Saturday , 6 March 2021
Home » অর্থনীতি » রপ্তানি ৩ মাস বন্ধ থাকায় বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা

রপ্তানি ৩ মাস বন্ধ থাকায় বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক:
দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারতের সঙ্গে আড়াই মাস ধরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকার পর গত ৭ জুন এপথে ভারতীয় পণ্যের আমদানি বাণিজ্য শুরু হলেও করোনাভাইরাসের নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে প্রায় তিন মাস ভারতীয়রা বাংলাদেশের সাথে রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ রেখেছে। রপ্তানি বন্ধ থাকায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে দফায় দফায় বৈঠক করা হলেও সচল হয়নি বাণিজ্য। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা চলছে, শিগগিরই রপ্তানি বাণিজ্য চালু হবে। স্বাভাবিক সময়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় শ থেকে ২ শ ট্রাক পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের বড় বাজার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ভারত। দেশে স্থলপথে যে রপ্তানি বাণিজ্য হয় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় তার ৭০ শতাংশ হয়ে থাকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। প্রতিবছর এ বন্দর দিয়ে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ৯ হাজার মেট্রিকটন পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় ২২ মার্চ থেকে স্থলপথে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুই পারে বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় পণ্য নিয়ে আটকা পড়ে কয়েক হাজার ট্রাক। ভারতে লকডাউন শিথিলে দফায় দফায় বৈঠকের পর করোনা সংক্রমণরোধের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে গত ৭ জুন ভারতীয় পণ্যের আমদানি বাণিজ্য শুরু হলেও বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাণিজ্য এখনো বন্ধ রয়েছে। রপ্তানি চালুর বিষয়ে ব্যবসায়ী মহল স্থানীয় ভাবে কয়েক দফা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতীয়রা এই মুহূর্তে রপ্তানি পণ্য নিতে চাইছেন না। ভারতের সাথে তিন মাস ধরে রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ বেনাপোল বন্দরে। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকার। দফায় দফায় বৈঠক করা হলেও সচল হয়নি বাণিজ্য। এতে উৎপাদিত পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্ম হারিয়ে বাড়ছে বেকারত্ব।
ব্যবসায়ীর বলছেন, দেশীয় পণ্য রপ্তানির বড় বাজার প্রতিবেশী দেশ ভারত। রপ্তানি বন্ধ থাকায় তাদের লোকসানের পাল্লা দিন দিন ভারি হচ্ছে। যেহেতু এপথে আমদানি শুরু হয়েছে, তাই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হলে রপ্তানি বাণিজ্যও শুরু হবে। রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধিতে যেমন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে তেমনি সরকারের বিপুলপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হয়ে থাকে।
রপ্তানি পণ্য পরিবহনকারী ট্রাকচালকরা বলছেন, করোনার কারণে রপ্তানি বন্ধ থাকায় ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় এখানে কয়েক শ পণ্যবাহী ট্রাক আটকে আছে। রপ্তানি বাণিজ্য সচল হবে এমন প্রত্যাশায় তারা বন্দরে তিন মাস ধরে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু ভারত পণ্য নিচ্ছে না। এতে তাদের খাওয়া-দাওয়া ও থাকাসহ নানান ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, স্থানীয়ভাবে রপ্তানি বাণিজ্য সচলের বিষয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। তারা বিভিন্ন সময়ে আমাদের আশ্বস্ত করেছে। তবে কবে কখন রপ্তানি পণ্য নিয়ে ট্রাক ভারতীয় বন্দরে প্রবেশ করবে তার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নেই।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, তিন মাস এপথে রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে। স্থানীয় ভাবে বৈঠকে চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সফলতা আসছে না। যেহেতু আমদানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে, তাই উভয় দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনা না করলে রপ্তানি বাণিজ্য চালু করা সম্ভব হবে না।
ইন্দো-বাংলা চেম্বার অব কমার্স সাবকমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, এ বছর ১০ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি বাণিজ্য হওয়ার কথা। কিন্তু করোনায় তা থমকে দাঁড়িয়েছে। রপ্তানি বাণিজ্য সচলের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে। করোনার মধ্যে বাণিজ্য সচল নিয়ে তারা একটি এসওপি পাঠিয়েছে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, যে প্রক্রিয়ায় আমদানি শুরু হয়েছে, একই প্রক্রিয়ায় যেন রপ্তানি শুরু হয় সে বিষয়ে ভারতীয় বন্দর কর্তৃপক্ষকে আমরা বলেছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে রপ্তানি চালু করতে কোনো অসুবিধা দেখছি না। রপ্তানি বাণিজ্য সচলের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই আমদানির মতো রপ্তানি বাণিজ্যও চালু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় শ থেকে ২ শ ট্রাক পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে ওভেন গার্মেন্ট, নিট গামেন্ট, নিট ফেব্রিকস, চিংড়ি মাছ, অন্যান্য মাছ, কাঁচা পাট, পাটজাত দ্রব্য (পাটের ব্যাগ, পাটের সূতা), বসুন্ধরা টিস্যু, সুপারি, ধানের কুড়া, কর্টন র‌্যাগস (বর্জ্য কাপড়) ফ্লোট গাস, ব্যাটারি, জিংক পেট, সিরামিক টাইলস, সাবান, হাড়ের গুঁড়া, কাঁচা চামড়া, সম্পূর্ণ প্রস্তুত চামড়া, ওষুধ, কেমিক্যাল পণ্য, সবজি, ফল, চা, পেট্রোলিয়াম বাই প্রডাক্ট, হস্তশিল্পজাত পণ্য, সিমেন্ট ইত্যাদি।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*