Monday , 28 September 2020
Home » দৈনিক সকালবেলা » পাচঁফোড়ন » এলাকাভিত্তিক লকডাউন কার্যকরে ধীরগতির একমাত্র সমস্যা সমন্বয়হীনতা

এলাকাভিত্তিক লকডাউন কার্যকরে ধীরগতির একমাত্র সমস্যা সমন্বয়হীনতা

অনলাইন ডেস্ক:
এলাকাভিত্তিক লকডাউন কার্যকরে ধীরগতির একমাত্র সমস্যা সমন্বয়হীনতা ।কেন্দ্র ও মাঠ উভয় পর্যায়ে সমন্বয় নিয়ে সমস্যা হচ্ছে।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ দেখিয়েছে। মাঠ প্রশাসন থেকেও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে লকডাউনের বিষয়ে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ এসেছে। তাই এলাকাভিত্তিক লকডাউন কার্যকরে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেলেও দু-একটি বাদে অন্য জায়গাগুলোতে এখনো শুরুই হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটি রাজধানীর প্রায় ৫০টি এলাকা ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে লকডাউনের জন্য তালিকা করেছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করেননি স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিষয়টিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, এতগুলো এলাকা একসঙ্গে লকডাউন করা হলে রাজধানী পুরোই স্থবির হয়ে পড়বে। একসঙ্গে এতগুলো এলাকা লকডাউন করতে গেলে প্রশাসনের দীর্ঘ প্রস্তুতিও প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা কতটা আছে তা-ও বুঝতে হবে।
দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, এসব বিষয় আগে বিবেচনায় না নিয়ে ‘রেড জোন’ চিহ্নিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক সচিবকে বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত উপস্থাপনের জন্য মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
এদিকে লকডাউনসহ সামগ্রিক বিষয় কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয়ের দায়িত্ব নিজেরা নিয়ে নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সর্বশেষ গত ১৫ জুন দেশব্যাপী চলা বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারি অফিস, গণপরিবহনসহ অন্যান্য বিষয়ে ১৯ দফাসংবলিত একটি অফিস স্মারক জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। স্মারকের সর্বশেষ দফায় বলা হয়ছে, ‘স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অনুরোধ অনুসারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জোনসংক্রান্ত বিষয়াদি সমন্বয় করবে।’
অন্যদিকে সংক্রামক ব্যাধি আইন অনুযায়ী, দেশব্যাপী সংক্রামক রোগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি)। আর জেলা বা মাঠ পর্যায়ের প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হন সিভিল সার্জনরা। এ আইনের ভিত্তিতে গত ১০ জুন সারা দেশে এলাকাভিত্তিক ‘রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন’ ঘোষণার জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইনসহ অফিস আদেশ জারি করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি। ওই আদেশে আইন অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে এলাকাভিত্তিক জোন ঘোষণার ক্ষমতাপ্রাপ্ত হিসেবে সিভিল সার্জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিভিল সার্জন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা, প্রশাসন, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকাভিত্তিক লকডাউন কার্যকর করবেন বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের একাধিক বিভাগ ও জেলা থেকে এ বিষয়ে আপত্তি এসেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএএসএ) একটি ডিজিটাল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মন্ত্রিপরিষদসচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও সব বিভাগীয় কমিশনাররা যুক্ত ছিলেন।
ওই বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল বৈঠকে নিজেদের সাংগঠনিক আলোচনার চেয়ে দেশের চলমান অবস্থা নিয়ে মূল আলোচনা হয়েছে। খুলনা ও সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে লকডাউন এলাকা ঘোষণা নিয়ে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তোলা হয়। খুলনার বিভাগীয় কমিশনার বলেন, কোন এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করা হবে তা নিয়ে তাদের আগে থেকে জানানো হচ্ছে না। এতে কাজের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
এ বিষয়ে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. আনোয়ার হাওলাদার গতকাল শনিবার বলেন, ‘যেখানে রোগী বেশি সেখানে ছোট ছোট পদক্ষেপে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আমরা সেভাবে এগোচ্ছি।’
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, তাঁর বিভাগে এখনো এলাকাভিত্তিক লকডাউনের জন্য জোনিং হয়নি। তাঁরা স্থানীয়ভাবে এ বিষয়ে আলোচনা করছেন। এলাকা চিহ্নিত হলে তা অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে পাঠাবেন।
সীমিত পরিসরে সব কিছু খোলার পর গত ১ জুন তিন মন্ত্রী এবং ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের চার সিটি মেয়রসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। সেখানে সারা দেশ লকডাউন না করে এলাকাভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ২০ দিন ধরে কাজ চলছে। এর মধ্যে কেবল রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে পরীক্ষামূলক লকডাউন চলছে। এর বাইরে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কক্সবাজারসহ কিছু জেলার কয়েকটি এলাকায় লকডাউনের কার্যক্রম চলছে।
তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের সর্বগ্রাসী বিস্তার রোধে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জোনভিত্তিক লকডাউনে যাওয়া উচিত। না হয় বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতে পারে।
তবে এখনো সারা দেশে ‘রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন’ এলাকা চিহ্নিত করার জন্য ম্যাপিং পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। কেন্দ্রীয়ভাবে পুরো দেশের ম্যাপিং শেষ করতে আরো কয়েক দিন লাগবে। ‘রেড জোন’ চিহ্নিত করে লকডাউনের ধীরগতির জন্য এটাও একটা কারণ বলে সূত্রটি জানায়।
 

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!