Tuesday , 22 September 2020
Home » অর্থনীতি » বগুড়ায় বন্যায় প্রাণিখাদ্যের সংকট, চরম বিপাকে মানুষ

বগুড়ায় বন্যায় প্রাণিখাদ্যের সংকট, চরম বিপাকে মানুষ

অনলাইন ডেস্ক:
উজানের ঢলে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বন্যায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার মানুষ গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। প্রাণিখাদ্যের সংকটের কারণে একদিকে যেমন গরু-মহিষ ও ছাগলকে চাহিদা অনুযায়ী খাবার দেওয়া যাচ্ছে না, অপরদিকে শুকনো জায়গার অভাবে নিরাপদ স্থানে রাখার জায়গা হচ্ছে না।
জানা গেছে, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে তীরবর্তী সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের প্রায় এক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্রায় ৪ হাজার চারণভূমি প্লাবিত হয়েছে। এতে গবাদিপশুর অন্যতম প্রধান খাদ্য ঘাসের যোগান বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে যারা কোরবানির জন্য গরু-মহিষ ও ছাগল লালন পালন করেছেন তারা পড়েছেন চরম বিপাকে।
কোরবানির পশুগুলোর খাবার সংগ্রহের জন্য কৃষক এবং খামার মালিকদের মধ্যে রীতিমতো হাহাকার পড়ে গেছে। কোরবানির পশুগুলো নিয়ে কৃষক এবং খামার মালিকরা অন্ধকার দেখতে শুরু করেছেন। নিয়মিত খাবার দিতে না পারায় এরই মধ্যে গরু-ছাগলগুলোর ওজন কমতে শুরু করেছে। এভাবে চললে সেগুলোকে হাটে তুলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাদুর্গত তিন উপজেলায় ৪২ হাজার ৭২৩টি গরু, ২৮ হাজার ৫৮৭টি ছাগল, ৪ হাজার ৭৬৬টি ভেড়া এবং ১ হাজার ৪৫টি মহিষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবেচেয়ে বেশি ৪০ হাজার গরু, ২৭ হাজার ছাগল, ৪ হাজার ভেড়া এবং ১ হাজার মহিষ পানিবন্দি হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলায়।
সারিয়াকান্দি উপজেলার চরপাড়ার একজন জানান, চরের কোথাও শুকনো জায়গা নেই। ক্ষুধার্ত মহিষগুলোকে খাওয়ানোর মতো ঘাসও নেই। তাই বাধ্য হয়ে তিনি মহিষগুলোকে নিয়ে খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন। কিন্ত যেসব মাঠে ফসল আছে সেখানে জমির মালিকরা মহিষ নিয়ে ভিড়তে দিচ্ছেন না। ফলে সবখানে মহিষগুলো খাবারও পাচ্ছে না।
ধুনট উপজেলার বৈশাখী চরের আরও একজন জানান, বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় ৫টি গরু নিয়ে তিনি রাস্তার ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। ঘাস আর খড়ের অভাবে গরুগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী খাওয়াতে পারছেন না।
বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, চাহিদা অনুযায়ী খাবার দিতে না পারলে গবাদিপশুগুলোর ওজন কমে যাবে। কোরবানির পশুগুলোর ওজন কমলে কৃষক ও খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে এই সংকট মোকাবেলায় খামার মালিকদের বিকল্প পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রাণিখাদ্যের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

About Sakal Bela

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*