Wednesday , 30 September 2020
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » দেশগ্রাম » কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে শ্রমিকলীগ সম্পাদক ও হরিজন সম্প্রদায়ের তুলকালাম

কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে শ্রমিকলীগ সম্পাদক ও হরিজন সম্প্রদায়ের তুলকালাম

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে জেলা শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক আমজাদ আলী খান এবং হরিজন সম্প্রদায়ের তুলকালাম কান্ডে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শহরের মিললাইন এলাকা। আমজাদ আলী খান’র দাবী মিললাইনের পাশে তার পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া জমিতে তিনি কলা বাগান করেছেন। অপরদিকে মোহিনী মিলসের জায়গায় (মিললাইন এলাকা বলে পরিচিত) বসবাসকারি হরিজনদের দাবী তাদের বাথরুম উচ্ছেদ করে জায়গা দখলের পায়তারা করছেন আমজাদ আলী খান। এই নিয়ে রবিবার রাতে হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষজন বিক্ষোভ শুরু করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে লাঠিচার্জে কয়েকজন  স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে ঐ সম্পত্তি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রানালয়ের অধীনস্থ মোহিনী মিলের দাবি করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন মোহিনী মিলস্ এর দায়িত্বে থাকা সহ-ব্যবস্থাপক আবুল হাশেম।
এদিকে সোমবার(০৮ জুন) আমজাদ আলি খান’র এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন মিল লাইন এ বসবাসকারি হরিজন সম্প্রদায়। একইদিন নিজের অবস্থান পরিস্কার করতে সাংবাদিকদের বরাত দিয়ে তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে লাগানো কলাবাগান কেটে উচ্ছেদ করেছে হরিজন সম্প্রদায় বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক আমজাদ আলী খান।
স্থানীয় ও প্রত্যেক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, মিল লাইন এ বসবাসকারি হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের পল্লীর পাশের ফাঁকা জায়গায় গোসল ও মিলের গণশৌচাগার ব্যবহার করতো। কয়েক বছর আগে হঠাৎ শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক আমজাদ আলী খান ঐ জায়গা ঘিরে কলা বাগান করেন। প্রতিকার চেয়ে হরিজন সম্প্রদায়রা স্থানীয় নেতা থেকে প্রশাসন সবার কাছে ধন্যা দেয়। এছাড়া ব্যাপারটি নিয়ে কয়েকদফায় তারা বাক বিতন্ডায় ও জড়িয়ে পড়ে। কয়েকদিন আগে পুনরায় শ্রমিকলীগ নেতা শৌচাগারের সামনে টিন দিয়ে ঘিরে দেয়।এতে ফুঁসে ওঠে হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষজন। রবিবার রাতে তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে ডেকে বিষয়টি দেখায়। জায়গার সামনে তারা বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় শ্রমিক নেতা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন আহত হয়। পরে পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এদিকে একই জমি মোহিনী মিলের সম্পত্তি দাবি ও তা দখলের অভিযোগে মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছে মিল কর্র্তৃপক্ষ।
নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরে সহ-ব্যবস্থাপক(কারিগরী ও মিল ইনচার্জ) আবুল হাশেম অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের ২৭ আগষ্ট থেকে মোহিনী মিলস লি: এর খালি জায়গা আমজাদ আলী খান জোর পূর্বক দখল নেয়ার চেষ্টা করে আসছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনেকবার তাকে নিষেধ করলেও তিনি কথা শোনেননি। উল্টো উক্ত মিলের একটি বাথরুম ভেঙে দিয়েছেন। এই কথা কাউকে বললে সে আমাকে জানে মেরে ফেলার হুমকী দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোহিনী মিলের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একজন জানান,এর আগেও থানায় জিডি করা হয়েছে। মোহিনী মিলের খালি জায়গা অবৈধভাবে দখল প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা জানান, ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি, মিল লাইন এ বসবাসকারি হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ মিলের পায়খানা ব্যবহার করতো। কয়েক বছর আগে হঠাৎ দেখলাম আমজাদ আলি খান ঐ জায়গা ঘিরে কলা বাগান করলেন। গণশৌচাগার তো বন্ধ করলেন সাথে জায়গাও ঘিরে ফেললেন। তাহলে আমরা কোথায় যাবো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিল লাইনের একজন বাসিন্দা জানান, আমি তো হরিজন সম্প্রদায়ের কেউ না। বাপ দাদার চাকুরীসুত্রে পরিবার নিয়ে মোহিনী মিলের কোয়ার্টারে বসবাস করি। বুঝ হওয়ার পর থেকেই দেখছি ঐ জায়গায় হরিজনরা গণশৌচাগার হিসেবে ব্যবহার করছে। ঘটনার দিন আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম রাস্তায়। পুলিশ হঠাৎ করে এসে লাঠিচার্জ শুরু করে। আমার হাতের হাড়ে গুরুত্বর চোট লেগেছে। ঐ দিন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। এখন ভয়ে আছি আবার উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে না পড়ে যায়।
জেলা শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক আমজাদ আলি খান জানান, মোহিনী মিলের জায়গা ছাড়াও হরিজনরা তার জমির ভিতর তিন ফুট ঢুকেছে। মিলের পরিত্যক্ত বাথরুমটি পৌরসভাকে বলে ৮/৯ বছর আগে থেকে তালা মারা। সেটার ভাঙ্গা জানালা দিয়ে ঢুকে এলাকার কিছু চিহিৃত মাদকসেবী প্রতিরাতেই নিয়মিত মাদক সেবন করে আসছিল। এর প্রতিবাদ করায় মাদকসেবীরা রবিবার রাতে তার ৩ শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলেছে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলেন তিনি।
এদিকে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন,পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই পক্ষকে জমির কাগজ নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। পর্যালোচনা করে দেখা হবে কার জমির কাগজপত্র সঠিক।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী মোহিনী মিলটি ৯৯ বিঘা জমিসহ প্রথমবারের মতো মিলটি শাহমখদুম টেক্সটাইল লি: এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সর্বশেষ ইনারগোটেক লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর করতে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছিল। এ নিয়ে মোট পাঁচবার মিলটি হস্তান্তর করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। বর্তমানে মিলটি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের লিকুইডেশন সেল এর তত্ত¦াবধানে রয়েছে।

