Tuesday , 29 September 2020
Home » অর্থনীতি » বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিকদের দুর্দিন

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিকদের দুর্দিন

অনলাইন ডেস্ক:
দীর্ঘ দুই মাস বন্ধ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি। বেতন ভাতাও বন্ধ শ্রমিকদের। বেতনের ৬৫ শতাংশ দেওয়ার কথা থাকলেও দিচ্ছে না ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এতে বিপাকে পড়েছে কয়লাখনির শ্রমিকরা। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দুর্দিন পার করছে তারা।
কয়লা খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি বলেন, গত ২৬ মার্চ থেকে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। সেই ঘোষণায় খনির ১১৪৭ জন শ্রমিককেও বাড়িতে চলে যেতে হয়। ইতিমধ্যে এপ্রিল ও মে দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে। জুন মাসও শেষ হওয়ার পথে। কিন্তু শ্রমিকদের সাধারণ ছুটিকালে শতকরা ৬৫ ভাগ বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও সরকারের প্রজ্ঞাপন কার্যকর করেনি বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। যে কারণে শ্রমিকেরা চরম দুর্দিন কাটাচ্ছে, মানবেতর জীবন যাপন করছে শ্রমিকরা।
রবির মতো মো. হযরত আলী, মো. জিয়াউর রহমান, মাহমুদ আলম ও আব্দুস সামাদ এরা সবাই হামিদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। সবাই শ্রমিক বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিএমসি এক্সএমসি জেএসএমই এর অধীনে কর্মরত। তারা বলেন, শ্রমিকদেরও জীবন এমনিতে বড় কষ্টের। আমরা যে বেতন ভাতা পাই তা দিয়ে সংসার চলে না, মাস পার হয় না। এর ওপর করোনাকালে বেতন ভাতা না পেয়ে চরম দুর্দিন যাচ্ছে সবার।
শ্রমিক আব্দুস সামাদ বলেন, আমরা সবাই বিবাহিত। ঘরে সবার ছেলে মেয়ে, মা বাবা আছে। গত দুই মাসে আমরা বেতন ভাতা পাইনি, সে কারণে আমাদের করুণ অবস্থা না দেখলে বোঝা যাবে না। সামাদ আরও বলেন, গত ১ জুন থেকে আমরা প্রতিদিন সকাল ৮টায় খনি গেটে আসি। বিকেল ৪টায় ঘরে ফিরে যাই। এখানে আমাদের হাজিরা নেওয়া হচ্ছে না। কাজে যোগদান করানোও হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কামরুজ্জামান জানান,  এসব শ্রমিক তো বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির নিয়োজিত নয়। তারা চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিএমসি এক্সএমসি জেএসএমই এর এর অধীনে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োজিত শ্রমিক। চুক্তিতে আছে ‘নো ওয়ার্ক নো পে’। তবে শ্রমিকেরা যেহেতু আমাদের দেশের, আমাদের সন্তান তাই আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে রাজি করিয়েছি। তারা অর্ধেক বেতন পরিশোধ করতে রাজি হয়েছে। বাকি অর্ধেক বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কম্পানি কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করবে।
তিনি আরো বলেন, আগামী ৩/৪ দিনের মধ্যে, সর্বোচ্চ ১ জুলাই থেকে শ্রমিকেরা কাজে যোগদান করতে পারবে। তবে সব শ্রমিককে খনিতে প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যারা করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত খনির অভ্যন্তরে থাকবেন কেবলমাত্র তারাই যোগদান করতে পারবেন। আর করোনা পরিস্থিতি উন্নত হলে পুনরায় সব শ্রমিক খনিতে যোগদান করতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!