Thursday , 3 December 2020
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » দৈনিক সকালবেলা » পাচঁফোড়ন » দেশীয় কোম্পানির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ না করেই দেশে এককভাবে ব্যবসা করতে পারবে বিদেশি কোম্পানি

দেশীয় কোম্পানির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ না করেই দেশে এককভাবে ব্যবসা করতে পারবে বিদেশি কোম্পানি

সকালবেলা অনলাইন ডেস্কঃ

জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালার সংশোধনী অনুমোদন

দেশীয় কোম্পানির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ না করেই দেশে ডিজিটাল কমার্স খাতে বিদেশি প্রতিষ্ঠান বিধি-বিধান পালন করে এককভাবে ব্যবসা করতে পারবে।গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।এমন বিধান রেখে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স (সংশোধিত) নীতিমালা, ২০২০ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
এর আগে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া ‘জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা-২০১৮’ যা ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। ওই নীতিমালায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) স্থানীয় কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বের বাধ্যবাধকতার শর্ত দেয়া হয়েছিল।
নীতিমালায় বলা হয়েছিল, ‘ডিজিটাল কমার্স খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধি-বিধান প্রতিপালন করতে হবে। তবে বিদেশি ডিজিটাল কমার্স ইন্ডাস্ট্রি দেশীয় কোনো ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ ব্যতীত এককভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না এবং ডিজিটাল কমার্স ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থগুলোকে প্রাধান্য দেয়া হবে।
গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এটাকে পরিবর্তন করে ডিজিটাল কমার্স খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিবিধান প্রতিপালন করতে শুধু এ অংশটুকু রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ বিদেশি ডিজিটাল কমার্স ইন্ডাস্ট্রি দেশীয় কোনো ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ ছাড়াই এককভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না বলে আগের নীতিমালায় যে বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছিল তা তুলে দিল সরকার। আর এ নীতিমালা সংশোধনের ক্ষমতা পূর্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে থাকলেও এখন নীতিমালাটি সংশোধন করতে হলে তা মন্ত্রিসভায় আনতে হবে।
ডিজিটাল কমার্স নীতিমালার বিস্তারিত
নীতিমালায় ডিজিটাল-কমার্স সেক্টরের সার্বিক উন্নয়নে সেন্টার অব এক্সিলেন্স, সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ বা অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল গঠন, ভোক্তাদের জন্য কোড অব কন্ডাক্টসহ বিভিন্ন বিধি-বিধান রয়েছে।
* প্রতিষ্ঠানসমূহ ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধি-বিধান প্রতিপালন করবে।
* বিক্রির জন্য উপস্থাপিত পণ্য সামগ্রী যথাযথ মানসম্মত হবে।
* ক্রেতার স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে বিক্রয়যোগ্য পণ্যের যথাযথ বিবরণ এবং এ সংক্রান্ত শর্তাবলী উল্লেখ করবে।
* বিধি অনুযায়ী বিক্রীত পণ্য ফেরত, মূল্যফেরত ও প্রতিস্থাপন শর্তাবলী ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করতে হবে।
* ক্রেতা ও বিক্রেতাগণ ইলেক্ট্রনিক লেনদেন, ই-পেমেন্ট ইত্যাদি বিষয়ে বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধান প্রতিপালন করবে।
* সব ক্ষেত্রে ই-পেইমেন্ট ও মোবাইল পেমেন্ট চালু করা এবং ইলেক্ট্রনিক লেনদেন সহজতর ও নিরাপদ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। *ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের ওয়েবসাইটে বিক্রয়যোগ্য পণ্যের নির্ধারিত মূল্য প্রদর্শন করবে।
* ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান পেমেন্ট ব্যবস্থাকে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে।
* সব ব্যাংকে আন্তঃব্যাংক ও মোবাইল ফিনান্সিয়্যাল সার্ভিস (এমএফএস), ডিজিটাল ফিনান্সিয়্যাল সার্ভিস (ডিএফএস) লেনদেন উপযোগী সিস্টেম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।
* ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট ও পণ্য ডেলিভারির ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট অপারেশনাল গাইডলাইন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ প্রণয়ন করবে।
* ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট পেমেন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে ‘এসক্রো সার্ভিস’ চালু করা হবে।
* অনলাইন পেমেন্ট সার্ভিসকে গতিশীল করতে প্রি-পেইড কার্ড, ভার্চুয়াল কার্ড, ওয়ালেট কার্ডসমূহ এজেন্ট, ডিজিটাল কমার্স সাইটের মাধ্যমে প্রচারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
* ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং, প্রি-পেইড কার্ড, ক্রেডিট কার্ডসহ সব পেমেন্ট পদ্ধতি ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার মাধ্যমে রিয়াল টাইম ফান্ড ট্রান্সফারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
