Sunday , 27 September 2020
Home » দৈনিক সকালবেলা » পাচঁফোড়ন » সাজা হলে এমপি পদ হারাতে পারেন পাপুল

সাজা হলে এমপি পদ হারাতে পারেন পাপুল

অনলাইন ডেস্ক:
সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুল কুয়েতে গ্রেপ্তার হয়েছেন—এমন কোনো তথ্য সংসদের কাছে নেই। ফলে এই মুহূর্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তবে মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে কুয়েতের আদালতে তাঁর সাজা হলে  এমপি পদ হারাতে পারেন পাপুল।
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর-লক্ষ্মীপুর সদরের আংশিক) আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৭ জুন গ্রেপ্তার করে কুয়েত ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। তাঁর বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। তিনি একজন সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কুয়েতে গিয়ে বর্তমানে সেখানকার একটি কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এরই মধ্যে কুয়েত কর্তৃপক্ষ সে দেশে এ সংসদ সদস্যের ব্যাংক হিসাবে থাকা ১৩৮ কোটি টাকা জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে।
যদিও এখন পর্যন্ত কুয়েত সরকার বাংলাদেশকে পাপুলের বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারের পরপরই বাংলাদেশ দূতাবাস তাঁর বিষয়ে জানতে চেয়েছিল।
সংসদ অধিবেশন চলাকালে কোনো সংসদ সদস্য গ্রেপ্তার হলে সাধারণত সেটা সংসদকে অবহিত করেন স্পিকার। অধিবেশন না থাকলে সংসদ থেকে চিঠি দিয়ে সংসদ সদস্যদের জানানো হয়। কিন্তু গত ১৮ দিনে চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনাটি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশিত হলেও এখনো সংসদকে জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘এখনো কেউই তাঁর (এমপি পাপুল) গ্রেপ্তার বা আটকের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। আমরা গণমাধ্যমের খবরে বিষয়টি জেনেছি। আর গণমাধ্যমের খবর দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে তা সংসদ সদস্যদের অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।’
কার্যপ্রণালি বিধির ১৭২ ধারা অনুযায়ী, ‘কোনো সংসদ সদস্য ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলে কিংবা কোনো আদালত কর্তৃক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে বা কোনো নির্বাহী আদেশক্রমে আটক হলে গ্রেপ্তারকারী বা দণ্ডদানকারী বা আটককারী কর্তৃপক্ষ বা জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে স্পিকারকে জানাবেন। এরপর ১৭৬ বিধি অনুযায়ী স্পিকার যত দ্রুত সম্ভব সংসদ অধিবেশন থাকলে সংসদে তা পাঠ করবেন, কিংবা সংসদ অধিবেশন না চললে সদস্যদের অবগতির জন্য তা প্রচার করার নির্দেশ দেবেন।’
স্পিকার বলেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ—সেটাই তো আমরা জানি না। আগে জাতীয় সংসদকে বিষয়টি জানতে হবে। যদি তিনি সেখানে সাজাপ্রাপ্ত হন, সেটাও আনুষ্ঠানিকভাবে জানলে তারপর বিবেচনা করতে হবে। কেউ আটক, গ্রেপ্তার বা সাজাপ্রাপ্ত হলেই সংসদ সদস্য পদ চলে যাবে, এমন কোনো বিষয় নেই।’
সংবিধান অনুযায়ী, একজনের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে, ‘কোনো উপযুক্ত আদালত যদি তাকে অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘোষণা করেন; তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর যদি দায় থেকে অব্যাহতি লাভ না করেন; তিনি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন; তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন; তিনি যদি প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন; সংসদের অনুমতি ছাড়া তিনি যদি একটানা নব্বই দিন বৈঠকে অনুপস্থিত থাকেন।’ এ ছাড়া সংবিধানের বহুল আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদের আলোকে যদি তাঁর দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন তাহলে একজনের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলোচিত সংসদ সদস্য পাপুলের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি দেশের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে তিনি যদি কুয়েতের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত হন এবং যদি ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে দুই বছরের বেশি সাজা হয়, তাহলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে। এ জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জাতীয় সংসদকে কুয়েত আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তাই নানা মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও কুয়েত সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় আছে সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, শহিদ ইসলাম পাপুল সরকারি দলের সংসদ সদস্য নন। তিনি একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। ফলে তাঁর কর্মকাণ্ডে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলেও দলীয়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। আর সরকার ও সংসদ থেকে ব্যবস্থা নিতে হলেও অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আগে পেতে হবে। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!