Saturday , 26 September 2020
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » দেশগ্রাম » সততার আরেক নাম সজিব, ফিরিয়ে দিলেন ৬১ লাখ টাকা

সততার আরেক নাম সজিব, ফিরিয়ে দিলেন ৬১ লাখ টাকা

অনলাইন ডেস্ক:
চক্রের মধ্যে পড়েও সততার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের অটোরিকশা চালক সজিব। দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা নিজের হাতে ৬১ লক্ষ টাকা রেখেও পরে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে পুলিশের মাধ্যমে তা প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেন এই যুবক। এ জন্য বিকাশ এবং জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুর শহরে জোড় পুকুর এলাকা থেকে বিকাশের অনেক টাকা নিয়ে অটোরিকশার একচালক চলে গেছে। এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। দুপুর গড়িয়ে বেলা শেষে চালক মো. সজিব তার ভগ্নিপতি পুরানবাজারের ঘাটশ্রমিক আবুল কাশেমকে নিজের কাছে এই টাকা থাকার কথা জানায়। এ সময় সে নিজেই টাকাগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সহযোগিতা নেয় বাদল নামে একজনের।গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় এই বাদল সদর মডেল থানার ওসি মো. নাসিমউদ্দিনকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। পরে পুরানবাজারের একটি গ্যারেজ থেকে ৬১ লক্ষ টাকার লালব্যাগটি উদ্ধার করেন থানার ওসি। এ সময় জিজ্ঞাবাসাদের জন্য সজিবকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশের কাছে সজিব স্বীকার করেন, মালিক খুঁজে না পাওয়ায় এই টাকা নিজের কাছে রেখেছিলেন।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মোটা অঙ্কের এই টাকা নিয়ে কি করবে। এমন দুঃশ্চিন্তায় পড়েন অটোরিকশা চালক মো. সজিব। পরে তার কয়েক বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শ করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে দুটি চক্রের কবলেও পড়ে যায় যুবকটি। কিন্তু অবস্থা বেগতিক দেখে চক্রগুলো তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। পরে আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতা নিয়ে টাকাগুলো ফিরিয়ে দেবার পথ খুঁজে নেয় মো. সজিব।
এর আগে গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় শহরের পৌরসভা কার্যালয়ের পাশে ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে বিকাশ এজেন্টের একজন কর্মী ৬১ লক্ষ টাকা তোলেন। পরে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা নিয়ে শহরের জোড় পুকুরপাড়ে যান তিনি। এ সময় ভুল করে টাকাভর্তি লাল রঙের ব্যাগটি অটোরিকশায় রেখে নেমে যান মাসুদ নামে এই বিকাশকর্মী। তারপরও টাকাসহ ঘটনাস্থলে কিছু সময় অপেক্ষা করে সেখান থেকে চলে যায় অটোচালক।
এই ঘটনার পর বিকাশের স্থানীয় এজেন্ট আলমগীর আলম জুয়েলসহ ওই কর্মী সদর মডেল থানায় ছুটে যান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেখানে থাকা সিসিক্যামেরার ফুটেজ দেখে শহরের বিভিন্নস্থানে থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান শুরু করে।
অভিযানের একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টায় সেই ৬১ লক্ষ টাকার সন্ধান পায় পুলিশ। পরে শহরের পুরানবাজারের একটি গ্যারেজ থেকে টাকাসহ মো. সজিব নামে অটোরিকশা চালককে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরানবাজারে ঘাটশ্রমিক দেলোয়ার সর্দারের ৪ সন্তানের মধ্যে মো. সজিব দ্বিতীয়। সেখানে কবরস্থান সড়কে তাদের বাসা। মাত্র পঞ্চমশ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে এই যুবক। এরপর থেকে অটোরিকশা চালিয়ে আয়ের পথ খুঁজে নেন তিনি।
এই বিষয়ে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান জানান, চক্রের মধ্যে পড়ে অনেকেই বিপদগামী হয়। কিন্তু সেই পথে পা বাড়াননি ছেলেটি। ফলে লোভ লালসার উর্ধ্বে উঠে এতোগুলো টাকা ফিরিয়ে দিয়ে অনন্য নজির গড়েছে মো. সজিব নামে এই যুবক।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, চাঁদপুর শহরে অসংখ্য সিসিক্যামেরা রয়েছে। যেগুলোর কারণে এই শহরে অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে, সেই প্রতিকূল পরিবেশ এখন আর সেই। তাই সজিবের সঙ্গে অন্য কেউ যোগ হলেও সেই সুযোগ ছিল না।
পুলিশ সুপার জানান, এমন পরিস্থিতিতে লোভ সামলিয়ে ছেলেটি সততার পথে ফিরে আসায় আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা এবং বিকাশের পক্ষ থেকে আরো ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। এই দিয়ে সে যেন একটি অটোরিকশা ক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে এই যুবকটি।
এদিকে, মো. সজিবের বাসায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকেও খাদ্য সামগ্রী ও ফল পাঠানো হয়েছে। এই জন্য আজ সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাল আল মাহমুদ জামান, কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে এসব পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
পুরস্কৃত করার এ খবরে সজিবকে নিয়ে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে পক্ষ-বিপক্ষে মন্তব্যের ঝড় বইছে।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!