Sunday , 29 November 2020
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » দেশগ্রাম » ইসলামে ধর্মব্যবসাও অন্ধভক্ত হওয়ার সুযোগ নাই-আবির হাসান

ইসলামে ধর্মব্যবসাও অন্ধভক্ত হওয়ার সুযোগ নাই-আবির হাসান

আমাদের ধর্মব্যবসায়ীরা যুগে যুগে  কালে কালে এদেশের সরল সোজা মানুষকে ঠকিয়েছে, তারা সঠিক ইসলামের দাওয়াত দেয়নি। যদি দিত তাহলে এদেশে লক্ষাধিক পীরবাবা থাকতোনা, পীরকেন্দ্রিক,মাজারকেন্দ্রিক কোটি কোটি টাকার ব্যবসা চলতোনা৷ তারা যুগ যুগ ধরে সুর তাল লয় মিলিয়ে কিচ্ছা কাহিনী বলে ইসলাম প্রচারের চেষ্টা করেছে, অথচ ইসলামে মিথ্যা গুজব বানোয়াটের কোন স্থান নাই। কোরআন হাদিসে নবী-রাসুল,সাহাবায়ে কেরামগণের এমন বহু ঘটনা আছে যা দ্বারা দাওয়াত দেওয়া সম্ভব। কিন্তু এরা নিজেদের স্বার্থে তা করেনি,তারা বলে গেছে ‘টুনটুনি ও সাপ’এর গল্প, ‘ব্যাঙ ও গরু’র গল্প৷তারা তাদের টাইটেল ব্যবহার করে দমিয়ে রেখেছে যারা ইসলামের সঠিক দাওয়াত দিতে চেয়েছে তাদেরকে।
তাদের কপালে ভাজ পড়লো যখন ড.জাকির নায়েক, ওস্তাদ নোমান আলী  খানের মতো স্কলার আসলেন। তাদের সেই ভাজ দ্বিগুণ হলো যখন ইন্টারনেটের যুগ আসলো, কারণ এতে তাদের ভন্ডামি মুহুর্তেই চলে যাচ্ছে কোটি মানুষের সামনে।
সেই ভাজ তিনগুণ হলো যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যারা মাদ্রাসায়ও পড়েনি কখনো ,তারা ইসলাম নিয়ে রিসার্চ শুরু করলো। কারণ তারা এটা ভালোভাবেই জানে একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ধর্মতত্ত্ব নিয়ে তখনই পড়ে যখন তার আসলেই আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা থাকে ,আর ঐ ছাত্ররা কোনদিনই তাদের মতো কিচ্ছা কাহিনী বলে টাকা কামানোর কাজ করবেনা ,তারা করলে প্রকৃত ইসলামই প্রচার করবে।
গত ২০১৭ সাল থেকে ২০১৮,১৯ সালে একুশে বইমেলায় একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের(আরিফ আজাদ) লেখা বই বেস্ট সেল হচ্ছে, মানুষ এখন প্রকৃত ইসলামকে চিনছে, ভন্ডদের ধরে ফেলছে এজন্য তাদের দমানোর শেষ অস্ত্র হিসেবে বলছে যে এরা মাদ্রাসার ছাত্র নয়,আমরা ইয়া বড় মাদ্রাসার ছাত্র ,মস্ত বড় ওমুক তমুকের মুরিদ,ওমুক দলের নেতা।
যদি কাঠমোল্লারা এতই পারতো কিচ্ছা বলে ধর্ম প্রচার করতে তাহলে এতদিনে কেন পারলোনা “প্যারাডক্সিকাল সাজিদ,আরজ আলী সমীপে, বেলা ফুরাবার আগে” এর মতো সুপারহিট বই লিখে তরুণদের দাওয়াত দিতে?
তাদের এখন একটাই টেনশন তাদের ভন্ডামি ধরা পড়ে যাবে। তবে আমরাও বিশ্বাস করি আমাদের সাথে স্বয়ং আল্লাহ আছেন, আর কোনো পীর মুরিদ কিচ্ছু লাগবেনা।
এ আঁধার কেটে যাবেই ,অবসান হবেই এই অমানিশার -ইনশাল্লাহ।
সত্যের জয় অনিবার্য ,
ইসলামের বিজয় আসন্ন।
লেখক সময়ের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার দেখে বুঝানোর চেস্টা করে বলেন,
অনেক হয়েছে এইবার থামেন,অনেক খেলেছেন নোংরা খেলা।রাজনীতির উছিলায় ইসলামকে ছোট করেছেন বারবার, আর কইরেন না। তাকে একবার চাঁদে উঠিয়েছেন, গোটা দুনিয়ার কাছে ইসলাম আর বাংলাদেশকে হাসির খোরাকি বানিয়েছেন। এমনিতেই মুসলমানদের সর্বনাশ করতে গোটা বিশ্ব লেগে আছে তারওপর আপনারা এসব ছাগলামি করেন।খারাপ না, ভালোই।
কি মনে করেন ইসলামকে? নানিগো বাড়ির বাংলা কলা? যে গাছে পেকে আছে আর গিয়ে ছিঁড়ে মুখে পুড়ে দিলেন!নাকি পাটকাঠি মনে করেন যে ধরলেন আর ভেঙে গেল?
এত সস্তা?  এত সোজা?শত সহস্র সাহাবির রক্তে কেনা আমাদের কালেমা, আপনাদের মতো সস্তা ধর্মব্যবসায়াীরা সেই সত্যকে বিক্রি করেছেন। যে ইসলাম উমর,আলীর জীবনের বিনিময়ে কেনা সেই ইসলাকে নিয়ে আপনারা সস্তা রাজনীতি করেছেন শুধু স্বার্থের জন্য।
যে রাসূল(সাঃ)কে আরবের বাদশাহি,নারী,গাড়ির লোভ ঢলাতে পারেনি আপনারা সেই রাসূল(সাঃ) এর নাম মুখে মুখে বলে শুধু লোভের জন্য একজন বেপর্দা মহিলার সাথে জোট গঠন করেন, একজন পর্দাহীন, মশারি টাইপ শাড়ি পড়া মহিলার পাশে বসেন। কোথায় যায় তখন রাসূলের আদর্শ?? ভেবে দেখেছেন কি কখনো?
তিনি নাকি একজন বিশ্বনন্দিত মুফাসসির, কৈ আজ পর্যন্ত তো দেখলাম না কোনো বিশ্বনন্দিত স্কলার তার মুক্তি চেয়ে কথা বলেছেন।
মিথ্যা রটানো বন্ধ করেন,শত সাহাবি শহীদের রক্ত দিয়ে কেনা ইসলামকে আর হাসির তামাশার পাত্র বানায়েন না। আসুন সঠিক ইসলামকে চিনি, কারো অন্ধভক্ত না হই।
বিভিন্ন বক্তাবৃন্দের সুরেলা কন্ঠ শুনে মাতাল হয়ে যাওয়ার জন্য ইসলাম আসেনি।
মনে রাখবেন একজন স্কলার আর বক্তার মাঝে বিশাল ফারাক রয়েছে।

About Sakal Bela