Tuesday , 29 September 2020
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » দেশগ্রাম » থেমে নেই বাংলাদেশের সেই 'বজরঙ্গী ভাইজান',

থেমে নেই বাংলাদেশের সেই 'বজরঙ্গী ভাইজান',

অনলাইন ডেস্ক:
বরগুনার জামাল ইবনে মুছা। ভারত থেকে পাচার হয়ে বরগুনায় আসা শিশু সনুকে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে দীর্ঘ ছয় বছর পরে ভারতে তার বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশের ‘বজরঙ্গী ভাইজান’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন ভারত-বাংলাদেশের কোটি জনতার মাঝে। দুই দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমে যাঁকে নিয়ে অসংখ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল সে সময়। ভারতীয় নিউজ চ্যানেল আইবিএন সেভেনে জামাল ইবনে মুছাসহ সে সময়কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এবং অপহৃত সনু ও তার মাকে নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রচার করেছিল।বাংলাদেশেও তাঁকে নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই জামাল ইবনে মুছা এখনও থেমে নেই। থেমে নেই তার মানবিকতার কাজ।
বরগুনার বেতাগী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল গেরামর্দন গ্রামে নিজের যেটুকু সামান্য জমি রয়েছে, তার সবটুকু দান করে তিনি গড়ে তুলেছেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর এবং হযরত মোহাম্মদ (সা.) স্মৃতি পাঠাগার। ঢাকার সড়কে ঠিকানাবিহীন হয়ে পড়ে থাকা এক অশীতিপর বৃদ্ধাকে নিজের বাড়িতে দিয়েছেন আশ্রয়। দিচ্ছেন ভরণপোষন। মরনোত্তর চক্ষু ও দেহ দান করেছেন জামাল ইবনে মুছা।
রাজধানী ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশনে দীর্ঘ ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভিক্ষে করতেন জুলফেতুন নামের এক অশীতিপর বৃদ্ধা। দেশের বাড়ি ভারতের কোনো এক গ্রামে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কখন কিভাবে এখানে এসেছেন জানেন না তিনি। সেই থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে কোনমতে বেঁচে থাকা তার কমলাপুর রেলস্টেশনের ওভারব্রিজে। জামাল ইবনে মুছার চোখে পড়েন এই বৃদ্ধা। তারপর থেকে তাকে বরগুনার বেতাগী উপজেলার বাড়ি এনে চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন ‘বজরঙ্গী ভাইজান’।

বৃদ্ধা জুলফেতুন বেগম জানান, এখন তিনি ভালো আছেন। কোনো আশ্রম নয়, এই অসহায় বৃদ্ধাকে দেখে মায়া হওয়ায় নিজ বাড়িতে নিয়ে এসেছেন বলে জানালেন জামাল। শুধু অসহায় মানুষের আশ্রয়স্থল নয়,  জামাল ইবনে মুছা তার বাড়ির সবটুকু জমি দান করেছেন হযরত মোহাম্মদ (সা.) স্মৃতি পাঠাগার ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের নামে। সংগ্রহ করেছেন শত শত বই। জামাল ইবনে মুছার এসব উদ্যোগ আয়োজন দেখে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। অনেকেই আসছেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরে। কেউবা আসছেন হযরত মোহাম্মদ (সা.) স্মৃতি পাঠাগারে।
স্থানীয় উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী তৌহিদা আক্তার জানান, জামাল ইবনে মুছার লাইব্রেরিতে শুধু ইসলাম ধর্ম নয়, সকল ধর্মের বই-ই আছে। আছে নতুন নতুন অনেক বই, যা পড়ে আমরা অনেক কিছু জানতে পারছি।
স্থানীয় এলাকাবাসী সজিব খান বলেন, জামাল ইবনে মুছার সামান্য জমিজমার সবটুকুই দান করে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর এবং হযরত মোহাম্মদ (সা.) স্মৃতি পাঠাগারের নামে। যা এ সমাজের জন্য বিরল দৃষ্টান্ত।
বরগুনা জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মুনিরুজ্জামান বলেন, জামাল ইবনে মুছা এর আগে ভারত থেকে পাচার হয়ে আসা একটি শিশু সনুকে অনেক সংগ্রাম করে তাকে ভারত পৌঁছে দিয়েছেন। জামাল ইবনে মুছা একজন সত্যিকার ভালো মানুষ। প্রত্যন্ত গ্রামে তার বাড়িতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ও হযরত মোহাম্মদ (সা.) স্মৃতি পাঠাগার তৈরি করে একটি অনন্য উদাহরণ গড়েছেন। জামাল ইবনে মুছার এ উদ্যোগে সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তা আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!