* বৈধ পথে আন্তঃদেশীয় অনলাইন কার্ডভিত্তিক লেনদেন সম্প্রসারণের নিমিত্ত ট্রাভেলার্স কোটা ও অনলাইন লেনদেনের কোটা বর্ধিতকরণ ও যুগোপযোগীকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
* পাইরেসি, হ্যাকিংসহ ডিজিটাল কমার্স খাত সংশ্লিষ্ট সব সাইবার অপরাধ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিদ্যমান ও উদ্ভুত ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
* যথাযথ নিরাপত্তার স্বার্থে ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রমিতমান অনুসরণ করে তাদের ওয়েবসাইট বা মার্কেটপ্লেস ইত্যাদি প্রস্তুত করবে।
* এ খাত সংশ্লিষ্ট কোনো অপরাধ চিহ্নিত হলে তা দেশে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাইট, মার্কেটপ্লেসের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
* দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রয়োজন সাপেক্ষে ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তু ও আইনি কাঠামো পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন, সংশোধন করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্স সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক গঠিত কেন্দ্রীয় সেল এ বিষয়ে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, প্রতিষ্ঠান, সংস্থার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করবে।
* ডিজিটাল কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সরকার মনোনীত সংস্থা, অ্যাসোসিয়েশন দেশের ডিজিটাল কমার্স ব্যবস্থা সংক্রান্ত কার্যক্রম কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করবে।
* এ খাতের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সেন্টার অব এক্সেলেন্স গঠন করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্স ব্যবসা পরিচালনা, বিক্রয়কৃত পণ্য সরবরাহ ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ, তদারকি এবং এসব কর্মকাণ্ড হতে উদ্ভুত অসন্তোষ নিরসন ও অপরাধসমূহের বিচার সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট আইনিকাঠামো প্রণয়ন করা হবে।
* ভোক্তাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ প্রণয়ন করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্স খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান প্রতিপালন করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্সবিষয়ক কপিরাইট ও মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, অনলাইন ডকুমেন্ট আদান-প্রদান সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধান-এ প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিমার্জন, পরিবর্ধনের কাযক্রম গ্রহণ করা হবে।
* আইপিআর (প্যাটেন্ট ও নকশা, ট্রেডমার্ক, কপিরাইট ইত্যাদি)-এ ডিজিটাল কমার্স বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্তির জন্য হালনাগাদ করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।
* মোবাইল অপারেটরদের নেট নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিধি-বিধান প্রতিপালন করতে হবে।
* লেনদেনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল স্বাক্ষর ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্স খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেবিদ্যমান বিধি-বিধান প্রতিপালন করতে হবে।
* ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট, মার্কেটপ্লেস এবং হোস্টিং অ্যান্ডমেইনটেন্যান্স বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্স খাতসংশ্লিষ্ট লেনদেন এবং অসন্তোষ নিরসনের বিষয়াদি সুষ্ঠুভাবে প্রতিপালন করার উদ্দেশ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, সংস্থা’র মধ্যে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেল সমন্বয় সাধন করবে।
* ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা ও নতুন কোনো আইন ও বিধি-বিধান প্রণীত হলে, সে বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সব সংস্থাকে অবহিত করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্স খাতের বিভিন্ন দিকসমূহ ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচার- প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্স প্রক্রিয়ায় ক্রয়-বিক্রয়জনিত ভয়-ভীতি দূরীভূতকরণ এবং আস্থা অর্জনের জন্য ইলেক্ট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। *রাজধানীসহ সব বিভাগ, জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ বিষয়ে সেমিনার, কর্মশালা, মেলা, রোড শো ও র‌্যালি এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর উদ্যোগে ডিজিটাল কমার্স মেলা, সেমিনার আয়োজন করা হবে।
* ডিজিটাল মার্কেটিং এবং বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাসহজ ও সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্স ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রকারের প্রমোশন কার্যক্রম ও প্রণোদনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
* এ নীতিমালার যে কোনো ধরনের সংশোধন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পরামর্শক্রমে তা সম্পাদন করবে।

