Saturday , 6 March 2021
Home » বিশ্ব সংবাদ » ৪৭ বছর পর দেখা হলো দুই বোনের

৪৭ বছর পর দেখা হলো দুই বোনের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
দুজনেই বয়সের ভারে ন্যুব্জ। স্মৃতিশক্তিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। জীবনের এ প্রান্তে এসেও চোখে কখনও কখনও ভেসে উঠেছে প্রিয় বড় বোনের মুখটি। তবে জীবন সায়াহ্নে এসে যে তার দেখা পাবেন তা কখনও ভাবেননি ৯৮ বছর বয়সী বুন সেন। 
দীর্ঘ ৪৭ বছর পরে কম্বোডিয়ান বুন সেন দেখা পেয়েছেন তার ১০১ বছর বয়সী বড় বোন বুন চিয়ার।
৭০ এর দশকে কম্বোডিয়ায় খেমার রুজের শাসনামলে তারা আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। তারা দুজনেই ভেবেছিলেন, হয়তো অন্যজন সেসময়েই মারা গেছেন। 
স্থানীয় একটি এনজিও জানিয়েছে, বুন সেন তার ৯২ বছর বয়সী ভাইকেও খুঁজে পেয়েছেন। 
কম্বোডিয়ান এই দুই বোনের শেষবার দেখা হয়েছিল ১৯৭৩ সালে, পল পটের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট শাসনমালের ঠিক দুই বছর আগে।
বুন সেন পল পটের শাসনামলে তার স্বামীকে হারান। শেষ পর্যন্ত রাজধানী ফোনম পেনের স্টুং মিঞ্চে ডাম্পসাইটের কাছে এসে বসবাস শুরু করেন।
জীবন ধারণের জন্য একটা দীর্ঘ সময় তিনি আবর্জনা সংগ্রহ করেছেন। এরপর সেটি করে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে সেটি বিক্রি করতেন। 
তবে সব সময়ই তিনি নিজ গ্রামে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কমপং চাম প্রদেশ রাজধানী ফোনম পেন থেকে প্রায় ৯০ মাইল পূর্বে অবস্থিত।
বয়সের ভারে হাঁটতে না পারার অক্ষমতাসহ বহু তারণে তার পক্ষে সেখানে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। তার এ স্বপ্ন পূরণ করতে এগিয়ে আসে স্থানীয় একটি এনজিও।
এনজিওটির কর্মকর্তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, বুন সেনের বোন এবং ভাই এখনও বেঁচে আছেন এবং তারা কমপং চাম প্রদেশে বাস করছেন।
এনজিওটির সহায়তায় দীর্ঘ ৪৭ বছর পর গত সপ্তাহে বুন সেন তার বোন ও ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন।
ভাই-বোনের সঙ্গে দেখা হওয়ার পরে বুন সেন বলেন, আমি কখনও ভাবিনি তাদের আবারও দেখতে পাব। এত বছর পর আমি আমার বোনকে জড়িয়ে ধরতে পেরেছি। এটা আমার কাছে এক অন্য রকম অনুভূতি। আমার ভাই প্রথম যখন আমার হাত ছুয়েছে আমি আনন্দে কেঁদে দিয়েছি।    
বুন চিয়ার স্বামীও খেমার রুজের শাসনামলে নিহত হন। এরপর থেকে ১২ সন্তানকে লালন-পালন করে বুন চিয়ার দিন কেটেছে।
তিনি বলেন, সেসময় আমাদের ১৩ স্বজনকে হত্যা করা হয়। আমি ভেবেছিলাম তাদের সঙ্গে আমার ছোট বোনও নিহত হয়েছে। কিন্তু তাকে আবারও দেখতে পাব তা কখনও ভাবিনি। 
পল পটের শাসনমালে কম্বোডিয়ার শহরের মানুষদের জোর করে গ্রামে নিয়ে গিয়ে কৃষিকাজ করানো হতো৷ কারণ,  ওই সরকারের লক্ষ্য ছিল, এমন একটি দেশ, যার অর্থনীতির ভিত্তি হবে কৃষি৷ আর দেশটি চলবে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায়৷
সরকারের কাজের যারা বিরোধিতা করতেন, তাদের হত্যা করা হতো৷ সবমিলিয়ে পল পটের শাসনামলে প্রায় ১৭ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, যা সেই সময়কার কম্বোডিয়ার জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ৷ 
সূত্র: বিবিসি

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*