Wednesday , 30 September 2020
Home » দৈনিক সকালবেলা » পাচঁফোড়ন » সিলেট এখন বিবেচিত হচ্ছে করোনার ‘ডেড জোন’ হিসেবে

সিলেট এখন বিবেচিত হচ্ছে করোনার ‘ডেড জোন’ হিসেবে

অনলাইন ডেস্ক:
সারা দেশের মধ্যে সিলেট এখন বিবেচিত হচ্ছে করোনার ‘ডেড জোন’ হিসেবে।সারা দেশে করোনায় মৃত্যুহারের তুলনায় সিলেট জেলায় তা দ্বিগুণের চেয়েও বেশি। দেশে করোনা শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার ১.৩৫ শতাংশ। আর সিলেটে এই হার ২.৯৪ শতাংশ, যা গড় মৃত্যুর চেয়ে ১.৫৯ শতাংশ বেশি।
এদিকে সিলেট বিভাগে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত হিসাবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। গত বৃহস্পতিবার(২৫মার্চ)সকাল পর্যন্ত এই বিভাগে এক হাজার ২৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আগের দিন বুধবার শনাক্ত হয় ৭৭ জন। বিভাগে এ পর্যন্ত ২৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তাদের মধ্যে ২০ জনই সিলেট জেলার। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো ১৫৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় থেকে গতকাল ঢাকায় প্রেরিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সিলেটে ৬৭৯, সুনামগঞ্জে ২১৯, হবিগঞ্জে ১৯৪ ও মৌলভীবাজারের ১৪৪ জন রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আক্রান্ত ১৫৮ জনের মধ্যে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪৮ জন, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৪ জন, হবিগঞ্জের হাসপাতালে ২৯ জন ও মৌলভীবাজারে ৭ জন।
সিলেট জেলায় প্রতিদিনই করোনা শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এখানে প্রথম করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয় গত ৫ এপ্রিল। তিনি ছিলেন সিলেট ওসমানী হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। আক্রান্ত হওয়ার ১৩ দিনের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর এক মাস পর মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে সিলেটে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। এরই মধ্যে চিকিৎসক, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। বিভাগীয় ও জেলা শহর, উপজেলা সদর ও পৌর এলাকা ছাড়াও প্রত্যন্ত গ্রামেও এখন করোনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সিলেট বিভাগের চার জেলায় গত ১০ মে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৭৯। এক সপ্তাহ পর ১৭ মে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৪০০। পরের সপ্তাহে গত ২৪ মে সংখ্যাটি ৬৩৭-এ উন্নীত হয়। আর সর্বশেষ গতকাল সকাল পর্যন্ত এই সংখ্যা এক হাজার ২৩৬।
বিভাগের চার জেলার মধ্যে সিলেটে আশঙ্কাজনক হারে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অন্য তিন জেলার মোট আক্রান্তের চেয়েও বেশি আক্রান্ত এই জেলায়। প্রায় প্রতিদিনই আগের দিনের তুলনায় শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৯ এপ্রিল সিলেট জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৫। ১১ দিন পর গত ১০ মে এই সংখ্যা ৮৬, ১৭ মে ১৪১, ২৪ মে ২৯৪, ২৮ মে ৪৩০ এবং সর্বশেষ ৩ জুন ৬৭৯তে গিয়ে দাঁড়ায়। গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের অন্য তিন জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫৭। আর শুধু সিলেট জেলায়ই আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭৯।
সিলেট জেলায় এ পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট আক্রান্তের ২.৯৪ শতাংশ। এটি দেশের গড় মৃত্যুহারের চেয়ে বেশি। গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৭ হাজার ৫৬৩। এর মধ্যে মারা গেছে ৭৮১ জন। সে হিসাবে দেশে শনাক্ত হওয়ার তুলনায় মৃত্যুহার ১.৬৫ শতাংশ। এ অবস্থায় সিলেট জেলা ইতিমধ্যে সারা দেশের মধ্যে করোনার ‘ডেড জোন’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে সিলেটে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসা সংশ্লিষ্টসহ নাগরিক সমাজের নেতারা। তাঁদের মতে, সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে না মানার কারণেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ অবস্থায় সিলেটকে রেড জোনের আওতায় নিয়ে কড়াকড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি মনে করি, সিলেট এখন করোনার জন্য রেড জোন। এমন সময় লকডাউন তুলে দেওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ। মানুষের মাঝে এখনো সচেতনতা সৃষ্টি হয়নি। অনেক লেখাপড়া জানা মানুষও নানা ধরনের কুসংস্কারে বিশ্বাস করে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলেছেন। তাঁদের কোনোভাবে ঘরে আটকে রাখা যাচ্ছে না। তাই সিলেটকে আবারও লকডাউন করা প্রয়োজন।’
সিলেটে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ার কারণ সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে। সচেতনতার অভাবও রয়েছে। ঈদ সামনে রেখে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই বিপণিবিতানগুলোতে গেছে মানুষ; যার জন্য আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এখনো সচেতন না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।’

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!