Wednesday , 30 September 2020
Home » দৈনিক সকালবেলা » পাচঁফোড়ন » ’করোনাযুদ্ধের সময় একই দিনে দুই সহযোদ্ধাকে হারানো খুবই কষ্টদায়ক’

’করোনাযুদ্ধের সময় একই দিনে দুই সহযোদ্ধাকে হারানো খুবই কষ্টদায়ক’

অনলাইন ডেস্ক:
মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘রাজনীতিতে পাশে থেকে যাঁরা সাহস ও সমর্থন দিয়েছেন তাঁরা একে একে আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। নাসিম ভাইয়ের পর শেখ আব্দুল্লাহ ভাইও চলে গেলেন। বর্তমান করোনাযুদ্ধের সময় একই দিনে দুই সহযোদ্ধাকে হারানো খুবই কষ্টদায়ক।’
গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বক্তৃতার সময় শোকে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।
অনেক কষ্টে তিনি বক্তৃতা শেষ করেন। এ সময় রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রয়াত দুই নেতার অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশে ফেরার পর পদে পদে আমাকে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এ সময় যে দুজনকে আমি সব সময় পাশে পেয়েছি, একই দিনে তাঁদের হারালাম। শোকসন্তপ্ত পরিবার সদস্যদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি দুই নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
করোনা পরিস্থিতিতে গভীর শোকার্ত পরিবেশে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই আলোচনায় আরো অংশ নেন বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের, আওয়ামী লীগের মতিয়া চৌধুরী, ডা. হাবিবে মিল্লাত ও মৃণাল কান্তি দাস, ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ এবং জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ। আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিতে শোক প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়। এরপর এক মিনিট নীরবতা পালন ও আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এরপর দিনের অন্যান্য কার্যসূচি স্থগিত করে অধিবেশন মুলতবি করা হয়।
আলোচনাকালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে মোহাম্মদ নাসিমের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁকে ১৪ দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কারণ তিনি সবাইকে নিয়ে চলতে পারতেন। শরিক দলের সদস্যরাও তাঁকে ভালো জানতেন। তিনি সফলতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বিরাট ক্ষতি হয়েছে নিঃসন্দেহে।
ওয়ান ইলেভেনের সময় কারাগারে থাকা অবস্থায় স্ট্রোক করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় কারাবন্দি সালমান এফ রহমানের জন্য একটি অ্যাম্বুল্যান্স সব সময় জেলগেটে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে রাখা থাকত। ওই অ্যাম্বুল্যান্সে করে মোহাম্মদ নাসিমকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় বলে তিনি সেই যাত্রায় বেঁচে যান। তবে ওই সময় তাঁর শরীরের একপাশ প্যারালাইজড হয়ে যায়। কিন্তু তার পরও তিনি জনগণের সেবায় নিরলস পরিশ্রম করেছেন।
করোনাভাইরাস সব কিছুই কঠিন করে তুলেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা এমন একটা অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যে আমাদের দলের কেউ মারা গেলে তার পরিবারের কাছে ছুটে যাব, একটু সান্ত্বনা দেব, সেই সুযোগ পাচ্ছি না। সংসদে আসার সময় আমাকে অনেক জায়গা থেকে সংসদে না আসতে নিষেধ করা হয়েছে। আমি বললাম গুলি, বোমা, গ্রেনেড কত কিছুই তো মোকাবেলা করে করে এ পর্যন্ত এসেছি। আর একটা অদৃশ্য শক্তি তার ভয়ে ভীত হয়ে থাকব? আমার পরিবারের একজন সদস্য মারা যাবে, আর আমি আসব না, এটা হতে পারে না’ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্বের করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস আক্রান্ত উন্নত-অনুন্নত দেশের সবাই ভয়ে আছেন। এই আতঙ্কটা এমন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে, যেটা দুঃখজনক। তবে যে এলাকা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেখানে লকডাউন করছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি অন্ততপক্ষে দেশের মানুষ যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে। পাশাপাশি করোনার ভয়ে মানুষগুলোকে তো না খেয়ে মারতে পারি না। তাদের বেঁচে থাকার ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের জীবনযাত্রা যেন চলে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে বলে আশা করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দারিদ্র্যের হার মাত্র ১০ বছরের মধ্যেই আমরা কমিয়ে এনেছি। আমাদের জিডিপি বেড়ে গিয়েছিল। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছিলাম। কিন্তু এমন একটা অদৃশ্য শক্তি করোনাভাইরাস সারাবিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। আমাদের কোনো নেতাকর্মী মারা গেলে, আমরা ছুটে গেছি তার জানাজায়। আমরা কবরে ফুল দেই ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করি, সমবেদনা জানাই। এখন এমনই অস্বাভাবিক পরিবেশ যে আমরা এবার সেটা করতে পারছি না। সেটাই হলো সবচেয়ে বড় কষ্টকর। একটা আতঙ্ক, ভয়ভীতি যেন সারা বিশ্বকে পেয়ে বসেছে।’ করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