About Sakal Bela

কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে শ্রমিকলীগ সম্পাদক ও হরিজন সম্প্রদায়ের তুলকালাম

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে জেলা শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক আমজাদ আলী খান এবং হরিজন সম্প্রদায়ের তুলকালাম কান্ডে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শহরের মিললাইন এলাকা। আমজাদ আলী খান’র দাবী মিললাইনের পাশে তার পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া জমিতে তিনি কলা বাগান করেছেন। অপরদিকে মোহিনী মিলসের জায়গায় (মিললাইন এলাকা বলে পরিচিত) বসবাসকারি হরিজনদের দাবী তাদের বাথরুম উচ্ছেদ করে জায়গা দখলের পায়তারা করছেন আমজাদ আলী খান। এই নিয়ে রবিবার রাতে হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষজন বিক্ষোভ শুরু করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে লাঠিচার্জে কয়েকজন  স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে ঐ সম্পত্তি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রানালয়ের অধীনস্থ মোহিনী মিলের দাবি করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন মোহিনী মিলস্ এর দায়িত্বে থাকা সহ-ব্যবস্থাপক আবুল হাশেম।
এদিকে সোমবার(০৮ জুন) আমজাদ আলি খান’র এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন মিল লাইন এ বসবাসকারি হরিজন সম্প্রদায়। একইদিন নিজের অবস্থান পরিস্কার করতে সাংবাদিকদের বরাত দিয়ে তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে লাগানো কলাবাগান কেটে উচ্ছেদ করেছে হরিজন সম্প্রদায় বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক আমজাদ আলী খান।
স্থানীয় ও প্রত্যেক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, মিল লাইন এ বসবাসকারি হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের পল্লীর পাশের ফাঁকা জায়গায় গোসল ও মিলের গণশৌচাগার ব্যবহার করতো। কয়েক বছর আগে হঠাৎ শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক আমজাদ আলী খান ঐ জায়গা ঘিরে কলা বাগান করেন। প্রতিকার চেয়ে হরিজন সম্প্রদায়রা স্থানীয় নেতা থেকে প্রশাসন সবার কাছে ধন্যা দেয়। এছাড়া ব্যাপারটি নিয়ে কয়েকদফায় তারা বাক বিতন্ডায় ও জড়িয়ে পড়ে। কয়েকদিন আগে পুনরায় শ্রমিকলীগ নেতা শৌচাগারের সামনে টিন দিয়ে ঘিরে দেয়।এতে ফুঁসে ওঠে হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষজন। রবিবার রাতে তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে ডেকে বিষয়টি দেখায়। জায়গার সামনে তারা বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় শ্রমিক নেতা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন আহত হয়। পরে পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এদিকে একই জমি মোহিনী মিলের সম্পত্তি দাবি ও তা দখলের অভিযোগে মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছে মিল কর্র্তৃপক্ষ।
নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরে সহ-ব্যবস্থাপক(কারিগরী ও মিল ইনচার্জ) আবুল হাশেম অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের ২৭ আগষ্ট থেকে মোহিনী মিলস লি: এর খালি জায়গা আমজাদ আলী খান জোর পূর্বক দখল নেয়ার চেষ্টা করে আসছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনেকবার তাকে নিষেধ করলেও তিনি কথা শোনেননি। উল্টো উক্ত মিলের একটি বাথরুম ভেঙে দিয়েছেন। এই কথা কাউকে বললে সে আমাকে জানে মেরে ফেলার হুমকী দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোহিনী মিলের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একজন জানান,এর আগেও থানায় জিডি করা হয়েছে। মোহিনী মিলের খালি জায়গা অবৈধভাবে দখল প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা জানান, ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি, মিল লাইন এ বসবাসকারি হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ মিলের পায়খানা ব্যবহার করতো। কয়েক বছর আগে হঠাৎ দেখলাম আমজাদ আলি খান ঐ জায়গা ঘিরে কলা বাগান করলেন। গণশৌচাগার তো বন্ধ করলেন সাথে জায়গাও ঘিরে ফেললেন। তাহলে আমরা কোথায় যাবো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিল লাইনের একজন বাসিন্দা জানান, আমি তো হরিজন সম্প্রদায়ের কেউ না। বাপ দাদার চাকুরীসুত্রে পরিবার নিয়ে মোহিনী মিলের কোয়ার্টারে বসবাস করি। বুঝ হওয়ার পর থেকেই দেখছি ঐ জায়গায় হরিজনরা গণশৌচাগার হিসেবে ব্যবহার করছে। ঘটনার দিন আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম রাস্তায়। পুলিশ হঠাৎ করে এসে লাঠিচার্জ শুরু করে। আমার হাতের হাড়ে গুরুত্বর চোট লেগেছে। ঐ দিন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। এখন ভয়ে আছি আবার উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে না পড়ে যায়।
জেলা শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক আমজাদ আলি খান জানান, মোহিনী মিলের জায়গা ছাড়াও হরিজনরা তার জমির ভিতর তিন ফুট ঢুকেছে। মিলের পরিত্যক্ত বাথরুমটি পৌরসভাকে বলে ৮/৯ বছর আগে থেকে তালা মারা। সেটার ভাঙ্গা জানালা দিয়ে ঢুকে এলাকার কিছু চিহিৃত মাদকসেবী প্রতিরাতেই নিয়মিত মাদক সেবন করে আসছিল। এর প্রতিবাদ করায় মাদকসেবীরা রবিবার রাতে তার ৩ শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলেছে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলেন তিনি।
এদিকে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন,পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই পক্ষকে জমির কাগজ নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। পর্যালোচনা করে দেখা হবে কার জমির কাগজপত্র সঠিক।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী মোহিনী মিলটি ৯৯ বিঘা জমিসহ প্রথমবারের মতো মিলটি শাহমখদুম টেক্সটাইল লি: এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সর্বশেষ ইনারগোটেক লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর করতে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছিল। এ নিয়ে মোট পাঁচবার মিলটি হস্তান্তর করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। বর্তমানে মিলটি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের লিকুইডেশন সেল এর তত্ত¦াবধানে রয়েছে।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!