Friday , 25 September 2020
Home » দৈনিক সকালবেলা » রাজধানী » টাকার লোভে বন্ধুর লাশ ৩ খণ্ড করার রোমহর্ষক বর্ণনা দিলো রূপম

টাকার লোভে বন্ধুর লাশ ৩ খণ্ড করার রোমহর্ষক বর্ণনা দিলো রূপম

অনলাইন ডেস্ক:

রাজধানীর দক্ষিণখানের মোল্লারটেকে চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনের (২৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনের কাছে অনেক টাকা-পয়সা আছে এই লোভে পরিকল্পিতভাবে তাকে খুন করেন পূর্ব-পরিচিত চার্লস রূপম সরকার।
গতকাল রবিবার (২১ জুন) দিনগত রাতে রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা চার্লস রূপম সরকারকে গ্রেফতার করে ডিবি। এসময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো বটি, ছুরি, ডিস এন্টেনা তার ও নগদ সাত হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে রূপম পুলিশের কাছে হেলালকে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন। মূলত টাকার জন্যই স্ত্রী মনি সরকারের সহায়তায় হেলালকে খুন করেন রূপম। সোমবার (২২ জুন) ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ডিবি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল বাতেন।
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, পূর্বপরিচিত ভিকটিম হেলালের কাছে অনেক টাকা আছে ভেবে টাকা আত্মসাৎ করার জন্যই সে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়। হত্যাকাণ্ডের দিন দুপুরে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কল করে ফটোস্ট্যাট মেশিন কিনতে যাওয়ার কথা বলে রূপম সরকার তার বাসায় আসতে বলেন ভিকটিমকে। বাসায় আসার পর চার্লস রূপম সরকার এবং তার স্ত্রী মনি সরকার ভিকটিম হেলালকে চা পান করতে দেন। চা তৈরির সময় রূপম সরকার চায়ের মধ্যে ঘুমের দুটি ওষুধ গুঁড়ো করে মিশিয়ে দেন। চা পানের একপর্যায়ে ভিকটিম হেলাল ঘুমিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ডিশ অ্যান্টেনার তার ভিকটিমের গলায় পেঁচিয়ে স্বামী-স্ত্রী দুই দিক থেকে টেনে ভিকটিম হেলালের মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ভিকটিমকে হত্যার পর তার বিকাশ এবং নগদ অ্যাকাউন্টে রক্ষিত টাকা থেকে ৪৩ হাজার টাকা উঠিয়ে নেন তারা। তার স্ত্রী মনি সরকারকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে পাঠিয়ে দেন শাশুড়ি রাশেদার কাছে। আর রূপম হেলালের মরদেহটি বাথরুমে নিয়ে প্রথমে ধারালো ছুরি দিয়ে টুকরো টুকরো করেন। পরে রাতেই শপিংব্যাগে করে খণ্ডিত মাথাটি রেখে দেন ভূঁইয়া কবরস্থান সংলগ্ন ডোবার ডাস্টবিনের মধ্যে। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টায় রূপম সরকার লাশের বাকি অংশ বস্তায় ভরে অটোরিকশায় করে উত্তরার বিভিন্ন জায়গায় ফেলে রেখে আসেন।
এর আগে রবিবার (২১ জুন) গাবতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে চার্লস রূপম সরকারকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের বিমানবন্দর জোনাল টিম। এসময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো বঁটি, ছুরি, ডিস অ্যান্টেনার তার ও নগদ সাত হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
ডিবির মুখপাত্র বলেন, গত ১৫ জুন উত্তরার দক্ষিণখান এবং বিমানবন্দর থানা এলাকায় এক অজ্ঞাত যুবকের খণ্ডিত দেহের কোমর থেকে পায়ের অংশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ফিঙ্গার ইম্প্রেশনের মাধ্যমে যুবকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে সিসিটিভির ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুজন নারীকে শনাক্ত করে গোয়েন্দা পুলিশ। গত ১৭ জুন দক্ষিণখান থানা এলাকা থেকে শনাক্তকৃত নারী রাশেদা আক্তার এবং মনি সরকারকে গ্রেফতার করে বিমানবন্দর জোনাল টিম। গ্রেফতারদের দেয়া তথ্য মতে দক্ষিণখানের জামগড়া এলাকার একটি ডোবা সংলগ্ন ডাস্টবিন থেকে ভিকটিমের খণ্ডিত মস্তক উদ্ধার করা হয়।
পরে এই নারীদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করার পাশাপাশি মূল আসামি চার্লস রূপম সরকার কখন, কোথায়, কীভাবে ভিকটিমকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় গুম করে রেখেছিল তা বিস্তারিতভাবে জানা যায়। হত্যাকাণ্ডের পর লুট করা টাকার অংশবিশেষ নিয়ে আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করছিল রূপম।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!