About Sakal Bela

’করোনাযুদ্ধের সময় একই দিনে দুই সহযোদ্ধাকে হারানো খুবই কষ্টদায়ক’

অনলাইন ডেস্ক:
মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘রাজনীতিতে পাশে থেকে যাঁরা সাহস ও সমর্থন দিয়েছেন তাঁরা একে একে আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। নাসিম ভাইয়ের পর শেখ আব্দুল্লাহ ভাইও চলে গেলেন। বর্তমান করোনাযুদ্ধের সময় একই দিনে দুই সহযোদ্ধাকে হারানো খুবই কষ্টদায়ক।’
গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বক্তৃতার সময় শোকে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।
অনেক কষ্টে তিনি বক্তৃতা শেষ করেন। এ সময় রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রয়াত দুই নেতার অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশে ফেরার পর পদে পদে আমাকে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এ সময় যে দুজনকে আমি সব সময় পাশে পেয়েছি, একই দিনে তাঁদের হারালাম। শোকসন্তপ্ত পরিবার সদস্যদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি দুই নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
করোনা পরিস্থিতিতে গভীর শোকার্ত পরিবেশে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই আলোচনায় আরো অংশ নেন বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের, আওয়ামী লীগের মতিয়া চৌধুরী, ডা. হাবিবে মিল্লাত ও মৃণাল কান্তি দাস, ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ এবং জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ। আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিতে শোক প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়। এরপর এক মিনিট নীরবতা পালন ও আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এরপর দিনের অন্যান্য কার্যসূচি স্থগিত করে অধিবেশন মুলতবি করা হয়।
আলোচনাকালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে মোহাম্মদ নাসিমের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁকে ১৪ দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কারণ তিনি সবাইকে নিয়ে চলতে পারতেন। শরিক দলের সদস্যরাও তাঁকে ভালো জানতেন। তিনি সফলতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বিরাট ক্ষতি হয়েছে নিঃসন্দেহে।
ওয়ান ইলেভেনের সময় কারাগারে থাকা অবস্থায় স্ট্রোক করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় কারাবন্দি সালমান এফ রহমানের জন্য একটি অ্যাম্বুল্যান্স সব সময় জেলগেটে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে রাখা থাকত। ওই অ্যাম্বুল্যান্সে করে মোহাম্মদ নাসিমকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় বলে তিনি সেই যাত্রায় বেঁচে যান। তবে ওই সময় তাঁর শরীরের একপাশ প্যারালাইজড হয়ে যায়। কিন্তু তার পরও তিনি জনগণের সেবায় নিরলস পরিশ্রম করেছেন।
করোনাভাইরাস সব কিছুই কঠিন করে তুলেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা এমন একটা অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যে আমাদের দলের কেউ মারা গেলে তার পরিবারের কাছে ছুটে যাব, একটু সান্ত্বনা দেব, সেই সুযোগ পাচ্ছি না। সংসদে আসার সময় আমাকে অনেক জায়গা থেকে সংসদে না আসতে নিষেধ করা হয়েছে। আমি বললাম গুলি, বোমা, গ্রেনেড কত কিছুই তো মোকাবেলা করে করে এ পর্যন্ত এসেছি। আর একটা অদৃশ্য শক্তি তার ভয়ে ভীত হয়ে থাকব? আমার পরিবারের একজন সদস্য মারা যাবে, আর আমি আসব না, এটা হতে পারে না’ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্বের করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস আক্রান্ত উন্নত-অনুন্নত দেশের সবাই ভয়ে আছেন। এই আতঙ্কটা এমন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে, যেটা দুঃখজনক। তবে যে এলাকা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেখানে লকডাউন করছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি অন্ততপক্ষে দেশের মানুষ যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে। পাশাপাশি করোনার ভয়ে মানুষগুলোকে তো না খেয়ে মারতে পারি না। তাদের বেঁচে থাকার ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের জীবনযাত্রা যেন চলে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে বলে আশা করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দারিদ্র্যের হার মাত্র ১০ বছরের মধ্যেই আমরা কমিয়ে এনেছি। আমাদের জিডিপি বেড়ে গিয়েছিল। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছিলাম। কিন্তু এমন একটা অদৃশ্য শক্তি করোনাভাইরাস সারাবিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। আমাদের কোনো নেতাকর্মী মারা গেলে, আমরা ছুটে গেছি তার জানাজায়। আমরা কবরে ফুল দেই ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করি, সমবেদনা জানাই। এখন এমনই অস্বাভাবিক পরিবেশ যে আমরা এবার সেটা করতে পারছি না। সেটাই হলো সবচেয়ে বড় কষ্টকর। একটা আতঙ্ক, ভয়ভীতি যেন সারা বিশ্বকে পেয়ে বসেছে।’ করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!