About Sakal Bela

দেশীয় কোম্পানির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ না করেই দেশে এককভাবে ব্যবসা করতে পারবে বিদেশি কোম্পানি

সকালবেলা অনলাইন ডেস্কঃ

জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালার সংশোধনী অনুমোদন

দেশীয় কোম্পানির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ না করেই দেশে ডিজিটাল কমার্স খাতে বিদেশি প্রতিষ্ঠান বিধি-বিধান পালন করে এককভাবে ব্যবসা করতে পারবে।গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।এমন বিধান রেখে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স (সংশোধিত) নীতিমালা, ২০২০ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
এর আগে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া ‘জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা-২০১৮’ যা ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। ওই নীতিমালায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) স্থানীয় কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বের বাধ্যবাধকতার শর্ত দেয়া হয়েছিল।
নীতিমালায় বলা হয়েছিল, ‘ডিজিটাল কমার্স খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধি-বিধান প্রতিপালন করতে হবে। তবে বিদেশি ডিজিটাল কমার্স ইন্ডাস্ট্রি দেশীয় কোনো ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ ব্যতীত এককভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না এবং ডিজিটাল কমার্স ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থগুলোকে প্রাধান্য দেয়া হবে।
গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এটাকে পরিবর্তন করে ডিজিটাল কমার্স খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিবিধান প্রতিপালন করতে শুধু এ অংশটুকু রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ বিদেশি ডিজিটাল কমার্স ইন্ডাস্ট্রি দেশীয় কোনো ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ ছাড়াই এককভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না বলে আগের নীতিমালায় যে বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছিল তা তুলে দিল সরকার। আর এ নীতিমালা সংশোধনের ক্ষমতা পূর্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে থাকলেও এখন নীতিমালাটি সংশোধন করতে হলে তা মন্ত্রিসভায় আনতে হবে।
ডিজিটাল কমার্স নীতিমালার বিস্তারিত
নীতিমালায় ডিজিটাল-কমার্স সেক্টরের সার্বিক উন্নয়নে সেন্টার অব এক্সিলেন্স, সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ বা অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল গঠন, ভোক্তাদের জন্য কোড অব কন্ডাক্টসহ বিভিন্ন বিধি-বিধান রয়েছে।
* প্রতিষ্ঠানসমূহ ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধি-বিধান প্রতিপালন করবে।
* বিক্রির জন্য উপস্থাপিত পণ্য সামগ্রী যথাযথ মানসম্মত হবে।
* ক্রেতার স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে বিক্রয়যোগ্য পণ্যের যথাযথ বিবরণ এবং এ সংক্রান্ত শর্তাবলী উল্লেখ করবে।
* বিধি অনুযায়ী বিক্রীত পণ্য ফেরত, মূল্যফেরত ও প্রতিস্থাপন শর্তাবলী ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করতে হবে।
* ক্রেতা ও বিক্রেতাগণ ইলেক্ট্রনিক লেনদেন, ই-পেমেন্ট ইত্যাদি বিষয়ে বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধান প্রতিপালন করবে।
* সব ক্ষেত্রে ই-পেইমেন্ট ও মোবাইল পেমেন্ট চালু করা এবং ইলেক্ট্রনিক লেনদেন সহজতর ও নিরাপদ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। *ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের ওয়েবসাইটে বিক্রয়যোগ্য পণ্যের নির্ধারিত মূল্য প্রদর্শন করবে।
* ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান পেমেন্ট ব্যবস্থাকে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে।
* সব ব্যাংকে আন্তঃব্যাংক ও মোবাইল ফিনান্সিয়্যাল সার্ভিস (এমএফএস), ডিজিটাল ফিনান্সিয়্যাল সার্ভিস (ডিএফএস) লেনদেন উপযোগী সিস্টেম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।
* ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট ও পণ্য ডেলিভারির ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট অপারেশনাল গাইডলাইন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ প্রণয়ন করবে।
* ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট পেমেন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে ‘এসক্রো সার্ভিস’ চালু করা হবে।
* অনলাইন পেমেন্ট সার্ভিসকে গতিশীল করতে প্রি-পেইড কার্ড, ভার্চুয়াল কার্ড, ওয়ালেট কার্ডসমূহ এজেন্ট, ডিজিটাল কমার্স সাইটের মাধ্যমে প্রচারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
* ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং, প্রি-পেইড কার্ড, ক্রেডিট কার্ডসহ সব পেমেন্ট পদ্ধতি ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার মাধ্যমে রিয়াল টাইম ফান্ড ট্রান্সফারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
* বৈধ পথে আন্তঃদেশীয় অনলাইন কার্ডভিত্তিক লেনদেন সম্প্রসারণের নিমিত্ত ট্রাভেলার্স কোটা ও অনলাইন লেনদেনের কোটা বর্ধিতকরণ ও যুগোপযোগীকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
