Monday , 8 March 2021
Home » দৈনিক সকালবেলা » পাচঁফোড়ন » রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার বহির্ভূত কথাবার্তা বলার কারণেই আপনাদের পায়ের তলায় মাটি নেই: আপনারা গণবিচ্ছিন্ন

রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার বহির্ভূত কথাবার্তা বলার কারণেই আপনাদের পায়ের তলায় মাটি নেই: আপনারা গণবিচ্ছিন্ন

সকালবেলা অনলাইন ডেস্কঃ
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতা-মন্ত্রীরা বলেছেন, খালেদা জিয়া বলেছিলেন শেখ হাসিনা যতদিন না যাবে ততদিন আমি ঘরে ফিরে যাব না। তারপর হরতাল, অবরোধ দিয়ে মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেেন। খালেদা জিয়া এখন দুর্নীতির মামলায় জেলে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা    এখন গণভবনে বসে দেশ চালাচ্ছেন। 
তারা বলেন, বিএনপি-জামায়াতের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে (ড. কামাল হোসেন) যারা রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার বহির্ভূত কথাবার্তা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন, বাস্তবে তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই, তারা গণবিচ্ছিন্ন। 
তারা আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াতের ভয়াল অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে হত্যার হোলি খেলা শুরু হয়েছিল, সেটা জনগণ ভুলে যায়নি। আমরা শক্ত হাতে তা মোকাবেলা করে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমন করতে সফল হয়েছি। দেশের জনগণ আপনাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। এসময় তারা বিএনপি-জামায়াতকে ষড়যন্ত্রের পথ ছেড়ে গণতান্ত্রিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্বে একাদশ সংসদে ষষ্ঠ অধিবেশনে গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, হুইপ ইকবালুর রহিম, জাতীয় পার্টি জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও সরকারি দলের আনোয়ার হোসেন খান। 
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে তা গ্রহণ করা হয়। 
কৃষিমন্ত্রী বলেন, মাত্র এক দশকেই সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। শুধু প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিই নয়, ৪০ ভাগ থেকে দারিদ্র্য ২০ ভাগে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বর্তমান সরকার। যেভাবে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে সারাবিশ্বের কাছে তা রীতিমত বিস্ময়। খাদ্য ঘাটতি ও ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে চলা বাংলাদেশ আজ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা শ্রীলঙ্কাকে খাদ্য সাহায্য দিয়েছি।সারা বছর এখন সব ধরনের সবজি পাওয়া যায়। পৃথিবীর কোন দেশ মাত্র ১২ টাকায় সার দিতে পারেনি, যা বর্তমান সরকার দিচ্ছে। অথচ এই সারের জন্য খালেদা জিয়া গুলি চালিয়ে বহু কৃষককে হত্যা করেছে। এসময় তিনি বিএনপি-জামায়াতকে ষড়যন্ত্রের পথ ছেড়ে গণতান্ত্রিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। 
ড. কামাল হোসেনের নাম উল্লেখ না করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কোন দিন নির্বাচন করে উনি জিততে পারেননি। লাত্থি মেরে নাকি সরকার ফেলে দেবেন! এটা রাজনীতির ভাষা নয়। আপনি যাদের ঘাড়ে সওয়ার হয়েছেন তারা (বিএনপি-জামায়াত) ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ভয়াল নাশকতাসহ অনেক কিছু করেছেন, কিন্তু পারেননি। রাজনৈতিক কারণে নয়, দুর্নীতির কারণে খালেদা জিয়া কারাবন্দী।তাই এখনও সময় আছে রাজনীতির সহজ পথে আসুন। 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। এটা এমনি এমনি হয়নি। এজন্য প্রয়োজন ছিল একজন দক্ষ, সাহসী ও দেশপ্রেমিক নেতা। তিনি হচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছিলেন দেশকে বদলে দেবেন, সত্যিই তিনি দেশকে বদলে দিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের ভয়াল অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে হত্যার হোলি খেলা শুরু হয়েছিল। আমরা শক্ত হাতে তা মোকাবেলা করে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমন করতে সফল হয়েছি। প্রায় ৮২ হাজার পুলিশের জনবল বাড়িয়েছেন, আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে পুলিশ বিভাগকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। আমরা দেশের জনগণকে নিরাপদ রাখতে পারছি। মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স অবস্থানে রয়েছে। মাদকরোধে জনবল বৃদ্ধি করেছি, মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করছি। মাদককে পরিপূর্ণ নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে অবশ্যই আনবো। 
তিনি আরও বলেন, কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ বন্দী রয়েছে। সমস্যা সমাধানে নানা পদক্ষেপসহ বন্দী অপরাধীরা আবারও যাতে কারাগারে আর ফিরে না আসে, সেজন্য নানা শিক্ষায় শিক্ষিত করা হচ্ছে। সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে আমরা সক্ষম হচ্ছি। 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৫৭তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট চালু করেছে। পাসপোর্ট নিয়ে কাউকে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না। মুজিববর্ষের আরেকটি উপহার হচ্ছে এই ই-পাসপোর্ট।
সাবেক মন্ত্রী ও জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সারাবিশ্বে একটা পরিবর্তন এসেছে, এই পরিবর্তনে সমস্ত বিশ্ব একটা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্ব অনিশ্চয়তার মধ্যেও আমরা নিরাপদ অবস্থানে আছি। বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে তা শুধু দেশের মানুষই নন, বিশ্ব ব্যাংকসহ বিশ্ব নেতারা প্রশংসার সুরেই বলছেন। 
এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ রাস্তাগুলোকে আধুনিক করতে নতুন নকশা প্রণয়ণ করা হচ্ছে। গ্রামে শহরের সকল সুবিধা পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। রাজধানীতে সুপেয় পানী সরবরাহে সারাবিশ্বের প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। মুজিববর্ষ পালন করা হবে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে। সেই পথ ধরেই বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ হবে। 
হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা স্তব্ধ করে দিতে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিরা নানা ষড়যন্ত্র করছে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। সারাদেশে চালিয়েছে ভয়াবহ নাশকতা। এটা সম্পূর্ণ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। দেশের জনগণ আর এদেশকে কখনো আইএস, জঙ্গিগোষ্ঠীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে দেবে না। 

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*