অনিশ্চয়তার মুখে সড়ক প্রশ্বস্তকরণ

যশোর প্রতিনিধি
যশোরে র‌্যাব এবং সড়ক ও জনপথের দ্বন্ধের কারণে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এ উচ্ছেদের কাজ বন্ধ করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) যশোর। এর মধ্য দিয়ে পালবাড়ি-মুড়লী সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ অনিশ্চয়তার মুখে পড়লো।
যশোর শহরের পালবাড়ি থেকে মুড়লী পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তারই অংশ হিসেবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ শুরু হয়। বকচর থেকে মুড়লী পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছে সওজ।
অনেক দখলদার নিজ উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এই বিভাগের খুলনা জোনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সকাল থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। শ’ শ’ উৎসুক মানুষ উচ্ছেদ দেখতে ভিড় করে।
শহরের মানুষের মধ্যে এটি সাড়া ফেলে। কিন্তু বিপত্তি বাধে বকচরে র‌্যাব কার্যালয়ের সামনে যাওয়ার পর। সড়ক ও জনপথ বিভাগ র‌্যাব কার্যালয়ের সামনের প্রাচীর অবৈধ স্থাপনা উল্লেখ করে ভাঙা শুরু করে। আর তখনই শুরু হয় ঝামেলা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, র‌্যাব সদস্যরা তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে অশোভন আচরণ করেছে। এমনকি মারপিটও করেছে তারা। কেবল তাই না, তারা উচ্ছেদে নেতৃত্বদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। আটকে রাখে স্কেভেটর চালককে। এসব নিয়ে দু’ পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের মধ্যস্থতায় সাময়িকভাবে বিষয়টির নিরসন হয়। এরপর সামগ্রিক বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা।
কেবল জানাননি, স্থগিত করেছে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ। ফলে, অনিশ্চয়তার মুখে পড়লো পালবাড়ি-মুড়লী সড়ক প্রশ্বস্তকরণ কাজ। এ কারণে হতাশ হয়ে পড়েছে এই সড়কে চলাচলকারী লোকজন।
তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বকচর এলাকার রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ভোগে রয়েছে এই এলাকার হাজার হাজার মানুষ। সড়কের দু’ পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ শুরু হওয়ায় আশায় বুক বাধে দুর্ভোগে থাকা লোকজন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিরাশ হয়েছে তারা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, গত বুধবারের ঘটনার পর তারা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ আপাতত বন্ধ করেছে। বিষয়টি তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে ফের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।
তাদের অভিযানে ব্যাঘাত ঘটিয়ে সরকারি কাজে বাধা দেয়া হয়েছে। যা কাম্য না। অবৈধ অভিযান বন্ধ করায় উন্নয়ন কাজে কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে কিনা জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী কোনো মন্তব্য করেননি।