প্রতিটি পরীক্ষাতেই বাবার হাত ধরে কেন্দ্রে গিয়েছে আইভি। কিন্ত এবারই ছিল ব্যতিক্রম। প্রাণপ্রিয় সেই বাবাকে এবার শেষবারের মতো এক নজর দেখে সে জীবনের বড় এক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়।

শিক্ষার্থীরা বাবা-মায়ের দোয়া নিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে যায়। কিন্তু সেই সৌভাগ্য হয়নি আইভির। দোয়ার পরিবর্তে বাবার মৃতদেহ কবরে রেখে কেন্দ্রে যেতে হয় তাকে। সাদা কাগজে ডান হাতে লেখার মাঝে কখনো কখনো বাবার কথা মনে হতেই অন্য হাতে চোখ মোছে আইভি। সে ধুনট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক শাখার শিক্ষার্থী। বাবার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে সে কেন্দ্রে এসেছে।

পরীক্ষার্থী আইভি আকতার জানায়, প্রায় এক মাস আগে বাবার কাছে দোয়া চাইতে কারাগারে যায়। ১৩ ফেব্রুয়ারি সাজার মেয়াদ শেষে তার বাবার বাড়িতে ফেরার কথা ছিল। বাবা বাড়িতে ফিরেছে ঠিকই কিন্ত লাশ হয়ে। বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বার বার মুর্চ্ছা যাচ্ছিল আইভি।

আইভি আকতার বগুড়ার ধুনট উপজেলার বেলকুচি গ্রামের আশরাফুল আলমের মেয়ে। দুই বোনের মধ্যে আইভি ছোট। আশরাফুল আলম বিজিবি সদস্য ছিলেন। তিনি ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ মামলার আসামি। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়। ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাভোগকালে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এ অবস্থায় রবিবার(৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে কারাগারে তার মৃত্যু হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল সোমবার রাতে কারাগার থেকে তার মৃতদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

এদিকে সংবাদ পেয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা এবং কেন্দ্র সচিব আলহাজ্ব মশিউর রহমান শোকাহত আইভির খোঁজ-খবর নিতে পরীক্ষা কক্ষে যান। তারা আইভির পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দেন। এ সময় আইভির রোনাজারিতে কক্ষের অনেকের চোখেই পানি চলে আসে। আইভির ভালোভাবে পরীক্ষা দেওয়া ও বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেন ইউএনও রাজিয়া সুলতানা।