* পাইরেসি, হ্যাকিংসহ ডিজিটাল কমার্স খাত সংশ্লিষ্ট সব সাইবার অপরাধ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিদ্যমান ও উদ্ভুত ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
* যথাযথ নিরাপত্তার স্বার্থে ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রমিতমান অনুসরণ করে তাদের ওয়েবসাইট বা মার্কেটপ্লেস ইত্যাদি প্রস্তুত করবে।
* এ খাত সংশ্লিষ্ট কোনো অপরাধ চিহ্নিত হলে তা দেশে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাইট, মার্কেটপ্লেসের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
* দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রয়োজন সাপেক্ষে ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তু ও আইনি কাঠামো পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন, সংশোধন করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্স সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক গঠিত কেন্দ্রীয় সেল এ বিষয়ে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, প্রতিষ্ঠান, সংস্থার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করবে।
* ডিজিটাল কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সরকার মনোনীত সংস্থা, অ্যাসোসিয়েশন দেশের ডিজিটাল কমার্স ব্যবস্থা সংক্রান্ত কার্যক্রম কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করবে।
* এ খাতের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সেন্টার অব এক্সেলেন্স গঠন করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্স ব্যবসা পরিচালনা, বিক্রয়কৃত পণ্য সরবরাহ ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ, তদারকি এবং এসব কর্মকাণ্ড হতে উদ্ভুত অসন্তোষ নিরসন ও অপরাধসমূহের বিচার সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট আইনিকাঠামো প্রণয়ন করা হবে।
* ভোক্তাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ প্রণয়ন করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্স খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান প্রতিপালন করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্সবিষয়ক কপিরাইট ও মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, অনলাইন ডকুমেন্ট আদান-প্রদান সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধান-এ প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিমার্জন, পরিবর্ধনের কাযক্রম গ্রহণ করা হবে।
* আইপিআর (প্যাটেন্ট ও নকশা, ট্রেডমার্ক, কপিরাইট ইত্যাদি)-এ ডিজিটাল কমার্স বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্তির জন্য হালনাগাদ করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।
* মোবাইল অপারেটরদের নেট নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিধি-বিধান প্রতিপালন করতে হবে।
* লেনদেনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল স্বাক্ষর ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্স খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেবিদ্যমান বিধি-বিধান প্রতিপালন করতে হবে।
* ডিজিটাল কমার্স সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট, মার্কেটপ্লেস এবং হোস্টিং অ্যান্ডমেইনটেন্যান্স বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্স খাতসংশ্লিষ্ট লেনদেন এবং অসন্তোষ নিরসনের বিষয়াদি সুষ্ঠুভাবে প্রতিপালন করার উদ্দেশ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, সংস্থা’র মধ্যে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেল সমন্বয় সাধন করবে।
* ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা ও নতুন কোনো আইন ও বিধি-বিধান প্রণীত হলে, সে বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সব সংস্থাকে অবহিত করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্স খাতের বিভিন্ন দিকসমূহ ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচার- প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্স প্রক্রিয়ায় ক্রয়-বিক্রয়জনিত ভয়-ভীতি দূরীভূতকরণ এবং আস্থা অর্জনের জন্য ইলেক্ট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। *রাজধানীসহ সব বিভাগ, জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ বিষয়ে সেমিনার, কর্মশালা, মেলা, রোড শো ও র‌্যালি এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর উদ্যোগে ডিজিটাল কমার্স মেলা, সেমিনার আয়োজন করা হবে।
* ডিজিটাল মার্কেটিং এবং বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাসহজ ও সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
* ডিজিটাল কমার্স ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রকারের প্রমোশন কার্যক্রম ও প্রণোদনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
* এ নীতিমালার যে কোনো ধরনের সংশোধন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পরামর্শক্রমে তা সম্পাদন করবে।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*